৬৩.২-৮-১৯৩-৯, ভারতের বিপক্ষে সিরিজের আগে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে সারের হয়ে খেলা একমাত্র ম্যাচটিতে সাকিব আল হাসানের বোলিং ফিগার। এর ঠিক আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে তিনি প্রথম টেস্টে ৪৪ ওভার ও দ্বিতীয় টেস্টে ২৪ ওভার বোলিং করেন। অথচ ভারতের বিপক্ষে চেন্নাইয়ে প্রথম টেস্টে প্রথম ইনিংসে ৮ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ১৩ মোট ২১ ওভার মাত্র বোলিং করেন বাঁহাতি স্পিনার। অথচ সারের হয়ে প্রথম ইনিংসে তিনি বল করেছিলেন টানা ২৮ ওভার। চেন্নাই টেস্ট চলাকালেই শোনা গিয়েছিল সাকিবের আঙুলে ব্যথার কথা। তবে কি সত্যিই চেন্নাই টেস্ট আনফিট হয়ে খেলেছিলেন দেশের ক্রিকেটের পোস্টারবয়। নির্বাচক হান্নান সরকার অবশ্য তা ‘না’ বললেও চোটের বিষয়টি অস্বীকারও করছেন না।
চেন্নাই টেস্ট চলাকালে সাবেক ভারতীয় স্পিনার মুরালি কার্তিক ধারাভাষ্যে সাকিবের সঙ্গে কথা বলার প্রসঙ্গ টেনে বলেছিলেন, ‘তাকে আমি দীর্ঘদিন ধরে চিনি। তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, কী কারণে সে কম বোলিং করছে... সে আমাকে যা বলেছে, তা একজন স্পিনার হিসেবে আমি অনুধাবন করতে পারছি। তার বাঁ হাতের স্পিনিং ফিঙ্গারে একটা অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। সেটি এখন ফুলে গেছে, শক্ত হয়ে আছে। ওই আঙুলে সে বলের অনুভূতিটাও পাচ্ছে না। স্পিনার হিসেবে বলের অনুভূতিটা দরকার। এ ছাড়া তার কাঁধেও অস্বস্তি আছে।’ এ কথা সে সময় মানতে চাননি দলের ব্যাটিং কোচ ডেভিড হেম্প এবং বিসিবির সিনিয়র ম্যানেজার (মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন) রাবিদ ইমাম। তবে গতকাল নির্বাচক হান্নানের দেওয়া বক্তব্য সমর্থন করে মুরালিকে। টিম হোটেলে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপে হান্নান জানান, ‘যে আঙুলটায় অসুবিধা হয়েছিল, সেটা ম্যাচের আগে সে ফিল করতে পারেনি। বোলিং শুরু করার পর ফিল করেছে। সেই আঙুলে আবার বল লেগেছে (ব্যাটিংয়ের সময়)। সেদিক থেকে কিছুটা তো ব্যথা রয়েছে।’ হান্নান সরকার কাল জানিয়েছেন বর্তমানে দেশের সেরা অলরাউন্ডার রয়েছেন ফিজিও বায়েজিদুল ইসলামের নজরদারিতে।
জাতীয় ক্রিকেট দলের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিয়ে এমন ইঁদুর-বিড়াল দৌড় নতুন কিছু নয়। ঘণ্টা-দিন-সপ্তাহ ব্যবধানে বক্তব্য পাল্টে যাওয়ার নজিরও আছে অনেক। একজন খেলোয়াড় চোটগ্রস্ত হতেই পারেন। দলের প্রয়োজনে গ্লাভস কেটে ঝুঁকি নিয়ে এক হাতে ব্যাটিং করেছিলেন তামিম ইকবাল। আঙুলে ব্যথা কিংবা ব্যাটিংয়ের সময় সুতো কামড়ে ধরে ক্রিজে পরে থাকার প্রাণপণ চেষ্টা সাকিব করেছেন। খুব বড় না হলেও ৩২ ও ২৫ রানের দুটো ইনিংস খেলেছেন। ওইটুকু অংশে তার চেষ্টার কদর করা যেতেই পারে। হান্নান সরকার যেমন বলেছেন, ‘সাকিবের আগের ব্যাটিংয়ের তুলনায় এই ম্যাচে তাকে অনেক আত্মবিশ্বাসী মনে হয়েছে। খুব স্বাচ্ছন্দ্যে খেলেছে, চাপ হ্যান্ডেল করেছে। হ্যাঁ, রানটা বড় হয়নি। এটা ঠিক। কিন্তু সাকিব বরাবরই আমাদের দলের ব্যালেন্সের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ।’
প্রশ্ন হলো কদিন আগেই পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করে আসা বাংলাদেশ টেস্ট দল কি সাকিববিহীন অচল! বিগত বছরগুলোতে নিজে থেকেই তো কত টেস্ট খেলেননি তিনি। বাঁহাতি স্পিনে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে দলে রয়েছেন তাইজুল ইসলাম। হান্নান সরকারের ভাষ্যে, ‘আমরা কোন কম্বিনেশনে যাব, কোন ফরমেশনে আমরা টিমটা সাজাব (তা নির্ভর করে) সেখানে (কানপুরের গ্রিনপার্কে) আমরা দেখব উইকেটটা কেমন, আমরা কন্ডিশনটা দেখে তারপরে জাজমেন্টে যাব। সেখানে স্ট্র্যাটেজি পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে আমরা করতেই পারি। আমরা টিম সাজাতে গেলে সাকিবকে যদি আমাদের প্রয়োজন হয় সাকিব খেলবে, আর যদি মনে হয় না এই মুহূর্তে সাকিবকে ছাড়া (খেলব), সেটাও হতে পারে।’
এর পরও সমালোচনা ওঠার একটাই কারণ সাকিব কি ইনজুরি নিয়েই খেলতে নেমেছিলেন! হান্নান সরকার অবশ্য এ প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘আমরা ম্যাচের আগে ফিজিওর ১০০ ভাগ ক্লিয়ারেন্স নিয়েই তাকে দলে রেখেছি। তখন ১০০ ভাগ ফিটই ছিল।’ কানপুর টেস্ট শুরুর আগে বাংলাদেশ আরও চার দিন সময় পাচ্ছে। এর মধ্যে সাকিব সেরে উঠলে বোঝামুক্ত হবে টিম ম্যানেজমেন্ট। যেমনটা হান্নান বলছিলেন, ‘সেকেন্ড টেস্টের আগে সময় আছে, আমাদেরও দেখার সুযোগ রয়েছে। সাকিব এমন একজন প্লেয়ার, সে যদি খেলতে না পারে, যদি মনে করে বোলিং করতে পারবে না, তাহলে কিন্তু ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতে পারে। আর সে যদি মনে করে বোলিং-ব্যাটিং কিছুই করতে পারবে না, তাহলে সিনারিও ভিন্ন। সময় যেহেতু আছে, পরে আমরা দেখেশুনে জাজমেন্টে যাব।’ জাজমেন্ট যেটাই হোক, তথ্য লুকোচুরির এ ইঁদুর-বিড়াল দৌড় শেষ হলেই দেশের ক্রিকেটের জন্য মঙ্গল।