নারায়ণগঞ্জে আলোচিত মেধাবী শিক্ষার্থী ত্বকী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ইয়ার মোহাম্মদ ওরফে পারভেজ (৫০) নামের আরও এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১১। সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাতে শহরের চাষাঢ়া থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত পারভেজ নারায়ণগঞ্জ সদরের আলী হোসেনের ছেলে।
মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে র্যাব-১১ এর মিডিয়া কর্মকর্তা এএসপি সনদ বড়ুয়া সাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে র্যাব জানায়, শুরুতে ত্বকী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা তদন্ত করলেও উচ্চ আদালতের নির্দেশে র্যাব-১১ এর তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ত্বকী হত্যা মামলায় সম্পৃক্ততা থাকা সাপেক্ষে পারভেজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরবর্তীতে মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) আদালতে হাজির করা হলে আদালত আসামিকে হাজতে প্রেরণ করেন।
ত্বকী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত থাকায় গত ৮ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া থেকে সাফায়েত হোসেন শিপন ও কালীরবাজার এলাকা থেকে মামুন মিয়া এবং ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার ধানমন্ডি থেকে কাজল হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। পরে ১১ সেপ্টেম্বর ঢাকার মিরপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয় মামলার আরেক আসামি আজমেরী ওসমানের সাবেক গাড়ি চালক জামশেদ শেখকে।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৬ মার্চ নারায়ণগঞ্জ শহরের শায়েস্তা খান রোডের বাসা থেকে বেরিয়ে স্থানীয় সুধীজন পাঠাগারে যাওয়ার পথে নিখোঁজ হয় এবিসি ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের শিক্ষার্থী তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী (১৭) । পরে ৮ মার্চ শীতলক্ষ্যা নদীর কুমুদিনী খাল থেকে ত্বকীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ত্বকীর মরদেহ উদ্ধারের পর ত্বকীর বাবা রফিউর রাব্বি বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। পরে ওই বছরের ১৮ই মার্চ ত্বকী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শামীম ওসমান, তার ছেলে অয়ন ওসমান, জেলা যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা জহিরুল ইসলাম পারভেজ ওরফে ক্যাঙারু পারভেজ, জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি রাজীব দাস, সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সুজন, সালেহ রহমান সীমান্ত ও রিফাত বিন ওসমানসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৮-১০ জনের বিরুদ্ধে পুলিশ সুপারের কাছে সম্পূরক অভিযোগপত্র জমা দেন ত্বকীর বাবা। পরে রফিউর রাব্বির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের নির্দেশে ওই বছরের ২০ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মামলাটি র্যাবের কাছে হস্তান্তর করে।