কানফাটানো কানপুরে অন্যরকম সকাল

দ্বাদশ শতকে, রাজপুত ক্ষত্রিয়দের একটি গোত্র কানপুরিয়া রাজবংশের রাজা কানহাদেও প্রতিষ্ঠা করেছিলেন কানপুর নগরের। ব্রিটিশ ভারতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাটি ছিল কানপুর। ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের অন্যতম কেন্দ্র ছিল এই কানপুর, বিদ্রোহী সিপাহিরা প্রায় ২০০ জনের মত ব্রিটিশ নারী ও শিশুদের বন্দী করে পরে হত্যা করে এখানে। যার বদলা ব্রিটিশরাও নিয়েছে নির্মম ভাবে। সিপাহিদের দমন করার যুদ্ধে তাদের রণহুংকারও ছিল 'রিমেম্বার কানপুর'।

সেই সব দিন এখন অতীত। কানপুর এখন বাংলাদেশের খুলনা বা নরসিংদীর মত শিল্প-কারখানার শহর। ভারত বর্ষে প্রথম উলের কারখানা,ব্রিটিশ ইন্ডিয়া কর্পোরেশন এর  রেড ট্যামারিন্ড ব্র্যান্ডের উলের সূতো তৈরির কারখানা এখানেই। স্টেডিয়ামে আসার পথে চোখে পড়ে সেই সাবেকি স্থাপনা, যা এখন পরিত্যাক্ত। সামনের ঘরে  পাহারাদারকে ঝিমাতে দেখি, কিন্তু কারখানা আর সচল নেই। কানপুর স্টেডিয়ামও তেমনি।

মিডিয়া গেটের উলটো দিকে সিভিল লাইনস পুলিশ চৌকি, সেই ব্রিটিশ আমলের স্থাপনা। স্টেডিয়ামের ভেতরেও ভিআইপিদের বসার ব্যবস্থা ভাল হয়েছে, প্রেসবক্স সেই সাবেকি আমলের। খোলা গ্যালারির মাঝে চেয়ার টেবিল পেতে দেয়া, ধূলোয় ধূষর। কাঁচঘেরা তাপানূকূল বন্দোবস্ত নেই, দুই পাশে চলছে এয়ার কুলার। তাতে কানপুরের নামকরণের প্রকৃত মানে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে!

বৃষ্টিতে খেলা শুরু হতে দেরা, তাই নাশতার লাইনে লম্বা ভীড়। প্রবেশাধিকার নেই এমন লোকজনও ঢুকে যাচ্ছেন, তাদের বেরিয়ে যেতে বলা হলে হর্তাকর্তাদের সঙ্গে দহরম মহরমের কথা বলছেন। এসব অভিজ্ঞতা বাংলাদেশে খুলনা বা ফতুল্লায় একসময় হয়েছে, যখন প্রথম প্রথম ওসব জায়গায় আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজন করা হয়েছে তখন। আর এমন কানফাটানো প্রেসবক্সে কাজ করার সৌভাগ্যও আগে হয়নি।

ভেবেছিলাম কাঁচঘরে বন্দী না থাকায় মাঠের ব্যাট বলের সঙ্গতের আওয়াজ স্পষ্ট শোনা যাবে। সেই স্বস্তি কেড়ে নিয়েছে দানবীয় এয়ার কুলার। কানপুর থেকে ফিরে কানের ডাক্তার দেখানোটা জরুরি, এই জন্যেই বোধহয় নামটা কানপুর।