সার্চ কমিটি থেকে বুলবুলকে অব্যাহতি

ক্রীড়া ফেডারেশন, অ্যাসোসিয়েশনের সংস্কারের উদ্যোগের লক্ষ্যে ক্রীড়া মন্ত্রণালয় গঠন করেছিল পাঁচ সদস্যের সার্চ কমিটি। যে কমিটিতে কাজী মহিউদ্দিন আহমেদ বুলবুলের নাম দেখে উঠেছিল সমালোচনার ঝড়। একটি রাজনৈতিক দলের সক্রিয় কর্মী তিনি। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি সরকারের ক্ষমতায় থাকাকালে বিভিন্ন ক্রীড়া ফেডারেশনসহ জেলা ও বিভাগীয়ক ক্রীড়া সংস্থায় ছড়ি ঘুড়িয়েছেন। হাসিনা সরকার পতনের পর থেকে সেই দলের ব্যানারেই সোচ্চার ছিলেন ফেডারেশনগুলোতে পরিবর্তন আনতে। এর মধ্যেই তাকে রেখে ঘোষণা করা হয় সার্চ কমিটির নাম। তবে বুলবুল পারেননি দলীয় বলয় থেকে বের হয়ে নিরপেক্ষ হতে। তাই সার্চ কমিটিতে আর জায়গা থাকল না আলোচিত এই ক্রীড়া সংগঠকের। বিব্রত সরকার তাকে সার্চ কমিটির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে গত বৃহস্পতিবার।

ফেডারেশন, অ্যাসোসিয়েশন, বোর্ড ও সংস্থাগুলোর কার্যক্রম নিয়ে সংস্কার প্রস্তাব দিতে ২৯ আগস্ট গঠন করা হয় সার্চ কমিটি। বলা হয় দুই মাসের মধ্যে সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় সংস্কার প্রস্তাব উপস্থাপন করতে। এই কমিটি সক্রিয়ভাবেই কাজ করছিল। যার কিছু কিছু ফল দৃশ্যমানও হচ্ছিল। তবে এর মধ্যেই বুলবুল বারবার রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব ভুলে ব্যস্ত হয়ে পড়েন দলীয় শো-ডাউনে। জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির বেশ কজন নেতার সঙ্গে নিয়মিতই বিভিন্ন স্থানে সভা-সমাবেশে অংশ নেন। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি ফারুক আহমেদের সঙ্গে সাবেক বেশ কজন পরিচালককে সঙ্গে নিয়ে তিনি বৈঠকে বসেন। সবচেয়ে বেশি সমালোচিত হন ১৫ সেপ্টেম্বর রাজধানীর এক পাঁচ তারকা হোটেলে আসন্ন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের নির্বাচনকে সামনে রেখে এক প্রার্থীর প্রার্থিতা ঘোষণার অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে। সেদিন আলোচিত সংগঠক তরফদার রুহুল আমিন বিএনপির ক্রীড়া সম্পাদক আমিনুল হক, সাবেক ছাত্রনেতা খায়রুল কবির খোকনসহ বেশ কজন দলীয় নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে বাফুফের সভাপতি পদে নির্বাচন করার ঘোষণা দেন। আমিনুলদের সঙ্গে ছিলেন মহিউদ্দিন বুলবুলও। এই ঘটনার পরদিনই বুলবুলের কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি দেয় ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়- ‘আপনার এরূপ আচরণ অনভিপ্রেত ও আপনার এরূপ আচরণে সার্চ কমিটি তথা সরকারের ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। আপনার এহেন আচরণে সরকার বিব্রত।’ এমতাবস্থায় চিঠিপ্রাপ্তির তিন দিনের মধ্যে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের কাছে ব্যাখ্যা প্রদান করতে বলা হয়।

তবে তার ব্যাখ্যা মনঃপূত না হওয়ায় বৃহস্পতিবার সার্চ কমিটির কর্মকা-কে প্রশ্নের ঊর্ধ্বে রাখতে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব জগদীশ চন্দ্র দেবনাথ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে বুলবুলকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

বুলবুলের বিদায়ের ফলে এখন সার্চ কমিটি পরিচালনা করবেন বাকি চারজন সদস্য- আহ্বায়ক ও সাবেক ব্যাডমিন্টন তারকা জোবায়েদুর রহমান রানা, তিন সদস্য সাবেক হকি খেলোয়াড় ও সংগঠক মেজর (অব.) ইমরোজ আহমেদ, প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার, ক্রীড়া সাংবাদিক মন্টু কায়ছার। বুলবুলের জায়গায় আর কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হবে কি না সেটা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত জানা যায়নি।