থানা থেকে আ. লীগ নেতাকে ছাড়িয়ে আনার বিষয়ে যা বললেন বিএনপি নেতা

চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য এবং দেওয়ান বাজারের সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর পেয়ার মোহাম্মদকে অফলোড করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তাকে অফলোড করা হয়। এরপর তাকে হস্তান্তর করা হয় নগরের পতেঙ্গা থানায়। পরে তাকে থানা থেকে নগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল মান্নান ছাড়িয়ে আনেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

পতেঙ্গা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ফরিদুল আলম বিষয়টি অস্বীকার করে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পুলিশ গত মঙ্গলবার সন্ধ্যার পরে পেয়ার মোহাম্মদ নামের কোনো আওয়ামী লীগ নেতাকে আমাদের কাছে হস্তান্তর করেনি।’

আওয়ামী লীগের ওই নেতাকে বিমানবন্দরে অফলোড করে থানায় হস্তান্তরের বিষয়টি বুধবার রাত সোয়া ১০টার দিকে দেশ রূপান্তরকে নিশ্চিত করেন চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা ইব্রাহিম খলিল।

ইমিগ্রেশন পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিমানের একটি ফ্লাইটে তিনি দুবাই হয়ে পাকিস্তান যাচ্ছিলেন পেয়ার মোহাম্মদ। কিন্তু তার বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলা থাকায় অফলোড করে পরে তাকে নগরের পতেঙ্গা থানায় হস্তান্তর করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। পেয়ার মোহাম্মদ গাউসিয়া কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। 

জানা গেছে, নগর আওয়ামী লীগ নেতা পেয়ার মোহাম্মদের বিরুদ্ধে গত ১৭ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের সিএমএম আদালতে নাশকতার অভিযোগে মামলা দায়ের হয়। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টা ১০মিনিটে পাকিস্তানের পীর আল্লামা তাহের শাহ (র.) হুজুরের ছেলের সঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনন্স’র বিজি-১৪৭ ফ্লাইটে পাকিস্থান যাওয়ার সময় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ পেয়ার মোহাম্মদকে অফলোড করে পতেঙ্গা থানায় হস্তান্তর করা হয়। পরে থানা  থেকে তাকে নিজ জিম্মায় ছাড়িয়ে আনেন মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল মান্নান। 

আওয়ামী লীগ নেতা পেয়ার  মোহাম্মদকে থানা থেকে ছাড়িয়ে আনার অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপি নেতা আবদুল মান্নান বলেন, ‘বিমানবন্দরে অফলোডের পর আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকে ছাড়িয়ে আনতে আমি থানায় যাইনি।’ 

ইমিগ্রেশন পুলিশ অফলোড করার বিষয়টি স্বীকার করে গাউছিয়া কমিটির চেয়ারম্যান পেয়ার মোহাম্মদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি গাউসিয়া কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে হুজুর কেবলা যখন চট্টগ্রামে আসেন তখন আমি পাকিস্তান গিয়ে তাদের সাথে নিয়ে আসি এবং সফর শেষে পাকিস্তান চিরিকোট দরবারে পৌঁছে দিয়ে আসি। দীর্ঘদিন ধরে এমনটাই করে আসছি। এবারও একইভাবে হুজুর কেবলাকে পাকিস্থান দিয়ে আসতে যাচ্ছিলাম। বিমানে ওঠার জন্য অপেক্ষা করছিলাম। এ সময় ইমিগ্রেশন পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তা আমার বিরুদ্ধে আদালতে একটা মামলা আছে জানিয়ে বিদেশ যেতে বর্হিগমন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে আসতে বলেন। পরে তারাই আমাকে বাড়ি পৌঁছে দেন।  আমাকে গ্রেপ্তার বা আটক করে পতেঙ্গা থানায় হস্তান্তরের কোনো ঘটনা ঘটেনি।’