তিন মাসের বকেয়া বেতনের দাবিতে গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছে পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। মঙ্গলবার (১ অক্টোবর) সকাল থেকে কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা কারখানায় কাজ বন্ধ রেখে মহাসড়ক অবরোধ করে। সকাল থেকে চৌরাস্তা এলাকায় বিক্ষোভ শুরু করলে চন্দনা চৌরাস্তা থেকে ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ৯ কিলোমিটার যানজট সৃষ্টি হয়।
জানা যায়, গাজীপুরের চৌরাস্তা এলাকার ডিলাস ফ্যাশন লি. কারখানার মালিক গত তিন মাস আগে নোটিশ দিয়ে কারখানা বন্ধ করে চলে যায়। শ্রমিকের তিন মাসের বকেয়া বেতন না দেওয়ায় শ্রমিকরা এ আন্দোলন করেন।
মঙ্গলবার সকালে এপারেল প্লাস লিমিটেড কারখানার শ্রমিকরা আশেপাশের কয়েকটি কারখানায় গিয়ে শ্রমিকদের কাজ বন্ধ রেখে তাদের সঙ্গে আন্দোলনে যোগ দেওয়ার জন্য আহ্বান জানায়। এক পর্যায়ে চন্দনা চৌরাস্তা এলাকার বেশ কয়েকটি কারখানা বিশৃঙ্খলা এড়াতে শ্রমিকদের ছুটি দিয়ে দেয়।
পরে বেশ কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে এসে সড়কে অবরোধ করে। এ সময় মহাসড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের যানজটের প্রভাবে ভোগরা বাইপাস হয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কেও কয়েক কিলোমিটার তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের এসপি সারোয়ার আলম বলেন, মহাসড়ক অবরোধ সৃষ্টিকারী পোশাক কারখানার শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য শিল্প পুলিশ কাজ করছে। খবর পেয়ে সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে শ্রমিকদের সাথে কথা বলছেন।
বাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, শ্রমিকদের বেতন সংক্রান্ত দাবি নিয়ে সোমবার রাত থেকেই বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করে আসছে। শ্রমিকদের দাবির বিষয়টি নিয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে শিল্প পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যসহ আমরা আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। আশা করি দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে।
অপরদিকে আশুলিয়ায় শ্রমিক বিক্ষোভের কারণে বাইপাইল থেকে গাজীপুরের চন্দ্রা মোড় পর্যন্ত অন্তত ১০ কিলোমিটার যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
এর আগে সোমবার রাত সাড়ে টার দিকে পোশাক কারখানার শ্রমিকরা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে। পরে শিল্প পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করলে রাত একটার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের যানজট স্বাভাবিক হয়।