ক্যারিয়ারের সবচেয়ে অদ্ভুত কাজ ছিল এটা

তাকে অনেকেই বলেন ‘মিস্টার টুইস্ট’ অর্থাৎ টুইস্ট খ্যাত নির্মাতা। গল্পের শেষ দিকে গিয়ে একটা ছোট্ট ম্যাজিক বা চমক দেখানো, যেটাতে পুরো গল্পই যেন ঘুরে যায় চোখের পলকে। এই চমক বা টুইস্টের জন্যই ভিকি জাহেদকে এই নামে আখ্যা দেন দর্শকরা। অনেক দিন পর নতুন কনটেন্ট নিয়ে আসছেন তিনি। একটি সত্য ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নির্মিত এই সিরিজের নাম ‘চক্র’। সিরিজটির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেন ইমরুল নূর

আদম পরিবারের ঘটনা থেকে সিরিজ

২০০৭ সালের ১১ জুলাই ময়মনসিংহ পৌরসভার কাশর এলাকার ইটখলায় রেললাইনে এক পরিবারের নয়জন ট্রেনের নিচে পড়ে আত্মহত্যা করে। যে ঘটনায় দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি হয়। সেই ‘আদম পরিবারের’ সুইসাইডের ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে সিরিজটি নির্মাণ করেছেন ভিকি জাহেদ। তিনি বললেন, এটা সরাসরি আদম পরিবারের গল্প না। বলতে পারেন, তাদের মতোই হতভাগা আরেকটি পরিবারের গল্প। ঘটনাগুলো কেন ঘটেছিল সেই বিষয়টা অনুসন্ধানের চেষ্টা করেছি। ২০২২ সালে কাজটি শুরু করলাম। এটি করতে কয়েকবারই নানা বাধা ও প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়েছিলাম। অবশেষে সেই গল্পটি আসছে।

বাধা ও প্রতিবন্ধকতা

শুরুর দিকে অনেকের কাছেই গিয়েছিলাম কিন্তু কেউই কাজটি করতে রাজি হচ্ছিলেন না। এরপর সবকিছু প্রস্তুত করে কাজ শুরু করলাম। শুটিংও একটানা করতে পারিনি। একটার পর একটা বাধা পাচ্ছিলাম, কোনো না কোনো সমস্যা হচ্ছিলই। এরপর নানা ধাপে যখন কাজটা শেষ করলাম, এরপর সেটাকে আটকে দেয় সেন্সর বোর্ড। যেহেতু খুব সেনসিটিভ একটা বিষয় নিয়ে সিরিজের গল্প, সেহেতু আমরা চেয়েছিলাম সেন্সর প্রসেসের মধ্য দিয়ে যেতে। এরপর তারা কিছু কারেকশন দিলেও পরে সেটি আটকে দেয়।

চ্যালেঞ্জ

প্রতিটি কাজই আমার জন্য চ্যালেঞ্জিং। তবে পুরো ক্যারিয়ারে এই কাজটা আমার জন্য অনেক বেশি অদ্ভুত এবং পীড়াদায়ক ছিল। একে তো খুব সেনসিটিভ গল্প, তার ওপর এই কাজটির অনেক সহকর্মীকে হারিয়েছি আমরা। এটার সিনেমাটোগ্রাফার জাহিদকে হারালাম, লাইন প্রডিউসার রোহানকে হারালাম। শুধু তাই নয়, আরও কয়েকজনকেও হারিয়েছি, যারা এখানে অভিনয় করেছিলেন। কোনো একটা প্রজেক্টের সঙ্গে জড়িত এতগুলো মানুষ একে একে চলে গেছেন, এমন নজির বোধহয় আর নেই! এই ধাক্কাটুকু সামলে উঠতেই খুব কষ্ট হয়েছে আমার। এমনও হয়েছে একজনকে নিয়ে শুট করেছি কিছুদিন পর শুনি তিনি আর নেই। এরপর যখন আবার ওই চরিত্রে নতুন কাউকে নিয়ে রি-শুট করলাম। তার কিছুদিন পর দেখি তিনিও নেই। কীরকম একটা অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলাম, বুঝেন একটাবার।

ফের সেন্সর

একবার সেন্সরে গিয়েছিল এবং তারা কিছু কারেকশন দিয়েছিল। এখন সেটা আবারও সেন্সর সার্টিফিকেশনের জন্য দেওয়া হতে পারে। এখন কর্তৃপক্ষ সেটি সেন্সরে জমা দিয়েছে কি না, সে বিষয়ে আমি এখনো কিছু জানি না। ওটিটির কাজ তো সচরাচর সেন্সর বোর্ডে যায় না। কিন্তু আমি আমার ‘পুনর্জন্ম’ সেন্সর করিয়ে ছিলাম।

কবে মুক্তি

খুব সম্ভবত ১০ অক্টোবর মুক্তি পেতে পারে। তবে সেটা এখনো নিশ্চিত না। এটি দেখা যাবে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম আইস্ক্রিণে।