নিহত বেড়ে ২৭৪

১৭ বছর পর লেবাননে সবচেয়ে ‘প্রাণঘাতী’ দিন

ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর অবস্থান লক্ষ্য করে লেবাননে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৭৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১ হাজার ২৪ জন। সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে এ তথ্য জানায় মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।

২০০৬ সালের যুদ্ধের পর লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় এটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী দিন। সে বছরের যুদ্ধে ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান, নৌ এবং স্থল অভিযানে লেবাননের বিশাল অংশ ধ্বংস হয়। ওই হামলায় প্রায় ২৫০ হিজবুল্লাহ সদস্যসহ ১১০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হন। অপরদিকে হিজবুল্লাহর রকেট হামলায় ইসরায়েলের ১২১ সৈন্য ও ৪৩ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন।

এরপর থেকে গত ৮ অক্টোবর হিজবুল্লাহ-ইসরায়েল সীমান্ত সংঘাত শুরু হওয়ার মধ্যবর্তী বছরগুলোতে মূলত লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ছিল। বর্তমান সংঘাত দু’দেশের সীমান্তের উভয় পাশে প্রায় ৪ কিলোমিটার (২.৪৯ মাইল) বিস্তৃত হয়েছে।

গত মঙ্গলবার ইসরায়েলের মন্ত্রিসভায় উত্তরাঞ্চলে বাস্তুচ্যুত বাসিন্দাদের প্রত্যাবাসনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পর হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তারপর থেকে হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তুতে তীব্র হামলা শুরু করে ইসরায়েল, যার বেশিরভাগই ঘনবসতিপূর্ণ বেসামরিক এলাকায় ছিল।

ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত ২৭৪ জন নিহত ও ১০২৪ জন আহত হয়েছেন। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহত ও আহতদের মধ্যে নারী, শিশু ও চিকিৎসাকর্মী রয়েছেন। হতাহতদের মধ্যে কতজন বেসামরিক নাগরিক বা হিজবুল্লাহ যোদ্ধা তা স্পষ্ট নয়। তবে ইসরায়েল যেসব স্থানকে হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বর্ণনা করেছে তার বেশিরভাগই আবাসিক এলাকা ও গ্রাম।

যখন ইসরায়েলি বিমান লেবাননের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে আঘাত হানছে বাতাসে ঘন ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যাচ্ছে। এতে লেবাননের বেসামরিক নাগরিকরা গণহারে বাস্তুচ্যুত হচ্ছে, যা ২০০৬ সালের যুদ্ধকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ২০০৬ সালের যুদ্ধের চেয়েও ভয়াবহ সহিংসতার দ্বারপ্রান্তে রয়েছে এ অঞ্চল।