ম্যানসিটি-ইন্তার ড্র আত্মঘাতী গোলে জয় পিএসজির

চ্যাম্পিয়নস লিগে ঘরের মাঠ ইতিহাদে ইন্তার মিলানের বিপক্ষে মাইলফলকে চোখ ছিল ম্যানচেস্টার সিটি স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ডের। একটি গোল করতে পারলেই (সিটির হয়ে ১০০ গোল হতো, ১০৪ ম্যাচে) রেকর্ডের পাতায় নাম উঠত তার। কিন্তু ইন্তার মিলান ছক এঁকেছিল নরওয়েজিয়ানকে বোতলবন্দি করে রাখার। সেটা সফল হওয়ায় হালান্ডের গোল করা হয়নি। তবে মার্কাস থুরাম, লাউতারো মার্তিনেজরাও পাল্টা জ্বলে উঠতে পারেননি। তাই ম্যানসিটি ও ইন্তারের ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হয়েছে।

হালান্ড ম্যাচ চলাকালে পায়ে বল লাগিয়েছেন মাত্র ১৪ বার, যা দু-দলের শুরুর একাদশে নামা খেলোয়াড়দের মধ্যে সর্বনিম্ন। ২০২৩ চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে খেলেছিল এই দুটি ক্লাবই। সেখানে ১-০ গোলে জিতে শিরোপা নিজেদের করেছিল ম্যানসিটি। তবে এবার প্রিমিয়ার লিগে টানা চার জয়ে শুরু করা সিটিকে ফেভারিট ভাবা হয়েছিল ম্যাচটিতে। তবে সিমোন ইনজাগির দল ইতিহাদে বড় চ্যালেঞ্জই জানিয়েছে গার্দিওলার দলকে। প্রথমার্ধে সিটির গোলমুখে ১০ শট নেয় ইন্তার, যা ২০১৭ সালে মোনাকোর পর ইতিহাদে কোনো অতিথি দলের সর্বোচ্চ। সিটিও আক্রমণ করেছে, তবে সেগুলো গোল পাওয়ার মতো নয়।

ইনজাগি এদিন শুরুর একাদশে চমক রেখেছিলেন। মার্তিনেজকে বদলি হিসেবে নামান ৬৯ মিনিটে। ৬৯ মিনিটেই সিটির ফিল ফোডেন ভালো সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু বল গোলকিপারের সোজাসুজি মেরে দলকে হতাশ করেন। ৭৬ মিনিটে ইন্তারের মেখিতেরিয়েন দারুণ জায়গায় বল পেয়ে সেটি উড়িয়ে মারেন ক্রসবারের ওপর দিয়ে। শেষদিকে ফাঁকায় থাকলেও জার্মান মিডফিল্ডার গুনদোয়ান হেড নেন ইন্তার গোলকিপার ইয়ান সোমার বরাবর।

ম্যাচে ৬০ শতাংশ সময় বল দখলে রেখেছিল ম্যানসিটি। গোলমুখে তারা ২২ শটি নিয়ে ৫টি লক্ষ্যে রাখে, ইন্তারের ১৩ শটের ৪টি ছিল লক্ষ্যে। পেপ গার্দিওলার অধীনে সিটির ঘরের মাঠে খেলা ৪২ ম্যাচের মধ্যে দ্বিতীয়বার গোলহীন থাকল। প্রথমটি ছিল ২০২২ সালে স্পোর্তিংয়ের বিপক্ষে।

সিটি ডিফেন্ডার রুবেন ডিয়াস বলেন, ‘শক্ত প্রতিপক্ষের বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ একটি ম্যাচ ছিল। আমরা জানতাম এমনটি হতে পারে। তারা সেরা দলগুলোর একটি এবং জিতে অভ্যস্ত। তাই জানতাম আমাদের কাজটা সহজ হবে না।’ ড্র করতে পারায় খুশি ইন্তার সেটি বোঝা যায় মিডফিল্ডার হাঁকান কালহাগনুর কথায়। তিনি বলেন, ‘আমাদের পরিকল্পনা ছিল তাদের দেখানো যে এখানে খেলতে আমরা ভয় পাই না।’

ম্যাচে প্রথমার্ধের শেষ দিকে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে মাঠ ছাড়েন সিটির মিডফিল্ডার ডি ব্রুইন। জ্যাক গ্রিলিশের থ্রু পাস ধরতে গিয়ে চোট পান বেলজিয়ান মিডফিল্ডার। ম্যাচ শেষে ডি ব্রুইন এর চোট নিয়ে গার্দিওলা বলেন, ‘আমরা (চোটে) নজর রাখব এবং আগামীকাল আরও বেশি তথ্য পাব। চিকিৎসকরা বলেছিলেন, সে খেলার মতো অবস্থায় নেই। আমি ওকে প্রথমার্ধের বিরতিতেই তুলে নেওয়ার কথা ভেবেছি।’ ম্যানসিটি ইন্তারের বিপক্ষে ২০২৩ চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালের চেয়ে এই ম্যাচটি ভালো খেলেছে বলে মনে করেন গার্দিওলা। ‘গত বছরের ফাইনালের চেয়ে আমরা অনেক ভালো খেলেছি। দলের সবকিছুই ভালো লেগেছে। জিতলে ভালো হতো। তবে এখনো হাতে সাত ম্যাচ আছে। দেখা যাক কী ঘটে।’

লিগ পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ভাগ্যের জোরে জিতেছে পিএসজি। পার্ক দ্য প্রিন্সেসে পিএসজি ১-০ গোলে হারায় জিরোনাকে। ম্যাচের ৯০ মিনিটে জিরোনা গোলকিপার পাওলো গাজানিগা হাত ফসকে বল জালে জড়ায়। মাঠের বাঁ-প্রান্ত দিয়ে বল নিয়ে বক্সে ঢুকে গোলকিপার বরাবর কোনাকোনি শট নেন লেফট ব্যাক নুনো মেন্দেস, সেটিই ঠিকমতো ধরতে পারেননি জিরোনা গোলকিপার। অবশ্য ম্যাচে বল দখল, গোলমুখে শট সবকিছুতে এগিয়ে ছিল স্বাগতিক পিএসজি।

চ্যাম্পিয়নস লিগের গেল মৌসুমের ফাইনালিস্ট ছিল বরুসিয়া ডর্টমুন্ড। এবার লিগ পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে সহজ জয় পেয়েছে জার্মান ক্লাবটি। ডর্টমুন্ড ৩-০ গোলে হারিয়েছে ক্লাব ব্রুগকে। জোড়া গোল করেন জামি গিটেনস। পেনাল্টি থেকে অন্য গোলটি করেন শেরহু গুইরাসি। সবগুলো গোলই হয়েছে দ্বিতীয়ার্ধে।

এ ছাড়া সেল্টিক ৫-১ গোলে সেøাভান ব্রাতিসলাভাকে হারিয়েছে। স্পার্তা প্রাগ ৩-০ গোলের জয় পেয়েছে সাল্জবুর্গের বিপক্ষে। বোলোনা ও শাখতরার দোনেৎস্কের ম্যাচ গোলশূন্য ড্র হয়।

চ্যাম্পিয়নস লিগের বর্তমান ফরম্যাট অনুযায়ী মূল পর্বে খেলছে ৩৬ দল। প্রতিটি দল আটটি করে ম্যাচ খেলবে লিগ পর্বে। পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষ আটে থাকা দল সরাসরি শেষ ষোলোতে যাবে। ৯-২৪ নম্বরে থাকা দল প্লে-অফ খেলবে।