‘কাউকে পেছনে ফেলে রেখে নয়’— এই স্লোগানে ৫৬টি কাজের পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি বিষয় বাস্তবায়নের বিষয়ে একমত হয়েছেন বিশ্বনেতারা। তিনটি বিষয় হলো: শান্তি ও নিরাপত্তা, ডিজিটাল ও প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার, টেকসই উন্নয়ন এবং ভবিষ্যতে জলবায়ুসহ সকল প্রকার ঝুঁকি মোকাবিলায় পর্যাপ্ত অর্থায়ন নিশ্চিত করা। এজন্য তারা একটি চুক্তিও স্বাক্ষর করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় শনিবার ও রবিবার জাতিসংঘের ৭৯ তম সাধারণ অধিবেশনে সামিট অব দ্য ফিউচারে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা শেষে এসব সিদ্ধান্ত হয়। জাতিসংঘের সিনিয়র কর্মকর্তারা আলোচনায় অংশ নিয়ে বলেন, জলবায়ুর পরিবর্তন বিশ্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানুষের অবিবেচক চিন্তা-চেতনার কারণে পৃথিবী বিরূপ জলবায়ু পরিবর্তনের দিকে এগোচ্ছে। এখনই বিশ্ববাসীকে সচেতন না হলে আগামী প্রজন্ম হুমকির মুখে পড়বে।
বিশ্বনেতারা মনে করেন, গত কয়েক বছর ধরে বৈশ্বিক তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে গ্রিন হাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানোর বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্ব দিলেও উন্নত দেশগুলোর কারণে তা আশানুরূপ কমেনি। বিশ্বে বর্তমানে মোট কার্বন নিঃসরণের ৭ ভাগই হয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র থেকে। এভাবে চলতে থাকলে আগামী ২০৫০ সালে তা দ্বিগুণ হওয়ার আশঙ্কা আছে। আশার কথা হচ্ছে, ২০৫০ সালের মধ্যে কুলিং ইকুইপমেন্ট থেকে কার্বন নিঃসরণ কমাতে একযোগে কাজ করতে রাজি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রসহ ৬০টি দেশ। এজন্য গত বছর বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে একটি চুক্তিও স্বাক্ষর করেছে দেশগুলো।
দারিদ্র ক্ষুধা এবং বৈশ্বিক অসমতা দূর করতে বিশ্বকে একযোগে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বিশ্ব নেতারা বলেন, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে না পারলে আগামী প্রজন্ম সুন্দর একটি পৃথিবী গড়তে পারবে না। সুতরাং সমাজে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মানবাধিকারের বিষয়টি অগ্রাধিকার দিতে হবে। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে সহিংসতার পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে জানিয়ে এর পেছনের কারণগুলো খুঁজে বের করার তাগিদও দেন নেতারা।
জেন্ডার সমতা জরুরি জানিয়ে বিশ্বনেতারা বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট অর্জনে নারীদের পেছনে ফেলে পৃথিবী সামনের দিকে এগোবে না। ডিজিটাল পৃথিবী গড়তে তথ্যপ্রযুক্তির ওপর গুরুত্বারোপ করে তারা বলেন, এসডিজি অর্জনে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে নিতে হলে তথ্যপ্রযুক্তির শিক্ষা দিতে হবে। এ জন্য পর্যাপ্ত অর্থায়ন জরুরি।