জাপানে ‘নজিরবিহীন’ বৃষ্টিতে বন্যা ও ভূমিধস, নিহত ১

জাপানের উত্তরাঞ্চলীয় এলাকা ইশিকাওয়ায় ‘নজিরবিহীন’ বৃষ্টিপাতের কারণে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে একজন নিহত ও সাতজন নিখোঁজ রয়েছেন। এছাড়া, বন্যায় নদীর তীর ভেঙে যাওয়ায় চারটি শহরের ৪০ হাজারেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় শনিবার (২১ সেপ্টেম্বর) জাপানের আবহাওয়া সংস্থা (জেএমএ) ইশিকাওয়া অঞ্চলে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। খবর বিবিসির।

জাপানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এনএইচকে জানিয়েছে, নিখোঁজদের মধ্যে দু’জন নদীর তীব্র স্রোতের কারণে ভেসে গেছে। এদিকে, ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর রাস্তা মেরামতের কাজে নিয়োজিত আরও চার শ্রমিকের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

এনএইচকে জানিয়েছে, শনিবার সকালে ওয়াজিমায় ১২০ মিলিমিটার এরও বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। রেকর্ড শুরু হওয়ার পর থেকে এই অঞ্চলে এটি সবচেয়ে ভারী বৃষ্টিপাত।

জাপানের আবহাওয়া সংস্থার আবহাওয়াবিদ সুগিমোতো সাতোশি সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই অঞ্চলে এই মাত্রার বৃষ্টিপাত আগে কখনো হয়নি। অবিলম্বে বাসিন্দাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। তারা জীবনের ঝুঁকিতে রয়েছে।

এনএইচকে প্রচারিত ফুটেজে ওয়াজিমার একটি রাস্তা পানির নিচে ডুবে যেতে দেখা গেছে। সরকারি কর্মকর্তা কোজি ইয়ামামোতো জানান, শনিবার সকালে ওয়াজিমা শহরে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত একটি সড়ক পুনরুদ্ধারে ৬০ জন কর্মী কাজ করছিলেন। কিন্তু এখনো চারজনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছি না।

উদ্ধারকর্মীরা ‘ভূমিধসের কারণে অবরুদ্ধ’ হয়ে পড়েছেন। এ ঘটনায় আরও দু’জন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন সরকারি কর্মকর্তারা।

বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে, প্রায় ছয় হাজার বাড়ি বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে এবং অজ্ঞাত সংখ্যক পরিবার পানির অভাবে রয়েছে। ওয়াজিমা ও সুজু শহর এবং নোতো শহর প্রায় ৪৪ হাজার বাসিন্দাকে হোনশু দ্বীপের ইশিকাওয়া প্রিফেকচারে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

এদিকে, ইশিকাওয়ার উত্তরে নিইগাতা ও ইয়ামাগাতা অঞ্চলের আরও ১৬ হাজার বাসিন্দাকে সরে যেতে বলা হয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

জাপানের মধ্যাঞ্চলীয় নোতো উপদ্বীপের ওয়াজিমা ও সুজু নববর্ষের দিন ৭ দশমিক ৫ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাপানের কিছু অংশে নজিরবিহীন বৃষ্টিপাত, বন্যা ও ভূমিধসে মাঝেমধ্যে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।