গতকাল মঙ্গলবার ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। ইসরায়েলি ভূখণ্ডে প্রায় ১৮০টির মতো ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে দেশটি।
যদিও ইরানের এ হামলায় ইসরায়েলে বড় কোন ক্ষয়ক্ষতির খবর এখনো পাওয়া যায়নি। তবে ইসরায়েলের বিমানঘাঁটি ও গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সদর দপ্তর লক্ষ্য করেই হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার ভিডিও এবং নানা রকম তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের ওপর ভিত্তি করে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যমটি।
ভিডিও বিশ্লেষণ করে সিএনএন জানায়, মোসাদের সদর দপ্তর, নেগেভ মরুভূমির নেভাটিম বিমানঘাঁটি এবং তেল নোফ বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে উল্লেখযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছিল।
ভিডিওতে দেখা যায়, দক্ষিণ ইসরায়েলের নেগেভ মরুভূমিতে অবস্থিত নেভাটিম বিমানঘাঁটিতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ইরানি রকেট আঘাত হানছে। ইসরায়েলের অন্যতম বৃহত্তম স্থাপনা এটি। এছাড়া আরেকটি ভিডিওতে তেল আবিব থেকে ১৫ মাইল দক্ষিণে তেল নোফ ঘাঁটিতেও বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্রর প্রভাব দেখা যায়।
ভিডিওগুলোতে বেশ কয়েকটি রকেটের ধোঁয়ার রেখা বিমানঘাঁটিগুলোর দিকে পড়তে দেখা যায়। সে সময় পেছনে সাইরেন বাজার শব্দ শোনা যায়। সে সময় ঘাঁটিগুলো থেকেই পাল্টা ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র উড়ে যেতে দেখা যায়।
আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায় যে, অন্তত দুটি ক্ষেপণাস্ত্র তেল আবিবের গ্লিলট এলাকায় মোসাদ সদর দপ্তরের কাছাকাছি আঘাত হেনেছে। এলাকাটি একটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা যেখানে বেশ কয়েকটি আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনও রয়েছে।
তবে দিনের আলো না থাকায় হামলায় বিমানঘাঁটিগুলোর ঠিক কী পরিমাণ ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে তা স্পষ্ট নয় বলে জানিয়েছে সিএনএন। এ বিষয়ে ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করলেও কোন মন্তব্য করেনি তারা।
চলতি বছরের ১৩ এপ্রিলে ইসরায়েলি ভূখণ্ডে ইরানের প্রথমবারের হামলার সময় একই ঘাঁটিতে আঘাত হেনেছিল ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র। সে হামলায় কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র এই ঘাঁটিতে আঘাত হেনেছিল বলে জানিয়েছিলেন ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ড্যানিয়েল হাগারি। ওই হামলায় রানওয়ের কাছে একটি এলাকাসহ অবকাঠামোতে সামান্য ক্ষতি হয়।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বিমানঘাঁটি এবং মোসাদের সদর সপ্তর ছাড়াও মধ্য ইসরায়েলের শহর গেদেরার একটি স্কুলের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে সিএনএন। তবে স্কুলের সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় সেখানে কোন শিক্ষার্থী ছিল না। যার কারণে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।