ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

চোর সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা, যা বললেন তোফাজ্জলের চাচা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফজলুল হক মুসলিম হলে চোর সন্দেহে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার তোফাজ্জল (৩২) নামে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। তোফাজ্জেল মানসিক ভারসাম্য হওয়ায় বেশ কয়েকবছর ধরেই ভবঘুরের মতো বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়াতো। বাবা-মাহীন তোফাজ্জলের এমন মৃতুর খবরে তার গ্রামের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।

নিহত তোফাজ্জল পাথরঘাটা উপজেলার কাঠালতলী ইউনিয়নের তালুকের চরদুয়ানী গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে এবং কাঠালতলী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। প্রায় ১০ বছর আগে তোফাজ্জলের বাবা মারা যায়। এর দুই বছর পর মা এবং ৭ বছর পর একমাত্র বড় ভাই মারা যান। এর পর থেকেই পরিবার ও অভিভাবকহীন হয়ে রাস্তায় রাস্তাায় ঘুরতেন তোফাজ্জল। তোফাজ্জলের এমন মৃত্যুর খবর শুনে উপজেলায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তোফাজ্জল বরিশাল বিএম কলেজ থেকে বাংলা বিষয় অনার্স মাস্টার্স শেষ করে বঙ্গবন্ধু ল কলেজে অধ্যায়নরত ছিলেন। এ অবস্থায়ই মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন।

তোফাজ্জলের চাচা ফজলুর রহমান জানান, তোফাজ্জলের বাবা আব্দুর রহমান প্রায় ১০ বছর আগে মারা যায়, এর তিন বছর পরে মারা যায় তার মা। এরপর থেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন সে। বড় ভাই নাসিরের আশ্রয়ে থাকতে শুরু করেন। ভাইও দুই বছর আগে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। এরপরেই অভিভাবক শূন্য হয়ে পড়ে সে। বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাফেরা করেই কেটে যেত তার। ভাই মারা যাওয়ার কিছুদিন পরে একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাকে মারধর করেন বাজারের লোকজন। এরপরেই তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন। তোফাজ্জল মানসিক ভারসাম্যহীন হলেও কাউকে মারধর বা কিছুই করত না। সে শুধু পরিচিত লোকজনের সঙ্গে দেখা হলেই বিশ টাকা, ৫০ টাকা বা ১০০ টাকা চেয়ে নিত। কোনো কিছুতেই এর বেশি তার চাহিদা ছিল না। পাথরঘাটার এক লোক তাকে আশ্রয় দিয়ে চিকিৎসাও করেছিলেন। সেখানে থেকে কিছুটা সুস্থ হয়েছিল সে। এরপরে শুনেছি ঢাকায় চলে গেছে। ঢাকায় যে চুরির অপবাদ দেওয়া হয়েছে এটা মানার মত না, আমি কখনোই তাকে চুরি করতে দেখি নাই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে চুরি অপবাদ দেওয়া হয়েছে এটার কোনো সত্যতা পাইনি। প্রশাসনের মাধ্যমে বিষয়টি তদন্ত করে অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।

এদিকে তোফাজ্জলের চাচাতো ভাই ফারুক হোসেন বলেন, আমরা বৃহস্পতিবার সকালে শুনেছি তোফাজ্জলকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এখন ঢাকা মেডিকেলে ময়নাতদন্তের জন্য নেওয়া হয়েছে। চাচাতো ভাই শাহাদাত হোসেন থানার আনুষ্ঠানিকতা শেষে তার লাশ নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। মরদেহ আনার পর জানাজা শেষে বাবা মায়ের পাশে দাফন দেওয়া হবে।

পাথরঘাটা থানার ওসি মো. আল মামুন বলেন, আমাকে ঢাকা থেকে ফোন দিয়ে জানিয়েছে একজন মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চোর সন্দেহে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে। এরপর আমি নাম-ঠিকানা যাচাই করে জানতে পরেছি তার বাড়ি কাঠালতীল এলাকার তালুক চরদুয়ানী গ্রামে। সে মানসিক ভারসাম্যহীন ছিল। তার পরিবারকে সংবাদ দিয়েছি। তারা ঢাকাতে যোগাযোগ করেছেন, সেখান থেকে তারা লাশ নিয়ে আসবেন। লাশের আইনি প্রক্রিয়া সেখান থেকেই শেষ করে পাঠাবেন তারা।