১১ বছর পর একটা কীর্তির পুনরাবৃত্তি প্রায় করেই ফেলেছিলেন হাসান মাহমুদ। ২০১৩ সালে চেন্নাই টেস্টে ভারতের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন জেমস প্যাটিনসন। দক্ষিণ ভারতের এ শহরের স্পিন স্বর্গসুলভ উইকেটে কোনো পেসারের ৫ উইকেট পাওয়ার সেটাই সর্বশেষ কীর্তি। রবীন্দ্র জাদেজাকে এলবিডব্লিউ ঘোষণা করেই দিয়েছিলেন আম্পায়ার রড টাকার, হাসান মাহমুদও ৫ উইকেট পাওয়ার আনন্দে আপিল করতে করতে ধাক্কা দিয়ে জাদেজাকে মাটিতে শুইয়েও দিয়েছিলেন। কিন্তু বাদ সাধল প্রযুক্তি। ডিআরএসের সুবিধা নিলেন জাদেজা, টিভি আম্পায়ার দেখলেন বল প্যাডে লাগার আগে জাদেজার ব্যাটে লেগেছিল। বেঁচে গেলেন জাদেজা, আক্ষেপ বাড়ল বাংলাদেশের। দিনশেষে জাদেজা আর রবীচন্দ্রন অশি^নে ভর করেই ভারত করেছে ৬ উইকেটে ৩৩৯ রান। হাসানের বোলিং ফিগার ১৮-৪-৫৮-৪। আর একটা উইকেট হলে হাসানের অপেক্ষাও ফুরাত, বাংলাদেশের সমর্থকদেরও হৃদয় জুড়াত।
তবে দিনশেষে আর একটা উইকেট না পাওয়ার চেয়ে বেশি বেশি বাউন্ডারি দেওয়ার আক্ষেপই পুড়িয়েছে হাসানকে। সংবাদ সম্মেলনে এসে বললেন, ‘আমরা বাউন্ডারি বেশি দিয়ে দিয়েছি। আমার মনে হয় বাউন্ডারি আরেকটু কম হলে ভালো হতো। আমাদের বোলিংটা আরেকটু গোছানো হতে পারত।’ ভারতের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ শুরুর আগে কথা হচ্ছিল ব্যাটসম্যানদের এসজি বলের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া নিয়ে। অথচ বোলারদের জন্যও তো কাজটা সহজ নয়। দেশে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে খেলা হচ্ছে ডিউক বলে, পাকিস্তান সফরে কোকাবুরা আর ভারতে এসজি। তিনটি বল তিনরকম বৈশিষ্ট্যের। মানিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে হাসান বললেন, ‘আমরা যদিও তিন জায়গায় তিনরকম বল দিয়ে খেলছি তবে বলটাকে সঠিক জায়গায় ফেলার কাজটা একই। আমাদের চেষ্টা থাকে অনুশীলনের সময় সবরকম বলের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার। কোকাবুরা বলের সিমটা এসজি বলের চেয়ে একটু চওড়া, আমরা মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি। অনুশীলনে ভালো বল পাওয়া যায় না, অভ্যস্ত হয়ে যাব অসুবিধা নেই।’
পাকিস্তানে সবশেষ ইনিংসে ছিল ৫ উইকেট। চেন্নাইতে প্রথম দিনে ভারতের ৬ উইকেটের ৪টিই হাসানের। হতে পারত ৫ উইকেটও। নিজের বোলিং পরিকল্পনা নিয়ে এ পেসারের সরল দর্শন, ‘টেস্টে উইকেট পেতে ভালোই লাগে। আমি পাকিস্তানের বিপক্ষে ৫ উইকেট পেয়েছিলাম, এখানেও সেই পারফরম্যান্স ধরে রেখে দলের জন্য অবদান রাখতে চাই। আমার পরিকল্পনা খুব সহজ, সিমটা সোজা রেখে জায়গায় বল ফেলার চেষ্টা করে গেছি। আমি সারাদিন ধরে এটাই করে যেতে পারি। পরিকল্পনাটা কাজে দিয়েছে। সকালের সেশনটায় আমরা দাপট দেখিয়েছি। এরপর এ উইকেটে ব্যাট করা সহজ হয়ে গেছে। বল সুন্দর ব্যাটে আসছিল। তারপরও আমি কিছুটা মুভমেন্ট পেয়েছি। আশা করছি আগামীকাল (আজ) আমরা আরও কিছু সুযোগ তৈরি করতে পারব।’
ভারতকে আরও ৬১ রান করতে দেওয়ার আগেই বাকি ৪টি উইকেট তুলে নেওয়ার আশা করছেন হাসান, ‘সকালে যদি আমরা দ্রুত ব্রেক থ্রু পেয়ে যাই, তাহলে আমরা খেলায় ফিরতে পারব। আমরা তাদের ৪০০ রানের ভেতরে আটকাতে চাই। উইকেট এখন অনেক ভালো হয়ে গেছে। কন্ডিশন অনেকটা পাকিস্তানের মতোই। তবে এটা বোলারেরই দায়িত্ব, আক্রমণাত্মক বোলিং করা আর বাউন্ডারি কম দেওয়া; যখন যেটা দরকার।’
প্রথম দিনে খেলা হয়েছে ৮০ ওভার। সাকিব আল হাসান বোলিংয়ে এসেছেন ৫৩তম ওভারে। মাত্র আট ওভার বল করে দিয়েছেন ৫০ রান। অথচ পাকিস্তান সফরের পর ইংল্যান্ডে গিয়ে সারের হয়ে খেলতে নেমে এক দিনে প্রায় ৩৪ ওভার বল করেছেন সাকিব! নিয়েছেন দুই ইনিংস মিলিয়ে ৯ উইকেট। তাকে এত দেরিতে বল দেওয়া হলো কেন এই প্রশ্নে হাসানের উত্তর, ‘শুরুতে ফাস্ট বোলাররা ভালো করছিল, উইকেট পাচ্ছিল, এজন্যই হয়তো স্পিনাররা একটু দেরিতে বল হাতে নিয়েছে।’
সকালটা ছিল বাংলাদেশের, দুপুর গড়িয়ে বিকেলটা ভারতের। আজকের সকালটা ফের বাংলাদেশের হবে, এমনটাই আশা তরুণ এ পেসারের, ‘সকালে আমরা দারুণ অবস্থানে ছিলাম, তবে উইকেট এখন অনেক ভালো হয়ে গেছে। আমরা বাউন্ডারি কমিয়ে আনার চেষ্টা করছি। ম্যাচের পাল্লা ওদের দিকে ঝুঁকে গেছে, তবে কাল (আজ) ভালো বোলিং করে সেটা আবার আমরা আমাদের দিকে ফিরিয়ে আনতে পারব।’