হার্টের সুরক্ষায় প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। তারা বলেছেন, হৃদরোগের চিকিৎসা ব্যয়বহুল। একবার আক্রান্ত হলে সারা জীবন এই মারাত্মক ব্যাধিকে পুষতে হয় এবং অনেক ওষুধ খেতে হয়। তাই এই রোগ প্রতিরোধ করাই উত্তম। নিরাময়যোগ্য রিস্ক ফ্যাক্টরগুলো প্রতিরোধে যথাযথ ব্যবস্থা নিলেই অনেক ক্ষেত্রে হৃদরোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। তাই হার্ট ভালো রাখতে ব্যক্তিপর্যায় থেকে সামাজিক পর্যায়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে।
বিশ্ব হার্ট দিবস উপলক্ষে আজ রবিবার রাজধানীতে হেলদি হার্ট হ্যাপি লাইফ অর্গানাইজেশন (হেলো) ও আইপিডিআই ফাউন্ডেশন আয়োজিত উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধে রোডমার্চ ও বিনামূল্যে স্বাস্থ্য ক্যাম্প অনুষ্ঠানে এসব কথা বলা হয়।
শাহবাগ থেকে মানিকমিয়া এভিনিউ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত রোডমার্চে সর্বস্তরের প্রায় দেড় শতাধিক মানুষ অংশ নেন। পরে চন্দ্রিমা উদ্যানে জনসাধারণকে বিনামূল্যে রক্তচাপ ও ডায়বেটিস পরীক্ষা এবং সেই সাথে তাদের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হেলো-আইপিডিআই ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক ডা. মহসীন আহমদ ও প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ কার্ডিয়াক সোসাইটির জেনারেল সেক্রেটারি অধ্যাপক ডা. আব্দুল্লাহ আল সাফী মজুমদার।
অধ্যাপক ডা. আব্দুল্লাহ আল সাফী মজুমদার বলেন, পৃথিবীব্যাপী হৃদরোগ এবং উচ্চরক্তচাপে আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ বেড়েই চলেছে। আমাদের দেশেও এর ব্যতিক্রম নয়। চিকিৎসার পাশাপাশি সর্বস্তরে এই সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই।
অধ্যাপক ডা. মহসীন আহমদ বলেন, হেলো-আইপিডিআই একটি অলাভজনক অরাজনৈতিক স্বেছাসেবী প্রতিষ্ঠান। এবারে বিশ্ব হার্ট দিবসে হার্টের সুরক্ষায় ব্যক্তিপর্যায় থেকে সামাজিক পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে এবং সেই সাথে প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যকে সামনে রেখেই মূলত আমাদের এই আয়োজন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, হেলো-আইপিডিআই ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই হৃদরোগ প্রতিরোধে দেশব্যাপী বিভিন্ন দাতব্য কর্মসূচি ও গবেষণা পরিচালনা করে আসছে। এসব কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতস্বরূপ ইতোমধ্যেই সংগঠনটি ওয়ার্ল্ড ফেডারেশনের পূর্ণ সদস্যপদ লাভ করেছে।