সবশেষ যখন ভারতের মাটিতে একসঙ্গে খেলেছিলেন দুজনে, তখন (ভারত বিশ^কাপ ২০২৩) সাকিব আল হাসান অধিনায়ক এবং নাজমুল হোসেন শান্ত তার ডেপুটি। শোনা যায় কুখ্যাত টাইম-আউট কান্ডে শান্তই নাকি অধিনায়ক সাকিবকে মন্ত্রণা দিয়েছিলেন টাইমড আউটের আপিল করতে। বাংলাদেশের ক্রিকেটের নানান ঘটনা প্রবাহে শান্ত এখন তিন সংস্করণেই অধিনায়ক। সাকিব তার অধিনায়কত্বে চারটা টেস্ট ম্যাচ খেললেন, কোনোটাতেই বলার মতো কোনো পারফরম্যান্স নেই টেস্টে অলরাউন্ডারদের র্যাংকিংয়ে দুইয়ে থাকা সাকিবের। তার কাছে প্রত্যাশা একটু বেশি কি না, এমন প্রশ্নে শান্তর উত্তর, সাকিব অন্যদের চেয়ে আলাদা কেউ নন।
‘আমি কখনো ব্যক্তিগতভাবে কোনো একজন খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স নিয়ে কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি না, কারণ এটা একটা দলীয় খেলা। কোনো একজন ব্যক্তির পারফরম্যান্সের ওপর খেলার ফল নির্ভর করে না। আমি আসলে ক্যাপ্টেন হিসেবে সত্যি কথা বলতে, সবার মধ্যে যেটা দেখি, এটা শুধু সাকিব ভাই বলে বলছি না, আমি দেখি কে কতটুকু কষ্ট করছে, কামব্যাক করার জন্য যা যা করা দরকার সেই কাজগুলো করছে কি না, দলের প্রতি নিবেদনটা কেমন; এই ব্যাপারগুলো আমি খেয়াল রাখি কিংবা দেখি ওই খেলোয়াড়টা দলকে দেওয়ার জন্য কতটা প্রস্তুত, সে ১০০ শতাংশ কি না। এটা অনেকে ভাবতে পারে যে, সাকিব দেখে আমি এ রকম বলছি, তবে জিনিষটা এ রকম না। সেটা নাহিদ রানা থেকে শুরু করে মুশফিক ভাই পর্যন্ত সবার বেলায় একই জিনিষটাই আমি দেখার চেষ্টা করি। এমন না যে, রান করছে অথবা রান করছে না, এর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমার কাছে মনে হয় যে, তার প্রস্তুতি কেমন বা দলের প্রতি তার চিন্তাভাবনা কেমন, সে দলকে ভালো কিছু দেওয়ার জন্য ওই অনুযায়ী প্রস্তুতি নিচ্ছে কি না, এই জিনিষটা দেখেই আমি হ্যাপি। দলের ১৫-১৬ জন ক্রিকেটার যারা আছেন, সবার ওই প্রস্তুতি এবং দায়বদ্ধতা দেখে আমি খুশি।’
সাকিবের আঙুলে অস্ত্রোপচার হয়েছে, এমন একটা তথ্য ধারাভাষ্যের সময় দিয়েছেন ভারতের সাবেক ক্রিকেটার মুরালি কার্তিক। তামিম ইকবালও তার সঙ্গে যোগ করেছেন যে, এমন কিছু হলে সাকিবের জানান উচিত ছিল। সাকিব স্পিনার হিসেবে চেন্নাইতে শতভাগ ব্যর্থ, উইকেটশূন্য থেকেছেন। ব্যাটিংটাও ভালো হয়নি, চতুর্থ দিন সকালে তাকে দেখা গেছে আঙুলে টেপ প্যাঁচাতে। কী অবস্থা তার আঙুলের, জানিয়েছেন সে সময় অন্যপ্রান্তে ব্যাটিং করা শান্ত, ‘তার আঙুলে টেপ প্যাঁচানো হচ্ছিল কারণ সে সময় তার আঙুল থেকে রক্ত বের হচ্ছিল, তার গ্লাভসে একটা বল লেগেছিল।’ তাইজুল ইসলাম, নাঈম হাসানরা বেঞ্চে বসে আছেন এবং পারফর্ম না করেও সাকিব খেলে যাচ্ছেন, এমন প্রশ্নে শান্ত বলেছেন, ‘সাহসী প্রশ্ন, মাশাআল্লাহ।’ তবে বাংলাদেশের ক্রিকেটের খোঁজখবর যারা রাখেন, তারা ভালো করেই জানেন যে, প্রধান নির্বাচক তাকে অলরাউন্ডার থেকে স্রেফ বোলার হিসেবে খেলানোর সিদ্ধান্ত নিতেও রাজি নন, সেখানে বসিয়ে রাখা তো অনেক দূরের প্রশ্ন।
প্রথম ইনিংসে বল করেছেন ৮ ওভার। উইকেট পাননি, রান দিয়েছেন ৫০। দ্বিতীয় ইনিংসে ১৩ ওভারে সাকিব আল হাসানের খরচ ৭৯ রান। সাদামাটা সাকিব দুই ইনিংসে ২১ ওভার বল করে ৬.১৯ ইকোনমিতে ১২৯ রান দিলেও পাননি কোনো উইকেট। টেস্ট ক্যারিয়ারে এমন অকাতরে আর রান দেননি সাকিব।