সংস্কারের তিন মাসেই সড়ক জুড়ে খানাখন্দ

নেত্রকোণার আটপাড়ায় সংস্কারের তিন মাসের মধ্যেই বেহাল সড়ক। পুরো সড়কজুড়েই তৈরি হয়েছে খানাখন্দ ও ছোট-বড় গর্ত। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকার সাধারণ মানুষ, চালক ও পথচারীরা। এলজিইডি বরাবর একাধিকবার চিঠি দিয়েও প্রতিকার পাচ্ছেন না এলাকাবাসী। 

আটপাড়া এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সুখারী ইউনিয়নের কুলসুরি থেকে বাউসা পর্যন্ত আড়াই কিলোমিটার রাস্তা সংস্কারের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। রাস্তাটি জিওভি মেইনটেনেন্স প্রকল্পের আওতায় ব্যয় ধরা হয় ৮৫ লাখ ৯৬ হাজার টাকা। এ প্রকল্পের কার্যাদেশ পায় নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার হিমালয় কনস্ট্রাকশন নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। এ কাজ ২০২৩ সালের ১১ নভেম্বর শুরু হয়। কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল এ বছরের ১৯ জানুয়ারি। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে শেষ হয়নি। 

জানা গেছে, প্রথমে কাজে ধীরগতির জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে শোকজ করে এলজিইডি কর্তৃপক্ষ। এরপর কাজে গতি বাড়ালেও রাস্তায় ব্যবহৃত বিটুমিন নিম্নমানের ব্যবহারের কারণেও ঠিকাদারকে সতর্ক করে শোকজ করা হয়। সর্বশেষ গত ২ সেপ্টেম্বর রাস্তা সংস্কার কাজে অনিয়ম ও ত্রুটিযুক্ত হওয়ায় ঠিকাদাকে তৃতীয়বার শোকজ করা হয়। 

গত রোববার প্রকল্প এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পুরো রাস্তাজুড়ে বিভিন্ন অংশে খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। ঠিকভাবে যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন চালক ও পথচারীরা।

ইজিবাইক চালক এরশাদ, আলাদিন, আজহারুল বলেন, মাত্র তিন মাসে আগে রাস্তার কাজ হয়েছে। এখন তা দেখে বোঝার উপায় নেই। এর মধ্যেই পুরো সড়ক খারাপ হয়ে গেছে। বিভিন্ন জায়গায় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তার কাজে ব্যাপক অনিয়ম করেছে। ঠিকাদারের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

কুলশ্রী গ্রামের লিটন ও মাহাবুর, বাউসা গ্রামের নাদিম ও সুলাইমান বলেন, রাস্তার কাজে এত অনিয়ম হয়, সেটা কেউ না দেখলে বিশ্বাস করতে পারবেন না। এসব বিষয়ে বলতে গিয়ে ঠিকাদারের রোষাণলেও পড়তে হয়েছে। 

হিমালয় কনস্ট্রাকশনের প্রতিনিধি টিটু মিয়া বলেন, ‘রাস্তার সংস্কারকাজ শেষ করার পর বর্ষার পানিতে ডুবে গিয়েছিল। এজন্য রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা রাস্তার কাজ আবার শুরু করছি।’  

নেত্রকোণা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, ‘রাস্তায় পানি উঠেছিল। ঠিকাদারকে বলেছি, দ্রুত সংস্কার করার জন্য। তাছাড়া কাজে অনিয়ম হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’