দেশে স্বাস্থ্যখাতের দীর্ঘদিনের চ্যালেঞ্জগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে সমাধানের লক্ষ্যে গঠন হলো নতুন ফোরাম ‘সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ’। চিকিৎসকদের নেতৃত্বে বিভিন্ন পেশাজীবীদের নিয়ে গঠিত ১৭ সদস্যের এই ফোরামের আহ্বায়ক ডা. কাজী সাইফউদ্দীন বেননূর ও সদস্য সচিব ডা. শামীম হায়দার তালুকদার। তবে ফোরামটি সদস্য অন্তর্ভূক্ত করতে আগ্রহ প্রকাশকারীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।
আজ বুধবার বিকেলে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘নতুন অভিযাত্রায় বাংলাদেশের স্বাস্থ্য সংস্কার ভাবনা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এই ফোরাম ঘোষণা করেন ডা. শামীম হায়দার তালুকদার।
অনুষ্ঠানে সংগঠনের আত্মপ্রকাশের উদ্দেশে তুলে ধরে বলা হয়, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের পরবর্তী অনিশ্চিত শাসনব্যবস্থায়, যুব ক্ষমতায়ন এবং সামাজিক-রাজনৈতিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা সবচেয়ে বেশি অনুভূত হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে, বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতের দীর্ঘদিনের চ্যালেঞ্জগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে সমাধান করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে। ছাত্র-জনতার বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মূলমন্ত্রে অনুপ্রাণিত হয়ে, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা সংস্কারের লক্ষ্যে সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ ফোরাম গঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে আরও বলা হয়, এই ফোরাম নাগরিক সম্পৃক্ততা এবং জবাবদিহিতার শক্তিকে কাজে লাগিয়ে একটি দীর্ঘমেয়াদী, টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য কাজ করছে। বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ, যেমন- মানসম্মত সেবার অভাব, গ্রামীণ ও শহুরে অঞ্চলের বৈষম্য, বেসরকারি স্বাস্থ্য খাতের যথাযথ ব্যবস্থাপনা, অসংক্রামক রোগের (এনসিডি) ক্রমবর্ধমান চাপ, এবং স্বাস্থ্যখাতে পর্যাপ্ত অর্থায়নের অভাব, এসবের আলোচনা এবং যৌক্তিক সমাধান প্রদানে কমিটি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ফোরামের সদস্যরা হলেন ডা. সাখাওয়াৎ হোসেন সায়ন্থ, ডা. মো. আব্দুস শাকুর খান, ডা. শরফুল ইসলাম খান (ববি), ড. এম এ রাজ্জাক, ড. জহিরুল ইসলাম, ড. সৈয়দ মো. বকিবিল্লা টুটুল, ড. শাহিন আক্তার, ড. এম মনির হোসেন, ড. গোলাম মোহিউদ্দিন খান সাদি, ড. এস এম খালিদ মাহমুদ সাকিল, ড. আব্দুল আলিম, ড. জিয়া হায়দার, ড. তৌফিক জোয়ার্দার ও ড. আহমদ এহসানূর রহমান।
অনুষ্ঠানে ফোরামের চারটি উদ্দেশ্য তুলে ধরা হয়। উদ্দেশ্য হলো- ১. স্বাস্থ্য বিষয়ক জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনার মাধ্যমে যৌথ বক্তব্য প্রদান। ২. স্বাস্থ্য বিষয়ক রাজনৈতিক বিতর্ক সমূহ নিরসনের লক্ষ্যে সঠিক ও গ্রহণযোগ্য সমাধান প্রস্তাব। ৩. বৈষম্যহীন স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যার যার ক্ষেত্র থেকে বিভিন্ন কাজের মাধ্যমের মানুষকে সচেতন করা। ৪. সাধারণ নাগরিকদের পক্ষ হয়ে তাদের বিভিন্ন স্বাস্থ্যবিষয়ক বিভিন্ন মতামত রাষ্ট্রের পরিচালকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া।
ফোরামের আহ্বায়ক ডা. কাজী সাইফউদ্দীন বেননুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান রহমান, অবস্ট্রেটিক্যাল অ্যান্ড গাইনোকোলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশের (ওজিএসবি) সভাপতি অধ্যাপক ডা. ফারহানা দেওয়ান প্রমুখ।