পুকুরে রঙিন মাছ চাষ করে অবাক করেছেন ফরিদপুরের কলেজছাত্র মোছাদ্দেক মন্ডল রাহাত।
প্রথম ধাপেই বাণিজ্যিকভাবে পুকুরে বিদেশি জাতের রঙিন মাছ চাষ করে সফলতা পেয়েছেন। ৫ বছর আগে শখের বসে বাড়ির ছাদে ছোট চৌবাচ্চায় মাত্র ৮ জোড়া রঙিন মাছ দিয়ে যাত্রা শুরু করেন। এখন ৩ একর জমিতে ৫০টি হাউজ ও ৪টি পুকুরে রঙিন মাছ চাষ করছেন। প্রতি বছর এসব মাছ বিক্রি করে আয় করেন প্রায় ১০ লাখ টাকা। তার এ সাফল্য দেখে আগ্রহী হয়ে উঠছেন স্থানীয় যুবকরা। হ্যাচারির মালিক সূত্রে জানা যায়, রঙিন মাছের হ্যাচারি থেকে ঢাকাসহ দেশের প্রায় ৩০টি জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে। রাহাত শখের বসে গত ৫ বছর আগে ছাদে মাছ অ্যাকুরিয়ামে পালতে শুরু করেন। এরপর সেখান থেকে রঙিন মাছ একটু বড় করে বাজারে বিক্রি শুরু করেন। প্রথম বছরেই লাভ হয়। পরের বছরই তিনি রঙিন মাছ পালনের শখ থেকে বাণিজ্যিকভাবে মাছ চাষে উদ্যোগী হন। পরিকল্পনা করে পরিবারের কাছ থেকে ৭ লাখ টাকা লোন নিয়ে ৩ একর জমিতে রঙিন মাছের হ্যাচারি গড়ে তোলেন। অল্প সময়ে লোনের টাকা পরিশোধ করে দেন। পাশাপাশি ব্যাংক লোন নিয়ে হ্যাচারিটি বড় আকারে গড়ে তোলেন। বর্তমানে ৫০টি হাউজ ও ৪টি পুকুরে রঙিন মাছ চাষ হচ্ছে। হ্যাচারিতে প্রায় ৫ লাখ বিদেশি জাতের রঙিন মাছের পোনা রয়েছে।
রাহাত জানান, পুকুরগুলোতে দেশীয় পদ্ধতিতে গোল্ড ফিস, জেব্রা, মলি, কৈকার্পসহ নানা প্রজাতির রঙিন মা মাছ এবং বিক্রির জন্য রঙিন পোনা মাছ রয়েছে। মাছ বিক্রি করে বছরে প্রায় ১০ লাখ আয় করা যায়। দেশে এই মাছের চাহিদা রয়েছে। চাহিদার তুলনায় অল্প পরিমাণে জোগান দিতে পারেন। তবে সরকারি সহযোগিতা পেলে আরও বড় পরিসরে রঙিন মাছ উৎপাদন করতে চান। তখন বিদেশ থেকে এই মাছ আমদানি করতে হবে না।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার সরকার জানান, রাহাতের মতো রঙিন মাছ চাষে আগ্রহী যুবকদের কারিগরি পরামর্শসহ সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। বেকারত্ব দূর করতে যুবকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে রঙিন মাছ চাষে জেলা মৎস্য অফিস প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে। এর বাইরে যদি কোনো মৎস্য চাষি অর্থিকভাবে অসচ্ছল থাকে তবে তাকে সহজ শর্তে ব্যাংকের মাধ্যমে লোন পাইয়ে দিতে সহযোগিতা করা হবে।