নারায়ণগঞ্জ বাস টার্মিনাল নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় টার্মিনাল এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। গতকাল রবিবার দুপুর থেকে শুরু হওয়া কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। সংঘর্ষকালে কয়েক রাউন্ড গুলিও ছোড়া হয়। এ ঘটনায় অন্তত ৮ জনকে আটক করেছে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথবাহিনী। সংঘর্ষে শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাদের মারধর ও অফিস ভাঙচুরের প্রতিবাদে বিকেল থেকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটের সব ধরনের বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে।
জানা যায়, ২০০২ সালে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে বন্ধন পরিবহন চলাচল শুরু করে। তখন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মাহবুব উল্লাহ তপন বন্ধন পরিবহনের চেয়ারম্যান ছিলেন। এরপর আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০১৩ সালে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি জুয়েল হোসেন বন্ধন পরিবহন দখলে নেন। এরপর বন্ধন পরিবহন বিলুপ্ত করে সিটি বন্ধন পরিবহন নামে একই রুটে বাস চালু করেন এবং পরিবহনটির চেয়ারম্যান হন। এতে পরিবহনের এমডি ও কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আইয়ূব আলীর নিয়ন্ত্রণে বন্ধন বাস চলাচল করতে থাকে। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর বিএনপির দুই গ্রুপ পরিবহনটি দখলে নজর দেয়। প্রথম পর্যায়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি কারাবন্দি জাকির খানের সমর্থকরা বাস টার্মিনাল দখলে নেয়। এতে ছয়টি পরিবহনের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে জাকির খানের সমর্থকদের।
এরপর গতকাল রবিবার সকালে বাস টার্মিনালে সিটি বন্ধন পরিবহনের কাউন্টারের পাশে বন্ধন পরিবহন নিয়ন্ত্রণে যান সাবেক চেয়ারম্যান ও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মাহবুব উল্লাহ তপন। মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দল ও অন্যান্য নেতাকর্মী নিয়ে শো-ডাউন করে সিটি বন্ধন পরিবহন কাউন্টার বন্ধ করে দেন। দুপুর ২টার দিকে জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জাকির খানের অনুসারী মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়ার নেতৃত্বে শতাধিক নেতাকর্মী তপনের অনুসারীদের ওপর হামলা করে। এ সময় বন্ধন পরিবহনের কাউন্টারে থাকা বাস মালিক রুহুল আমিনকে মারধর করে হামলাকারীরা। এরপর জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন কার্যালয়ে ভাঙচুর ও নেতাদের মারধরও করেন তারা।
খবর পেয়ে মাহবুব উল্লাহ তপন ও তার ভাগ্নে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন রানার নেতৃত্বে তাদের অনুসারীরা জাকির খানের লোকজনকে ধাওয়া দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। এ সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপে গোটা এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এরপর দুইপক্ষই আহতদের নিয়ে সদর মডেল থানায় অভিযোগ দিতে যায়। থানা থেকে বের হওয়ার পরে আবারও দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় জাকির খানের অনুসারী স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রানার অনুসারীদের লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি নিক্ষেপ করে। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় উভয়পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
হামলায় আহত জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ও মহানগর শ্রমিক দলের সদস্য সচিব ফারুক হোসেন জানান, প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই সিটি বন্ধন পরিবহনের স্থলে বন্ধন পরিবহন নিয়ন্ত্রণে নেয়। এটা বন্ধন পরিবহনের দুই পক্ষের বিষয়। কিন্তু হঠাৎ শ্রমিকদের অফিসে হামলা ভাঙচুর চালায় দুই পক্ষের লোকজন। তিনি আরও জানান, সিটি বন্ধন পরিবহনের নতুন চেয়ারম্যান হয়েছেন লিটন ও এমডি দেলোয়ার হোসেন। অন্যদিকে বিলুপ্ত বন্ধন পরিবহনের চেয়ারম্যান হিসেবে মাহবুব উল্লাহ তপন রয়েছেন।
নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি নজরুল ইসলাম জানান, যৌথ বাহিনীর অভিযান চালিয়ে ৮ জনকে আটক করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। কয়েকজন আহত হওয়ার খবর শুনেছি তবে গুলিবর্ষণের বিষয়টি আমাদের জানা নেই। এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।