বাছাই উতরে চূড়ান্ত পর্বে যাওয়ার উচ্চাশা ছিল না বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলের কোচ মারুফুল হকের। এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের বাছাইয়ে খেলতে ভিয়েতনাম যাওয়ার আগে নেতিবাচক দিকগুলোই সামনে টেনে এনেছিলেন এই কোচ। সাফ শিরোপা জিতে আসার পরও প্রস্তুতি ঘাটতি, পছন্দের ফুটবলারদের না পাওয়া নিয়ে ক্ষোভ ঝেড়েছিলেন তিনি। তার কথা মাঠেও ফলেছে। সিরিয়ার কাছে ৪-০ গোলে হারার পর সোমবার দুর্বল গুয়ামকেও হারাতে পারেনি বাংলাদেশ। ২-২ ড্রয়ে চূড়ান্ত পর্বে যাওয়ার আশা অনেকটাই মøান হয়ে গেছে তাদের। দুই ম্যাচ শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহে মাত্র ১ পয়েন্ট। বাকি দুই ম্যাচ জিতলে একটা সম্ভাবনা বেঁচে থাকবে তাদের। তবে শেষ দুই ম্যাচে তাদের পরীক্ষা দিতে হবে স্বাগতিক ভিয়েতনাম ও ভুটানের কাছে।
বাছাইয়ের ১০টি গ্রুপ থেকে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন দল ও পাঁচটি সেরা রানার্স-আপ ও আয়োজক ভিয়েতনামকে নিয়ে আগামী বছর হবে আসরের চূড়ান্ত পর্ব। পরপর দুই ম্যাচে জয় বঞ্চিত হওয়ায় সেরা ছয় রানার্স-আপের একটি দলে চূড়ান্ত পর্বে খেলা বাংলাদেশের জন্য ভীষণ কঠিন।
ম্যাচের চতুর্থ মিনিটে এগিয়ে যেতে পারত বাংলাদেশ। তবে দুর্বল ফিনিশে সে যাত্রায় হয়নি। তবে দুই মিনিট পর মিরাজুল ইসলামের গোলে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। ডান দিক থেকে রাজু আহমেদ জিসানের লো-ক্রস চলে আসে মিরাজুলের কাছে। চলন্ত বলে পা ছুঁইয়ে দিক পরিবর্তন করে গোল করেন মিরাজুল।
৭৪ মিনিটে বক্সের ভেতরে অধিনায়ক আশরাফুল হক আসিফের হাতে বল লাগলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি, তা থেকে গুয়ামকে সমতায় ফেরান সুনতারো সুজুকি।
৮৮ মিনিটে বদলি মইনুল ইসলাম সুযোগসন্ধানী গোলে লিড ফিরিয়ে আনেন বাংলাদেশের। নিজেদের মধ্যে বল দেওয়া-নেওয়া করছিলেন গুয়ামের ডিফেন্ডাররা। এর মধ্যেই জ্যাসন ক্যাস্ত্রোর কাছ থেকে বল ছিনিয়ে নিয়ে বক্সে ঢুকে কিপারকে পরাস্ত করা মইনুল আলতো প্লেসিংয়ে গোল করেন।
যোগ করা সময়ের শুরুতেই সেই গোল পরিশোধ করেন গুয়ামের কার্টিস হারমন। গ্যাভিন বেকারের আড়াআড়ি পাসে হারমনের কোনাকুনি চিপ পজিশনে না থাকা বাংলাদেশ কিপার মাহিন ইসলামের মাথার ওপর দিয়ে জালে জড়ায়।
এর একটু পর হাত ছোঁয়া দূরত্ব থেকে হেডে গোলের সুযোগ নষ্ট করে দলের জয়ের নায়ক হতে পারেননি বদলি ফরোয়ার্ড ইফতেশাম রহমান জিদান।
২৭ সেপ্টেম্বর স্বাগতিক ভিয়েতনামের বিপক্ষে তৃতীয় ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। এর দুদিন পর শেষ ম্যাচটি ভুটানের বিপক্ষে।