এক ব্যক্তি কোনো পদে দুই মেয়াদের বেশি নয়

ক্রীড়াঙ্গনের সার্বিক উন্নয়নে ক্রীড়া সংগঠক, খেলোয়াড়, কোচ, রেফারিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ঘোষণা দিয়েছেন এক ব্যক্তি কোনো পদে দুই মেয়াদের বেশি থাকতে পারবেন না। গতকাল শুক্রবার এনএসসি টাওয়ারে এ ঘোষণা দেন ক্রীড়া উপদেষ্টা। যুগান্তকারী এ সিদ্ধান্তের ফলে যুগের পর যুগ ফেডারেশনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ আঁকড়ে থাকা বেশ কিছু পরিচিত মুখের বিদায় সমাগত।

বাংলাদেশে পঞ্চাশোর্ধ্ব ক্রীড়া ফেডারেশন, অ্যাসোসিয়েশনের পাশাপাশি রয়েছে প্রতিটি বিভাগ ও জেলায় ক্রীড়া সংস্থা। এরকম অনেক ফেডারেশনেই সাধারণ সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ একজন ব্যক্তি চার দশকেরও বেশি সময় ধরে দখল করে রেখেছেন। বাংলাদেশ অ্যামেচার কুস্তি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক তাবিবুর রহমান পাওয়ান চার দশকের বেশি সময় ধরে দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ হ্যান্ডবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান কোহিনুর প্রায় তিন দশক, বাংলাদেশ বাস্কেটবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এ কে সরকার প্রায় আড়াই দশক একই পদে আছেন। গেল ১৫ বছরে আওয়ামী সরকারের আমলে ক্রীড়া ফেডারেশন, অ্যাসোসিয়েশন ও সংস্থাগুলোতে নির্বাচনের নামে হয়েছে প্রহসন। অযোগ্য, অদক্ষ অনেক ব্যক্তি শুধু রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ঢুকে পড়েছিলেন অনেক ফেডারেশনে। তবে বেশ কয়েকটি ফেডারেশনের শীর্ষ কজন কর্তাকে দেখা গেছে বছরের পর বছর পদ আঁকড়ে রাখতে। তারা শুধু দায়িত্বই দখলে রেখেছেন, খেলাটার সত্যিকারের উন্নতি করতে পারেননি।

আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের খেলোয়াড়, কোচ, রেফারি ও সংগঠকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন গতকাল। সেখানে বিভিন্ন অঙ্গনের ২৬ জনের বক্তব্য শোনেন। এ সময় তার সঙ্গে মঞ্চে ছিলেন ক্রীড়া ফেডারেশন ও সংস্থার সংস্কারে গঠিত সার্চ কমিটির প্রধান ও বাংলাদেশের অন্যতম ব্যাডমিন্টন তারকা জোবায়েদুর রহমান রানা ও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সচিব আমিনুল ইসলাম। সবার কথা মন দিয়ে শুনে নিজের বক্তব্য দেন ক্রীড়া উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘কোনো ক্রীড়া সংস্থায় একই পদে দুবারের বেশি নয়। খেলা বা ফেডারেশনের প্রয়োজনে ওই ব্যক্তি অন্য পদে কাজ করতে পারেন। কিন্তু একই পদে দুবারের বেশি নয়। অনেকেই ফেডারেশনের পদকে দায়িত্ব নয়, ক্ষমতার অংশ মনে করেন। আমরা সেটা রোধে কাজ করছি।’ ক্রীড়াঙ্গনকে রাজনীতিমুক্ত করার কথাও বলেন আসিফ মাহমুদ, ‘ক্রীড়াঙ্গনকে বিরাজনীতিকরণ নিয়ে আমরা কাজ করছি। একজন ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারে কিন্তু ক্রীড়াঙ্গনে যেন এর প্রভাব না পড়ে।’

নতুন উপদেষ্টা দায়িত্ব নিয়েই ক্রীড়াঙ্গনের সংস্কারের উদ্যোগের প্রথম ধাপে ৪৫টি ফেডারেশন ও অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতিদের অব্যাহতি দেন। এর আগে সবকটি বিভাগ, জেলা ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থাও ভেঙে দেন। ক্রীড়াঙ্গনকে গতিশীল করতে একটি সার্চ কমিটি গঠন করেন, যাদের দুই মাসের মধ্যে একটি প্রস্তাবনা দিতে বলা হয়েছে। গতকাল গোটা ক্রীড়াঙ্গনের মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন তিনি। যেখানে ফেডারেশনের চেয়ার চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত করে ফেলাদের দেন কড়া হুঁশিয়ারি। এ ছাড়া ফেডারেশনগুলোর আর্থিক সচ্ছলতা নিশ্চিতে ফি বছর আয়-ব্যয়ের অডিট রিপোর্ট এবং প্রোগ্রেস রিপোর্ট জানানোর নির্দেশনা দেন উপদেষ্টা। একই সঙ্গে সর্বস্তরের জবাবদিহি করতে বলেন।

গতকাল আমন্ত্রিত অনেকেই কথা বলতে চেয়ে বারবার হাত তুলেও সুযোগ পাননি। এ নিয়ে একপর্যায়ে হট্টগোলও শুরু হয়েছিল, যা চোখ এড়ায়নি তরুণ উপদেষ্টার, হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘খেলাধুলা আমাদের শৃঙ্খলা শেখায়, যা জাতীয় জীবনেও শিক্ষণীয়। এখানে আপনারা অনেক বর্তমান, সাবেক খেলোয়াড়, কোচ রয়েছেন। আপনাদের মধ্যে শৃঙ্খলার যথেষ্ট অভাব। আগামীতে আপনারা ফেডারেশনে এলে শৃঙ্খলভাবে কাজ করতে পারাটা সন্দিহান।’ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ফেডারেশনের ভেতর ও বাইরের অনেক সংগঠককে দেখা গেছে উপস্থিত হতে। মুখোমুখি অবস্থানে তাদের দেখা গেলেও বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। না হলে পুরো ক্রীড়াঙ্গন সম্পর্কে আরও নেতিবাচক ধারণা পেতেন নতুন উপদেষ্টা।