বিতর্কিত রূপু ফের আবাহনীর ম্যানেজার

রাজনৈতিক পালাবদলের সুযোগে এক মৌসুম পর আবার ঐতিহ্যবাহী ঢাকা আবাহনীর ফুটবল দলের ম্যানেজার পদ বাগিয়ে নিলেন আলোচিত ও বিতর্কিত সত্যজিৎ দাস রুপু। জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ককে গত বুধবার আবাহনীর ফুটবল কমিটির সভায় ম্যানেজারের দায়িত্বে ফেরানোর সিদ্ধান্ত হয়। এর আগে এবারের মৌসুমে কোচ হিসেবে মারুফুল হককে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ক্লাবটি। 

গত বছরের অক্টোবরে রুপুর জায়গায় জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও আবাহনীর দীর্ঘদিনের ট্রেনার নজরুল ইসলামকে ম্যানেজার নিয়োগ দেয় আবাহনী। নজরুলকে না জানিয়েই আবাহনীর হাই কমান্ড নিয়েছে রূপুকে ফেরানোর সিদ্ধান্ত। 

দেশের ফুটবলের কিংবদন্তি ডিফেন্ডার মোনেম মুন্নার মৃত্যুর পর তৎকালীন কর্তাদের ভজিয়ে ফুটবল দলের ম্যানেজারের পদটা নিজের করে নেন ক্যারিয়ারের অল্প সময় আবাহনীতে খেলা রূপু। সেই থেকে দলে নিজের প্রভাব বিস্তার শুরু তার। হাই কমান্ডের বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে তিনি হয়ে ওঠেন সর্বেসর্বা। দল গঠনে স্বজনপ্রীতির গুরুতর অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। শীর্ষ লিগের কোন দলে খেলার যোগ্যতা না থাকা সত্যেও আবাহনীতে বছরের পর বছর নিবন্ধন করিয়েছেন তিনি। ছেলে তন্ময় দাসকে দিয়ে মানহীণ বিদেশী খেলোয়াড় এনে কমিশিন বানিজ্যেরও অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। দলের জার্সি থেকে শুরু করে সব কিছুতেই ছিল রূপুর খবরদারী ও কমিশন বানিজ্য। এছাড়া স্থানীয় খেলোয়াড়দের কাছ থেকে কমিশিন নেওয়া, বাফুফের নির্বাহী সদস্য হয়েও আবাহনীর ডাগআউটে থেকে রেফারিদের উপর অন্যায়ভাবে প্রভাব বিস্তার করা, যোগ্যতা না থাকা সত্যেও কাছের মানুষদের দলের বিভিন্ন দায়িত্বে দীর্ঘদিন রেখে দেওয়ার মত অভিযোগ থাকার পরও ক্লাবের নেতৃত্বে পরিবর্তনের সুযোগে ম্যানেজারের পর ফিরে পেয়েছেন রূপু। 

নতুন করে দায়িত্ব পাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে দেশ রূপান্তরকে রূপু বলেন, ‘পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এ বছর দল করাই চ্যালেঞ্জের ছিল। এর মাঝেও দল গড়া গয়েছে এবং সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তাই ক্লাব কমিটি চেয়েছে আমি যেন দায়িত্ব নেই। আশা করি মারুফকে (কোচ) নিয়ে এ বছর ক্লাবের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবো।’ বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রসঙ্গে দেশ তিনি বলেন, ‘আমি যখনই যে দায়িত্বে ছিলাম সততা ও বস্তুনিষ্ঠতার সঙ্গে পালনের চেষ্টা করেছি। যে বা যারা এমন অভিযোগ তুলেছেন সেটা তাদের বিষয়। আমার অবস্থান সম্পর্কে ক্লাব পরিষ্কারভাবে অবহিত আছে।’

এদিকে গত মৌসুমে ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করা কাজী নজরুল বিষয়টি না জানার কথা বলেছেন দেশ রূপান্তরের কাছে, 'আমাকে এ ব্যাপারে কিছুই জানানো হয়নি। গতকালও ক্লাবের পরিচালক মামুন (শেখ বশির আহমেদ মামুন) ভাইয়ের অফিসে বসে মারুফ ভাইকে চূড়ান্ত করেছি। এখন যদি এমন কিছু আনুষ্ঠানিকভাবে জানতে পারি তখন নিজের সিদ্ধান্ত নিব।'