নৌ মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব উপদেষ্টার

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তন করে জাহাজ মন্ত্রণালয় করা হবে বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় ও নৌ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন।

তিনি বলেন, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তন করে জাহাজ বন্দর মন্ত্রণালয় করার প্রস্তাব করা হবে। আমি নৌকা চালাই না, জাহাজ চালাই।

আজ শনিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনের জন্য সংলাপ-মানবাধিকার প্রসঙ্গ’ শীর্ষক আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, পুলিশে অবশ্যই সংস্কার প্রয়োজন। তারা নিজেরাও সেটা চাচ্ছে। এজন্য পুলিশ কমিশন করতে হবে। পুলিশকে যদি মানুষের বন্ধু বানাতে হয়, তবে সংস্কার করতেই হবে।

তিনি বলেন, পুলিশের অস্ত্র কী করে সাধারণ মানুষের হাতে গেল? তা নিয়ে তদন্ত করা প্রয়োজন। নৌ উপদেষ্টা বলেন, আমাদের দেশে যে দলই ক্ষমতায় যায়, তারা সেই ক্ষমতাকে আঁকড়ে ধরে রাখে। পলিটিকাল পার্টি অ্যাক্ট নিয়ে কাজ করা হবে। পাঁচ তারিখ সরকারের পতন না হলে আমি এবং আমার সঙ্গের লোকজন আয়নাঘরে বন্দী হতাম।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অবশ্যই রোডম্যাপ দেবে উল্লেখ করে ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ইতিমধ্যে ৬টি কমিশন ফর্ম করেছে, তারা কাজ করছে এবং সেখানেও রাজনীতিবিদদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে আলোচনার মাধ্যমে।

সিজিএসের চেয়ারম্যান মুনিরা খান বলেন, বিগত সরকারের আমলে মানবাধিকার কমিশন নতুন নিয়ম অনুযায়ী স্বচ্ছতা ধরে রেখে খুব একটা কাজ করেছে বলে আমরা দেখতে পাইনি। কীভাবে কাজ করলে, কী করলে আমরা স্বৈরাচারের হাতে পড়বো না, তা নিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে। সংস্কারের জন্য, প্রয়োজনীয় সময় আমাদের এই সরকারকে দিতে হবে। আমরা যেন অধীর না হই, অধৈয্যর্ না হই, ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করা আমাদের সবার প্রয়োজন।

সিজিএসের নির্বহী পরিচালক জিল্লুর রহমান বলেন, দেশে মানুষের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ভোটের অধিকার, ভাতের অধিকার, মানবাধিকার নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সর্বশেষ, ২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত সরকারের সময়ে সংস্কার নিয়ে কথা বললেও পরে তা পরিত্যাগ করা হয়। সংস্কার পরিত্যাজ্য বললেও, পুনর্গঠন নিয়ে কথা বলা উচিত আমাদের। মানবাধিকারের সংকট এদেশে ছিল, আছে। আমরা জানতে চাই, বাংলাদেশের জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের স্বাধীনতা ও কার্যকারিতা বৃদ্ধির জন্য কি কি সুনির্দিষ্ট সংস্কার প্রয়োজন? র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) মতো এলিট আইন প্রয়োগকারী ইউনিট এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা দ্বারা হয়রানি ও অপব্যবহার রোধে কী ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে? এই সংস্থাগুলোকে যেভাবে রাজনীতিকরণ করা হয়েছে তা নিয়ে আমাদের কথা বলা প্রয়োজন।