ডব়্প কর্মশালায় তথ্য

৭৫% মানুষ কম দামের সিগারেট খায়

বাংলাদেশে প্রায় ৭৫ শতাংশ মানুষ কম দামের সিগারেট খায় বলে জানিয়েছেন ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন অব দ্য রুরাল পুয়র (ডব়্প)-এর প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর রুবিনা ইসলাম। তিনি মন্তব্য করেন, তামাকের মূল্য বাড়লে এই শ্রেণির মানুষের জন্য সিগারেট কেনায় এক ধরনের আর্থিক চাপ সৃষ্টি হবে। সিগারেট সেবনের পরিমাণ কমবে।

সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ‘তামাক বিরোধী ক্যাম্পেইনে তরুণ প্রতিনিধিদের অ্যাডভোকেসি’ শীর্ষক কর্মশালা পরিচালনাকালে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর শেওড়াপাড়ায় ডব়্প তাদের কার্যালয়ে এই কর্মশালার আয়োজন করে। কর্মশালায় ঢাকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ২৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। এ সময় তরুণরা আরও কঠোর তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন প্রবর্তনের আহ্বান জানান।

কর্মশালায় রুবিনা ইসলাম বলেন, একটি স্বাস্থ্যকর ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের তরুণদের প্রাপ্য। এর শুরুটা হবে শক্তিশালী তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের মধ্য দিয়েই। কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা প্রস্তাব দেন এই নিম্ন স্তরের সিগারেটের দাম বাড়ালে নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যম আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কার্যকরভাবে কমে যাবে। ফলে তাদের মধ্যে তামাক সেবনের হার হ্রাস পাবে।

তামাক পণ্যের নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৬টি প্রস্তাবনা উপস্থাপন করে ডব়্প। এসব প্রস্তাবনার মধ্যে রয়েছে- খুচরা সিগারেটের বিক্রয় নিষিদ্ধ করা, বিক্রয় স্থানে তামাক পণ্যের দৃশ্যমানতা সীমিত করে বিজ্ঞাপন কমানো, তামাক কোম্পানির কর্পোরেট সামাজিক দায়িত্ব উদ্যোগ নিষিদ্ধ করা, ইলেকট্রনিক সিগারেট এবং অন্যান্য নতুন তামাক পণ্যের আমদানি, উৎপাদন এবং বিপণন নিষিদ্ধ করা, তামাকের সমস্ত রকম খুচরা এবং খোলা বিক্রয় নিষিদ্ধ করা, তামাক প্যাকেজিংয়ের গ্রাফিক স্বাস্থ্য সতর্কীকরণ ৫০ শতাংশ বাড়িয়ে ৯০ শতাংশ করা এবং তামাক ব্যবহারের বিপদ সম্পর্কে জনসাধারণের সচেতনতা বৃদ্ধি করা।

কর্মশালায় বর্তমান তামাক করের কার্যকারিতা, এই কর বাড়ানোর স্বাস্থ্য এবং অর্থনৈতিক সুবিধা, তামাক ব্যবহারের বিরুদ্ধে কৌশল এবং তামাক সেবনের সাথে সম্পর্কিত বিস্তৃত স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়।