লেবাননে পেজার বিস্ফোরণে উঠে এল এক ভারতীয়র নাম

গত মঙ্গলবার লেবাননের বিভিন্ন স্থানে ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সদস্যদের যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত কয়েক হাজার পেজার (যোগাযোগের তারহীন যন্ত্র) বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনায় দুই শিশুসহ ১২ জন নিহত হয়। আহত হয় প্রায় তিন হাজার।

লেবাননে হাজার হাজার পেজার (তারহীন যোগাযোগযন্ত্র) বিস্ফোরণের ঘটনার তদন্তে এবার এক ভারতীয়র নাম উঠে এসেছে। যার কোম্পানি থেকে পেজারগুলো হিজবুল্লাহর কাছে সরবরাহ করা হয়।

শনিবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নরওয়ের নাগরিক রিনসন জোসের বুলগেরিয়ান কোম্পানি থেকে পেজারগুলো হিজবুল্লাহর কাছে সরবরাহ করা হয়। ৩৭ বছর বয়সী রিনসন ভারতের কেরালার বাসিন্দা ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি নরওয়েতে গিয়ে নাগরিকত্ব পান।

ভারতীয় সংবাদ সংস্থা আইএএনএস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক বছর আগে উচ্চশিক্ষার জন্য নরওয়ে গিয়েছিলেন জোসে। সেখানে যাওয়ার আগে তিনি অল্প সময়ের জন্য লন্ডনেও কাজ করেছিলেন। 

এনডিটিভি জানায়, প্রাথমিক তদন্তে জানা যায় যে, তাইওয়ান-ভিত্তিক কোম্পানি গোল্ড অ্যাপোলো দ্বারা তৈরি ডিভাইসগুলোতে তিন গ্রাম পর্যন্ত বিস্ফোরক লুকিয়ে রাখার মত ব্যবস্থা করে রেখেছিল ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ।  

পড়ে একটি বিবৃতিতে, তাইওয়ানের গোল্ড অ্যাপোলো কোম্পানিটি জানায়, লেবাননে বিস্ফোরিত পেজারগুলোর আসল প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানটি বুদাপেস্টে অবস্থিত বিএসই কনসালটিং কেএফটি দ্বারা তৈরি এবং সেগুলোতে শুধুমাত্র তাদের ট্রেডমার্ক ব্যবহার করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। 

এদিকে পেজারগুলি বিস্ফোরণের দুই দিন পরে বুলগেরিয়ার রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংস্থা (ডিএএনএস) জানিয়েছে যে তাঁরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে পেজার প্রস্তুতকারক কোম্পানিটির ভূমিকা নিয়ে তদন্ত করবে, যেটির মালিক নরওয়ের নাগরিক জিয়ান রিনসন জোসে।

কিন্তু গতকাল শুক্রবার ডিএএনএস জানায়, লেবাননে বিস্ফোরিত পেজারগুলো বুলগেরিয়া থেকে রপ্তানি বা প্রস্তুত করা হয়নি। এদিকে নরওয়ে পুলিশ জানায়, তারাও পেজার বিস্ফোরণের ঘটনায় প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে।  

এদিকে লেবাননে মঙ্গলবার পেজার বিস্ফোরণের ঠিক একদিন পরেই গত বুধবার শত শত ওয়াকিটকি (যোগাযোগের তারহীন যন্ত্র) বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অন্তত ২০ জন নিহত ও ৪৫০ জন আহত হয় দেশটিতে।