চেন্নাই টেস্টের দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে অলআউট হয়েছে ১৪৯ রানে। ব্যাটসম্যানদের এমন ব্যাটিং পারফরম্যান্সের পর কেউই সাহস করেননি গণমাধ্যমের সামনে আসতে। দিনের খেলা শেষে দলের প্রতিনিধি হয়ে এসে তাসকিন আহমেদ তাদের ভাগের সমালোচনাটা নিজের কাঁধে নিয়েছেন। পৃথিবীর কোন টেস্ট দলই ৬,৭,৮ নম্বর ব্যাটসম্যানদের উপর রান করার দায়িত্ব চাপিয়ে দেয় না। নবাগতদের ক্রমশ উপরের দিকে ঠেলে দিয়ে অভিজ্ঞরা নিচের দিকে ব্যাট করার অদ্ভুত সংস্কৃতি বাংলাদেশে। রাওয়ালপিন্ডির দুই টেস্টেই রান করেছেন নিচের দিকের অর্থাৎ পাঁচে, সাতে, আটে ব্যাট করা মুশফিক-লিটন-মিরাজরা। চেন্নাইতে ভারত সেই একই দাওয়াই দিয়েছে বাংলাদেশকে। রবিচন্দ্রন অশ্বিন আর রবীন্দ্র জাদেজা মিলে ১৯৯ রানের জুটি গড়েছেন। তবে পারেননি বাংলাদেশের ব্যাটাররা।
তাসকিন আহমেদ এ বিষয়ে বলেন, ‘ব্যাটসম্যান এবং ব্যাটিং কোচ সবাই এটার ব্যপারে (টপ অর্ডারে টানা চার বামহাতি ব্যাটসম্যান, ব্যাটিং ধস) এবং হয়তো এটা নিয়ে কাজও করছে। আসরে সবারই শক্তি এবং দূর্বলতার দিক থাকে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সবারই উন্নতির জায়গা আছে আর দূর্বল জায়গাগুলো কাটিয়ে উঠতে না পারলে ভাল করা সম্ভব নয়। এটা নিয়ে ব্যাটম্যানরা কাজ করছে, যার যেখানে সমস্যা। কারো ভেতরের বলে সমস্যা, কারো বাইরের বলে সমস্যা। দুর্বলতা সবারই আছে, দিনশেষে সবাই সবার জায়গা থেকে উন্নতি করার চেষ্টা করছে’।
চিপকের উইকেট নিয়ে তাসকিন মনে করছেন, এই উইকেটে এখনো পেসারদের জন্য কিছু সাহায্য আছে, ‘আবহাওয়া আর কন্ডিশনটা পেস বোলারদের জন্য কঠিন, বেশ গরম আর চ্যালেঞ্জিংও। আসলে উইকেটে একটু ক্যারি আছে, মুভমেন্ট আছে। ভাল জায়গায় বল করতে পারলে সুযোগ সৃষ্টি করা যায়। আমাদের ফাস্ট বোলাররা ভালো করেছে, ওরাও করেছে। একটা জিনিস প্রমাণ হলো যে পিচে সাহায্য থাকলে আমাদের ফাস্ট বোলাররাও উইকেট নিতে পারে। এই জায়গাতে অনেক উন্নতি হয়েছে। এখন আমরা আরো ভালো হচ্ছি দল হিসেবে, তবে উন্নতির অনেক জায়গা আছে। আমাদের ফাস্ট বোলিংয়েও যে ভালো করা সম্ভব এটা আমরা বারবার প্রমাণ করতে পারছি।’
আকাশদীপ পর পর দুটো বলে যেভাবে জাকির হাসান আর মুমিনুল হককে বোল্ড করলেন, তাতে বোলারকে কৌশল এবং পরিকল্পনার ছাপ। পাকিস্তানে খুররম শেহজাদও একই পদ্ধতিতেই ধসিয়ে দিয়েছিলেন বাংলাদেশের টপ অর্ডার। তাসকিন বলতে চাইলেন, শুরুতে একটা জুটি হলেই অন্যরকম হতে পারত পরিস্থিতি, ‘আমরা প্রথম ১০ ওভারে বেশি উইকেট হারিয়েছি, শুরুতে এত বেশি উইকেট না হারালে আমরা আরো ভাল জায়গায় থাকতে পারতাম।’
কালও পেসার চাইবেন ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে। তবে দিনশেষে ৩০৮ রানে এগিয়ে থাকা ভারতের লিডের অঙ্কটা কততে গিয়ে ঠেকে সেটিই আগামীকাল দেখার বিষয়।