নেপাল

বন্যা থেকে বাঁচতে ছাদ থেকে ছাদে লাফ, মৃত বেড়ে ১৪৮

টানা দুইদিন ভারী বৃষ্টিতে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ নেপালে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে ১৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছে ৬২ জন। জরুরি অবস্থায় আগামী তিনদিন স্কুল বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানা যায়, বৃষ্টির কারণে দেশটির বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কুলের ভবনগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিপাকে পড়েছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। নেপালের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লক্ষ্মী ভাট্টারি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তিনদিন স্কুল বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

স্থানীয়দের বরাতে বিবিসি জানায়, বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় এক ছাদ থেকে আরেক ছাদে লাফ দিয়ে জীবন বাঁচাচ্ছেন স্থানীয়রা। এদিকে উদ্ধারকর্মীরা হেলিকপ্টার দিয়ে উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞরা জানান, রাজধানী কাঠমান্ডুর কিছু জায়গায় প্রায় ৩২২.২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে; এতে বাঘমাতি নদী পানি বিপৎসীমার ২.২ মিলিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে যা ঝুঁকিপূর্ণ। এদিকে আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ গোভিন্দ জ্যা বলেছেন, রবিবার কিছু জায়গায় বৃষ্টি আগের তুলনায় কমেছে।

এখন পর্যন্ত দুই হাজার জনেরও বেশি মানুষকে বন্যার পানি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং কমপক্ষে ২০০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্র পরিচালিত রেডিও নেপাল।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা গেছে বন্যার পানিতে বাড়ি, অফিস, শপিং সেন্টার, হাসপাতাল এবং পুলিশ পোস্টগুলো প্লাবিত হতে দেখা গেছে। বন্যায় অনেক স্থানে পানির লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং টেলিফোন ও বিদ্যুৎ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।

পুলিশের মুখপাত্র দান বাহাদুর কারকি জানান, ২৮টি স্থানে ভূমিধসের কারণে মহাসড়ক অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ায় পুলিশ ধ্বংসাবশেষ পরিষ্কার এবং রাস্তাগুলো পুনরায় চালু করার জন্য কাজ করছে।

নেপালের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের মতে, ১০ হাজার পুলিশ কর্মকর্তা, স্বেচ্ছাসেবক দল এবং সেনাবাহিনীর সদস্যরা অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে।

সূত্র: বিবিসি ও রয়টার্স