ঈশ্বরগঞ্জে সেচ মোটর চুরির হিড়িক, আতঙ্কে কৃষকরা

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার শস্যভান্ডার খ্যাত অন্যতম একটি এলাকা উচাখিলা ইউনিয়নের চরাঞ্চল। এই চরাঞ্চলের মানুষের প্রধান পেশা কৃষি। তাদের উৎপাদিত ফসল উপজেলার সিংহভাগ জনগোষ্ঠীর চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করা হয়। কিন্তু ভালো নেই চরাঞ্চলের কৃষকেরা। চোর আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত এক সপ্তাহে উচাখিলা ইউনিয়নের আলাদিয়ার আলগী গ্রাম থেকেই চুরি হয়েছে ১০-১২টি বৈদ্যুতিক সেচ মোটর। এছাড়াও গত তিন মাসে ওই ইউনিয়নের আলাদিয়ার আলগী, রফিয়ার আলগী, চর আলগী, হাশের আলগী, নামাপাড়া ও মরিচার চরসহ আশেপাশের কয়েকটি গ্রাম ও পাড়া-মহল্লা থেকে শতাধিক সেচ মোটর চুরি হয়েছে বলে জানানা এলাকাবাসী। এসব বৈদ্যুতিক সেচ মোটর নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ওই ইউনিয়নের ১০ হাজারেরও বেশি কৃষক।

গত তিন সপ্তাহের ব্যবধানে আলাদিয়ার আলগী গ্রামের কৃষকদের মোট ২২টিরও বেশি বৈদ্যুতিক সেচ মোটর চুরি হয়েছে।

ভুক্তভোগী কৃষক ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, যারা পুরাতন মোটর ক্রয়-বিক্রয় করে তাদের কাছে চুরির সাথে জড়িতদের তথ্য থাকতে পারে। এছাড়া বৈদ্যুতিক কাজে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন লোকও এই কাজে জড়িত থাকতে পারে।

আলাদিয়ার আলগী গ্রামের কৃষক মানিক মিয়া বলেন, গত শক্রবার আমার সেচ পাম্পটি চুরি হয়ে যায়। এতে আমার ৪ একর জমিতে সেচ নিয়ে সমস্যায় পড়েছি। দিনদিন সেচ মোটর চুরি বেড়েই চলেছে। আমরা এর প্রতিকার চাই।

একই গ্রামের আরেক কৃষক শফিকুল আলম বলেন, ‘পানি সেচ দেওয়া নিয়ে ভয়ে আছি। মোটর সংযোগ করলেই নিয়ে যাচ্ছে চোর চক্র। গত চার দিন আগে আমাদের একটি মোটর নিয়ে যায় চোর। ওই সেচ পাম্পের আওতায় ৫ একর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এতে কৃষি কাজে ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়েছে।

পার্শবর্তী রফিয়ার আলগী গ্রামের বাসিন্দা আবু সাঈদ বলেন, 'আমার তিনটি মোটর চুরি করে নিয়েছে চোর চক্র। আমাদের বাড়ির আশেপাশের অন্তত আরও ১০ জন কৃষকের মোটর চুরি হয়ে গেছে। এতে কৃষকেরা চরম বেকায়দায় পড়েছেন। আমরা চুরের উপদ্রব থেকে রেহাই পেতে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

এ ব্যাপারে উচাখিলা (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. আনোয়ারুল হাসান খান সেলিম বলেন, ‘আমার ইউনিয়নে মোটর চুরি তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিষয়টি আমি উপজেলা পরিষদের আইনশৃঙ্খলা মিটিং-এ একাধিকবার উত্থাপন করেছি। পুলিশ বেশ কয়েকবার কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে। কিন্তু কিছুতেই সেচ মোটর চুরি থামছে না। মনে হচ্ছে চোর চক্রটি বেশ বড়। 

এদিকে গত মঙ্গলবার উচাখলা ইউনিয়ের বালিহাটা গ্রাম থেকে সেচ মোটর চোর ইয়ামিন ও উপজেলার সোহাগী ইউনিয়নের বৃ-কাঠালিয়া গ্রামের কমিউনিটি ক্লিনিকের সিলিং ফ্যান চুরি করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়ে। বুধবার দুপরে পুলিশ তাদের আদালতে পাঠায়।

ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, ‘চুরির ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের রিমান্ড চেয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। রিমান্ড মঞ্জুর হলে মামলার তদন্তের স্বার্থে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে চোর চক্র বের করা হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট গ্রামগুলোতে এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে কৃষকদের সচেতন করতে বিট পুলিশিং সভা করা হবে।