দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির আবাসিক গেটের সামনে ক্ষতিপূরণের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে ক্ষতিগ্রস্ত চৌহাটি গ্রামবাসী। রবিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত খনির ক্ষতিগ্রস্ত চৌহাটি গ্রামের হাজার হাজার নারী-পুরুষ ক্ষতিপূরণের দাবিতে মাববন্ধন ও বিক্ষোভ করে। খনির আবাসিক গেটের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ চলায় খনির কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী বের হতে পারেনি। গেটের বাহিরে দাঁড়িয়ে থাকা প্রায় ৫০টি ট্রাকে বিদেশ থেকে আমদানি করা যন্ত্রাংশ খনির ভেতরে প্রবেশ করতে পারেনি।
বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি আদায় জীবন ও বসত রক্ষা কমিটির সভাপতি মতিয়ার রহমানের নেতৃত্বে এই মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল হয়। এসময় তিনি বলেন, আগামী ৯ অক্টোবরের মধ্যে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি কর্তৃপক্ষ সার্ভের মাধ্যমে পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে বিক্ষোভ মিছিলসহ বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামের ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবি জানানো হয়েছিল কিন্তু খনি কর্তৃপক্ষ আমাদের প্রতি গুরুত্ব না দিয়ে তালবাহানা ও মিথ্যা আশ্বাস দিচ্ছেন দীর্ঘদিন ধরে। আন্দোলন করার পরও খনি কর্তৃপক্ষ আমাদের প্রতি অন্যায় করছেন। আমাদের দাবি মেনে নিচ্ছেন না।
চৌহাটি গ্রামের মোসলেমা বেগম বলেন, চৌহাটি গ্রামে আমার বাড়ি, স্বামী-সন্তান নিয়ে আমরা রাতে ঘুমাতে পারছি না।
সমাবেশে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বলেন, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, কবরস্থান রাস্তাঘাট সবই ধ্বংস হয়ে গেছে। অসুস্থ রোগীকে নিয়ে হাসপাতালে যাব, রাস্তার বেহাল অবস্থার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও আসতে চায় না।
চৌহাটি গ্রামের মালেকা বেগম জানান, নলকূপে পানি উঠছে না, যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। আমরা এর প্রতিকার চাই ও ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
চৌহাটি গ্রামের মশিউর রহমান বলেন, বর্তমান কয়লা খনি ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. সাইফুল ইসলাম সরকার আমাদের প্রতি অন্যায় ও বৈষম্য সৃষ্টি করছে।
এসময় তারা চার দফা দাবির কথা জানান। চারদফা দাবি গুলো হলো-
১. পূর্বের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ফাটাবাড়ির ক্ষতিপূরণ দিতে হবে,
২. মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে চৌহাটীবাসীকে বোঝানো বন্ধ করতে হবে,
৩. কয়লা খনি প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে চৌহাটি এলাকাবাসীর সাথে সমোঝোতা চুক্তির ১০০% বাস্তবায়ন করতে হবে এবং
৪. চৌহাটিবাসীর চলাচললের রাস্তা মেরামতের ব্যবস্থা করতে হবে।
বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলাম সরকার জানান, ইতিমধ্যে সার্ভে টিম গঠন করা হয়েছে। অতিদ্রুত সার্ভে করে ক্ষতিগ্রস্ত চৌহাটি গ্রামের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে ৮ গ্রামকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া শুরু করেছি।