প্রবল বৃষ্টিপাতে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ নেপালে গত দুই দিনে অন্তত ৬৬ জন নিহত হয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে সতর্কতা দিয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এছাড়া গত শুক্রবার সকাল থেকে এ পর্যন্ত আরও ৬৯ জন নিখোঁজ এবং ৬০ জন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা দিল কুমার তামাং।
বেশিরভাগ মৃত্যু দেশটির রাজধানী কাঠমান্ডু উপত্যকায় হয়েছে, যেখানে ৪০ লাখ মানুষের বসবাস। শনিবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।
ভয়াবহ বন্যার কারণে রাজধানীর অনেক প্রধান সড়ক বন্ধ হয়ে গেছে এবং অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। স্থবির হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক কার্যক্রম। মঙ্গলবার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে দেশটির আবহাওয়া অধিদপ্তর।
শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে অল্প সময়ের মধ্যে রাজধানী কাঠমান্ডুতে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল ২০০ মিমি। এতে করে কাঠমান্ডু উপত্যকার প্রায় সমস্ত নদী প্লাবিত হয়ে যায়।
এছাড়া দেশটিতে ভূমিধসের কারণে বেশ কিছু প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। রাজধানীর দক্ষিণ-পশ্চিমে মাকওয়ানপুরে অল নেপাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন পরিচালিত একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ভূমিধসে ছয় ফুটবল খেলোয়াড়ও নিহত হয়েছেন। এ সময় অন্যরা বন্যার পানিতে ভেসে যান।
এখন পর্যন্ত, ২ হাজার জনেরও বেশি মানুষকে বন্যার পানি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং কমপক্ষে ২০০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্র পরিচালিত রেডিও নেপাল।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা গেছে বন্যার পানিতে বাড়ি, অফিস, শপিং সেন্টার, হাসপাতাল এবং পুলিশ পোস্টগুলি প্লাবিত হতে দেখা গেছে। বন্যায় অনেক স্থানে পানির লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং টেলিফোন ও বিদ্যুৎ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।
এছাড়া শুক্র এবং শনিবার বিমান চলাচলও ব্যাহত হয়েছিল। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে অনেক অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বিলম্বিত বা বাতিল করা হয়।
পুলিশের মুখপাত্র দান বাহাদুর কারকি জানান, ২৮টি স্থানে ভূমিধসের কারণে মহাসড়ক অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ায় পুলিশ ধ্বংসাবশেষ পরিষ্কার এবং রাস্তাগুলো পুনরায় চালু করার জন্য কাজ করছে।
নেপালের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের মতে, ১০ হাজার পুলিশ কর্মকর্তা, স্বেচ্ছাসেবক দল এবং সেনাবাহিনীর সদস্যরা অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে।