‘দুর্বার’ হয়ে ৫ বছর পর ফিরছে রাজশাহী

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের প্রথম আসরটা ছিল জাঁকজমকপূর্ণ। টুর্নামেন্ট সেরা পেয়েছিলেন গাড়ি। আইকন ক্রিকেটার আয় করেছিলেন চোখ কপালে তোলার মতো পারিশ্রমিক। তবে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর নাম নিয়ে অনেক সমর্থকই সেই সময় আপত্তি তুলেছেন। ঢাকার সঙ্গে গ্ল্যাডিয়েটর্স, সিলেট রয়্যালস, চিটাগাং কিংস, বরিশাল বার্নার্স। এই নামগুলোর বেশিরভাগই হয় বিদেশি কোনো লিগের ফ্র্যাঞ্চাইজি থেকে ধার করা। তবে দুটি নাম ছিল দেশের সঙ্গে সম্পর্কিত। একটি খুলনা রয়্যাল বেঙ্গল, যা জাতীয় পশু বাঘের কারণে। অন্য নামটি ছিল দুরন্ত রাজশাহী। একমাত্র বাংলা নামের দল হয়ে তারা আলাদা নজর কেড়েছিল।

দুই আসর এই নামে তারা খেলেছিল। ২০১৪ সালে বিপিএলের আসর হয়নি নানা অনিয়মের অভিযোগে। ২০১৫ সালে দেশের উত্তরবঙ্গে অঞ্চলটির কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি ছিল না। তবে পরের আসরে ফিরে এসেছিল। প্রথমে কিংস ও পরে রয়্যালস নামে এসেছিল রাজশাহী। বাংলা নামের দিকে আর ঝুঁকেনি। ২০১৯ সালে আন্দ্রে রাসেলের নেতৃত্বে অলক কাপালি, লিটন দাস, আফিফ হোসেনদের নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল দলটি। তার পরের আসর থেকেই রাজশাহী নামের ফ্র্যাঞ্চাইজিটি অনুপস্থিত। অবশেষে ৫ বছর পর আবার বিপিএলে আসছে রাজশাহী।

ভ্যালেন্টাইন গ্রুপের মালিকানায় উত্তরবঙ্গের এই ফ্র্যাঞ্চাইজিটির নাম হতে যাচ্ছে ‘দুর্বার রাজশাহী’। ১১ বছর পর ফের বাংলা নাম নিয়ে ফিরছে তারা। স্বাভাবিকভাবে কোনো দল টুর্নামেন্টে অংশ নেয় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্যই। তবে দুর্বারের লক্ষ্য রাজশাহীর তরুণ ক্রিকেটারদের প্রমোট করা। পাশাপাশি কোচিং প্যানেলেও স্থানীয়দের রাখারই পরিকল্পনা তাদের।

এসব বিষয় দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন দলটির অন্যতম কর্ণধার ইমতিয়াজ দীপন। তিনি বলেন, ‘সবশেষ কয়েকটি আসরে আমাদের রাজশাহীর মানুষরা কোন দলকে সমর্থন করবেন, এই নিয়ে দ্বিধায় ছিলেন। কারণ আমাদের বিভাগটির নামে কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি ছিল না। এতে করে উত্তরবঙ্গের মানুষের কাছে টুর্নামেন্টটির আকর্ষণ কমে গিয়েছিল। সেই কারণেই এখানকার ক্রীড়াপ্রেমীদের প্রাণের দাবি ছিল এই বিভাগের নামে একটি দলের। সেটা পূরণের লক্ষ্য নিয়েই আমরা এগিয়েছিলাম। বিসিবি আমাদের সবকিছু দেখে শেষ পর্যন্ত সবুজ সংকেত দিয়েছে।’ তিনি যোগ করেন, ‘আমি হয়তো পেছন থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছি। তবে আমার চাওয়া পুরো রাজশাহীবাসী এই দলটাকে ওউন করবে।’

প্রত্যেকটি ফ্র্যাঞ্চাইজির নিজস্ব কিছু লক্ষ্য থাকে। দীপনের রাজশাহীকে নিয়ে সে রকমই কিছু স্বপ্ন আছে। দেশ রূপান্তরের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘রাজশাহীতে ৮টি জেলা শহর আছে। সেখানে সারা বছর ক্যাম্পেইন করার একটা পরিকল্পনা আছে। পেসার হান্ট, লেগ স্পিনার হান্ট, ব্যাটসম্যান হান্ট এসব চালু রাখতে চাই। শুধুমাত্র বিপিএলেই আমাদের দলকে সীমাবদ্ধ রাখতে চাই না।’

রাজশাহীতে একটা সুন্দর ভেন্যু আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘চমৎকার উইকেটের দারুণ একটা স্টেডিয়াম আছে আমাদের। আমরা চাই এবারের আসরটি হোক হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে ভিত্তিতে। অন্যান্য দলের বিপক্ষে তাদের মাঠে গিয়ে যেমন খেলব আমরা, তেমনি সেই দলগুলোও আমাদের মাঠে আসবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা। তাতে টুর্নামেন্ট আরও বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।’

স্থানীয় ক্রিকেটার ও কোচদের প্রমোট করাই দুর্বার রাজশাহীর মূল লক্ষ্য জানিয়ে দীপন বলেন, ‘আমার লক্ষ্য স্থানীয় তরুণ ক্রিকেটারদের প্রমোট করা। তারা যেন নিজেদের সেরাটা দেখানোর একটা মঞ্চ পায়। ঘরোয়া ও বয়সভিত্তিক পর্যায়ে ভালো করছে এমন ক্রিকেটারদের সুযোগ দিতে চাই। শুধু রাজশাহী না, ৮ বিভাগের তরুণরাই আমাদের ভাবনায় রয়েছে। এছাড়া স্থানীয় তারকা ক্রিকেটারদেরও আমরা দলে নেওয়ার চিন্তা করছি। কোচিং প্যানেলের পুরোটাও রাখতে চাই রাজশাহীরই।’

রাজশাহী বিপিএলে প্রত্যাবর্তন করলেও ঢাকা ও চট্টগ্রাম সবসময়ই ছিল। তবে এবার মালিকানায় আসছে পরিবর্তন। ঢাকার মালিকানা কিনেছে রিমার্ক অ্যান্ড হারলান। এই প্রতিষ্ঠানটির মালিকানায় আছেন চিত্রনায়ক শাকিব খান। এছাড়া আরেক অভিনেতা মামনুন হাসান ইমন আছেন ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে। আইপিএলের ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোতে যেমন বলিউড তারকার ছড়াছড়ি থাকে, ঠিক তেমনি এবার ঢাকার ফ্র্যাঞ্চাইজি দিয়ে বিপিএলেও পড়বে ঢালিউড তারকাদের পদচারণা।

দেশ রূপান্তরকে ইমন বলেন, ‘আমাদের পরিকল্পনা গুছিয়ে এনেছি। তবে কোন ক্রিকেটারকে কিনব সেটা এখনো চূড়ান্ত করে উঠতে পারিনি। ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। তাছাড়া দলটির নামও আমরা দর্শকদের কাছ থেকে চেয়ে নিচ্ছি। যার নাম সবচেয়ে আকর্ষণীয় হবে সেটাই হবে ঢাকার ফ্র্যাঞ্চাইজির নাম।’ তবে বিসিবির একটি সূত্র জানিয়েছিল ফ্র্যাঞ্চাইটির পরিকল্পনায় আছে ‘ঢাকা নওয়াব’ নাম নিয়ে বিপিএলে আসার।

রাজধানীর এই দলের পাশাপাশি মালিকানা বদলাচ্ছে বন্দরনগরের ফ্র্যাঞ্চাইজি চট্টগ্রামেরও। শুরুর দুই আসরে এসকিউ স্পোর্টস এন্টারটেইনমেন্ট লিমিটেডের মালিকানায় ছিল চিটাগাং কিংস। দলটির চেয়ারম্যান ছিলেন ঢাকা ডাইংয়ের প্রধান নির্বাহী সামির কাদের চৌধুরী। এবারও তার মালিকানায় আবার কিংস হয়ে ফিরছে চট্টগ্রাম।

২০১৩ সালে দলটির ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হয়ে বাংলাদেশে এসেছিলেন ব্রায়ান লারা। পাশাপাশি তাসকিন আহমেদ নিজেকে চিনিয়েছেন ঐ বছরই। দলটির অধিনায়ক ছিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। খালেদ মাহমুদ সুজন ছিলেন কোচ। এবারও কি সেই পুরনো সুরে গান বাঁধবেন সামির। জানতে চাইলে দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেন, ‘আসলে হুট করে আমরা পেয়েছি তো, আগে থেকে থাকলে আমরা কিছু করতে পারতাম। লারার সঙ্গে কথা বলেছি, কিন্তু তিনি ঐ সময়ে থাকবেন ব্যস্ত। ক্রিকেটারদের তালিকাটা এখনো বিসিবি থেকে দেয়নি। তাই এখনই কোনো কিছু বলতে পারছি না। তবে আমরা চেষ্টা করব ভিন্নতা রাখার, যাতে আমাদের ফ্র্যাঞ্চাইজির কার্যক্রমে পুরো টুর্নামেন্ট আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।’

এছাড়া সিলেট, রংপুর, খুলনা, বরিশালের মালিকানা থাকছে পুরনোদের হাতেই। এবারের আসরে অংশ নিচ্ছে না টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বেশি শিরোপা জেতা দল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস।