গত ১০ সেপ্টেম্বর ‘আড়িপেতেও অধরা টাইগার আইটি’ এবং পরদিন ‘এক যুগ ধরে টাইগার আইটির নিয়ন্ত্রণে বিআরটিএ’ শীর্ষক দুটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে দেশ রূপান্তরের প্রথম পাতায়। প্রকাশিত সংবাদ দুটির প্রতিবাদ জানিয়েছে টাইগার আইটি বাংলাদেশ লিমিটেড।
প্রতিষ্ঠানটির প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়েছে, টাইগার আইটির বিরুদ্ধে ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) মাধ্যমে অনৈতিকভাবে নাগরিকদের ফোনে আড়িপেতে ব্যক্তিগত তথ্য-উপাত্ত ফাঁস করার যে অভিযোগ তোলা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। এ ছাড়া সাবেক সরকারের প্রভাবশালী ব্যক্তি ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে সুসম্পর্কের কারণে বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক সুবিধা এবং সরকারি কাজ বাগিয়ে নেওয়ার যে অভিযোগ প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে তোলা হয়েছে সেটিও বানোয়াট। এ ধরনের সংবাদ প্রকাশের ফলে টাইগার আইটির সুনাম ক্ষুণœ হয়েছে।
টাইগার আইটি কখনো আড়িপাতা বা নজরদারির যন্ত্রপাতি এনটিএমসি কিংবা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করেনি দাবি করে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ ধরনের যে অভিযোগ তোলা হয়েছে তা কাল্পনিক। টাইগার আইটি এনটিএমসিতে ডেটাবেজ সল্যুশন এবং ডেটার ইন্টারফেস সেবার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্যসংক্রান্ত পরিচালনা, নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি-সংক্রান্ত কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিল না।
এতে আরও বলা হয়, টাইগার আইটি আন্তর্জাতিক কালো তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান নয়। প্রতিদ্বন্দ্বী একটি প্রতিষ্ঠান টাইগার আইটির বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাংকের কাছে দুর্নীতির অভিযোগ দেওয়ার পর সেটি তারা তদন্ত করে বিশ্বব্যাংক দুর্নীতির কোনো প্রমাণ পায়নি। বিশ্বব্যাংকের দরপত্রে অংশ নিতে যে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল তা প্রত্যাহার করতে আন্তর্জাতিক সংস্থাটির সঙ্গে আলোচনা করছে টাইগার আইটি।
দরপত্রে কম দর দিয়েও বিগত সরকারের কয়েকজন মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ ও ষড়যন্ত্রের কারণে টাইগার আইটি ২০১৫ সাল থেকে উল্লেখযোগ্য কোনো প্রকল্পের কাজ পায়নি। ফলে টাইগার আইটির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাবের যে অভিযোগ তোলা হয়েছে তা ভিত্তিহীন।
প্রতিবাদলিপিতে আরও বলা হয়, জিয়াউর রহমান শুধুমাত্র টাইগার আইটির একজন অংশীদার। কিন্তু কোম্পানির পরিচালনার সঙ্গে তিনি সম্পৃক্ত নন। সুতরাং সরকারি প্রকল্পে কাজ পেতে টাইগার আইটির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক যোগসাজশের যে অভিযোগ করা হয়েছে তা সঠিক নয়। অতীতে যেসব প্রকল্পে টাইগার আইটি কাজ করেছে সেখানেও কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করেনি। অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল তারিক আহমেদ সিদ্দিকীর সঙ্গে যে অনৈতিক সম্পর্কের কথা বলা হয়েছে সেটিও মিথ্যা। এ ছাড়া টাইগার আইটির সঙ্গে তুষাকা গ্রুপের শাহনাজ সিদ্দিকী এবং তার কোনো সহযোগীর সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই।
টাইগার আইটির দাবি, তারা এনআইডি এবং ড্রাইভিং লাইসেন্সের ডেটাবেজ পরিচালনায় থাকার সময় ২০১৮ সাল পর্যন্ত এটি সর্বোচ্চ সুরক্ষিত ছিল। এই সময়ে কোনো ধরনের হ্যাকিংয়ের ঘটনা ঘটেনি। টাইগার আইটি এনআইডি প্রকল্পটি অন্যান্য দেশের তুলনায় ৫০ শতাংশ সাশ্রয়ী মূল্যে কাজ শেষ করেছে।