সাডেন ডেথে পাকিস্তানকে কাঁদিয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ

ভুটানের চ্যাংলিমিথাং স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই বৃষ্টি। গ্রুপ পর্বে গোল গড়ে মালদ্বীপকে পিছে ফেলে সেমিফাইনালে এলেও বাংলাদেশে ১৭ না পেরোনো কিশোররা দিয়েছিলেন পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রত্যয়ী থাকার প্রতিশ্রুতি। শনিবার রাতে সেটা করে দেখালেন মাঠে।

৬১ মিনিট পর্যন্ত দুই গোলে পিছিয়ে থাকা কিশোররা লিখেছেন প্রত্যাবর্তনের নিপুণ গল্প। দুই গোল শোধ করেই ক্ষান্ত হননি। শেষ পর্যন্ত ৮ শটে গড়ানো সাডেন ডেথে পাকিস্তানকে হারিয়ে সাফ অনূর্ধ্ব-১৭ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠেছেন ফয়সাল-নাহিদুলরা।

নির্ধারিত সময়ে ২-২ গোলের সমতায় শেষ হওয়ায় খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। প্রথম ৫ শটে প্রত্যেকে গোল পেলে সাডেন ডেথে মীমাংসা হয় সেমিফাইনালের। অষ্টম শটে পাকিস্তানের আব্দুল গনির শট ডানে দিকে ঝাপিয়ে পড়ে ঠেকিয়ে দেন বাংলাদেশ গোলরক্ষক নাহিদুল ইসলাম। নিজেদের শটে কোনো ভুল করেননি আশিকুর রহমান। ডান দিকে নিচু শটে জালের ঠিকানা খুঁজে নিয়ে বাংলাদেশকে তোলেন সাফের ফাইনালে।

 গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির মাঝেই বি গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তানের বিপক্ষে সেমিফাইনাল খেলতে নামে বাংলাদেশ। শরীরী শক্তি, উচ্চতা এবং গতি- তিন বিভাগেই বাংলাদেশের চেয়ে পাকিস্তানকে এগোনো মনে হচ্ছিলো। দেশের কিশোরদের শুরুটাও হয় অগোছালো। দ্বিতীয় মিনিটেই পাকিস্তান আক্রমণে উঠে এলে নিজেদের বক্সে চাপে পড়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে ৮ মিনিটে সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। এর পর অবশ্য বাংলাদেশই বেশি সুযোগ তৈরি করে। অপু রহমানের দারুণ পাসে হেডারের সুযোগ নষ্ট করেন রিফাত কাজী। ১৩ মিনিটে শফিক রহমানের লক্ষ্যে থাকা ফ্রিকিক ঠেকিয়ে দেন পাকিস্তানের গোলরক্ষক কাসিফ। ২৭ মিনিটেও অপুর আরেকটি শট সেভ করেন কাসিফ।

বক্সের বাইরে থেকে পাকিস্তানের দূর পাল্লা একটি শট পাঞ্চ করে কর্নারের বিনিময়ে ক্লিয়ার করেন নাহিদুল। ৩২ মিনিটে ওই কর্নার থেকেই প্রথম আঘাত পেতে হয় বাংলাদেশকে। জটলা থেকে শাহাব আহমেদ খুঁজে নেন বাংলাদেশের জাল। এক গোলে পিছিয়ে থেকে বিরতিতে যায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয়ার্ধে গোলশোধে আরও মরিয়া হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। এর মাঝেই ৬২ মিনিটে ডি বক্সে সিয়াম অমিতের হাতে বল লাগায় পেনাল্টি পায় পাকিস্তান। আবদুল রেহমান জালভেদ করেন সেই সুযোগে।

পরের মিনিটে অপু আর রিফাতকে তুলে জয় আহমেদ আর মোহাম্মদ মানিককে মাঠে নামান কোচ সাইফুল বারি টিটো। বাংলাদেশের হয়ে দুটো গোলই শোধ করেন মানিক। ৭১ মিনিটে ফয়সাল ও শফিকের জায়গায় বদলী নামেন আকাশ আহমেদ ও মিঠু চৌধুরী। বদলে যায় বাংলাদেশের খেলার ধরন। যার ফল মেলে তিন মিনিট বাদেই। মিঠুর বাড়ানো পাসে সুযোগ নষ্ট করলেও মোর্শেদ আলীর কর্নার থেকে তার মাশুল দেন মানিক। পান প্রথম গোলের দেখা।

এখান থেকেই নিজেদের সেরা খেলাটা দেখায় বাংলাদেশ। একের পর এর আক্রমণ করলেও সহজ সুযোগ হাতছাড়া হচ্ছিল। যোগ করা ৭ মিনিট সময়ে ৪র্থ মিনিটে অবশেষে ম্যাচে সমতায় ফেরে বাংলাদেশ। বক্সের বাইরে থেকে বল নিয়ে দারুণ পাস বাড়ান জয়। তাতে পা ছুঁইয়ে জালের দিশা দেখিয়ে দেন মানিক।

 টাইব্রেকারে বাংলাদেশের হয়ে লক্ষ্যভেদ করেন মোর্শেদ, জয়,  কামাল মৃধা, সিয়াম, মানিক, আকাশ, মিঠু ও আশিকুর রহমান। আগস্টের শেষে অনূর্ধ্ব-২০ দল সাফের শিরোপা নিয়ে আসার পর এবার অনূর্ধ্ব-১৭ দলও পৌঁছালো ফাইনালে। সোমবারের শিরোপা লড়াইয়ে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ভারত।