বিরাট কোহলি আর গৌতম গম্ভীরের মাঝে ক্রিকেট মাঠে ঝামেলার খবর সবার জানা। আইপিএলে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। এখন গৌতম গম্ভীর ভারতের জাতীয় দলের কোচ। তার অধীনে খেলে থাকেন বিরাট কোহলি। তাই বিবাদের কোনো সুযোগই নেই। ভারতীয় ক্রিকেটের দুই সময়ের দুই তারকাকে এবার মুখোমুখি দেখা গেল একটি আলোচনা অনুষ্ঠানে।
আলোচনার শুরুতেই টেবিলে রাখা একটি ল্যাপটপে ২০১১ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালের টুকরো দৃশ্য দেখছিলেন কোহলি ও গম্ভীর। বীরেন্দ্র শেবাগ ও শচীন টেন্ডুলকারের উইকেট পড়ার পরে দলকে টেনেছিলেন এই দুজন। গম্ভীর তখন ভারতীয় দলের প্রতিষ্ঠিত ক্রিকেটার। কোহলি একেবারেই নতুন। সেই ম্যাচের দৃশ্য দেখতে দেখতে গম্ভীর বলেন, ‘আমার মাথায় খালি একটাই কথা ঘুরছিল। শেষ পর্যন্ত খেলতে হবে। আউট হওয়া যাবে না। অন্যকিছু ভাবছিলাম না। তবে তুমি সেই ম্যাচে খুব গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেছিলে। তোমার ইনিংস আমাকে খুব সাহায্য করেছিল।’
গম্ভীরের কথা শুনে কোহলি বলেন, ‘আমি যখন মাঠে প্রবেশ করি, তখন মনে হচ্ছিল এটা মাঠ নয়, শ্মশান! পুরো গ্যালারি নীরব। আমার মনে আছে তুমি এসে বলেছিলে, “জুটি গড়তে হবে”। আমরা সেই চেষ্টাই করেছিলাম। একটা করে বাউন্ডারি হচ্ছিল আর গ্যালারিতে গর্জন ফিরে আসছিল। তোমার ওই ইনিংস আমি ভুলব না।’
ভারতের কোচ গম্ভীর তুলে ধরেন কোহলির ২০১৪-১৫ সালের অস্ট্রেলিয়া সফরের কথা। সেই সফর কোহলিকে প্রতিষ্ঠা দিয়েছিল। অ্যাডিলেডে প্রথম টেস্টে ১১৫, মেলবোর্নে তৃতীয় টেস্টে ১৬৯ ও ৫৪, সিডনিতে চতুর্থ টেস্টে ১৪৭ ও ৪৬ রান করেছিলেন কোহলি। সেই সিরিজের কথা মনে করিয়ে গম্ভীর বলেন, ‘আমার মনে আছে তোমার অস্ট্রেলিয়া সফরের কথা। তুমি রানের পর রান করছিলে। তোমার মধ্যে একটা অদ্ভুত আত্মবিশ্বাস দেখেছিলাম।’
এই প্রসঙ্গে নিজের নিউজিল্যান্ড সফরের কথাও টেনে এনেছেন গম্ভীর। নেপিয়ারে তিনি ৪৩৬ বলে ১৩৭ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। সেই ইনিংস নিয়ে গম্ভীর বলেন, ‘নেপিয়ারে ঠিক তোমার মতো ঘটনা ঘটেছিল আমার সঙ্গে। ওখানে আমি যেভাবে খেলেছিলাম সেভাবে আর কোনোদিন খেলিনি। ওই মানসিকতা নিয়ে ব্যাট করার অনুভূতি আমার আছে। তাই আমি বুঝতে পারি যে অস্ট্রেলিয়া সফরে তোমার মানসিক অবস্থা কেমন ছিল।’
খেলোয়াড় হিসাবে গম্ভীর ও কোহলি অনেকটা একই রকমের চরিত্র। দুজনেই ভীষণ আগ্রাসী। তাই বারবার মাঠে প্রতিপক্ষ ক্রিকেটারদের সঙ্গে দুজনেই বিবাদে জড়িয়েছেন। সেই প্রসঙ্গ টেনে কোহলি বলেন, ‘যখন তুমি ব্যাট করতে, তখন প্রতিপক্ষ ক্রিকেটারদের সঙ্গে কথা বলতে দেখতাম। কখনও একটু উত্তেজিত ভঙ্গিতেও কথা হতো। এতে তোমার উপর কোনো প্রভাব পড়ত? মনঃসংযোগে সমস্যা হতো? না কি জেদ বেড়ে যেত?’
গম্ভীর এই প্রশ্নের জবাব না দিয়ে কোহলিকে পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘আমার চেয়ে মাঠের ঝগড়া তুমিই বেশি করেছ। তাই আমার মনে হয় তুমি এই প্রশ্নের জবাব ভালো দিতে পারবে।’ কোহলি জবাবে বলেন, ‘আসলে আমি এমন কাউকে চাইছিলাম, যে আমার হ্যাঁ-তে হ্যাঁ মেলাক। আমি বলছি না মাঠে মেজাজ হারানো খারাপ বিষয়। আসলে আমি চাইছিলাম যে কেউ বলুক, “হ্যাঁ, তুমি ঠিক করেছ। মাঠে আগ্রাসন দেখানো উচিত”।’
গম্ভীর ও কোহলি মাঠে আগ্রাসন নিয়ে কথা বলবেন আর আইপিএলের কথা উঠবে না, তা কি হয়। ২০১৩ থেকে ২০২৩। দীর্ঘ ১০ বছরে বেশ কয়েকবার মাঠে সংঘাত হয়েছে তাদের। তবে ২০১৩ সালে কলকাতা নাইট রাইডার্সের অধিনায়ক গম্ভীর ও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর অধিনায়ক কোহলির বিবাদ ব্যাপক আলোচিত হয়েছিল। ২০২৩ সালে লখনউ সুপার জায়ান্টসের মেন্টর গম্ভীর ও কোহলির মধ্যেও বিবাদ হয়।
এই ঝগড়া-বিবাদ নিয়ে দুজনেই বলেছেন, মাঠের উত্তেজনা থেকেই তাদের কথা কাটাকাটি হয়েছিল। কিন্তু সেই রাগ কেউই মনে পুষে রাখেননি। গত মৌসুমে কলকাতার মেন্টর গম্ভীরের সঙ্গে মাঠে হাসিমুখে গল্প করতে দেখা গেছিল কোহলিকে। সেই কথা আরও একবার মনে করিয়েছেন কোহলি। তিনি বলেন, ‘সেই ঘটনার পর অনেক দিন পেরিয়ে গেছে। লোকজন অনেক বাড়িয়ে বলেছিল। আমরা দুজনেই তা ভুলে গেছি।’ গম্ভীরকেও কোহলির কথায় সায় দিতে দেখা যায়।