২০১৪ নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথমবার অংশ নিতে গিয়ে স্থান নির্ধারণী ম্যাচে আয়ারল্যান্ডকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। এই ফরম্যাটের বৈশ্বিক আসরে ওটাই ছিল প্রথম আর শেষ জয়। পরের বছর থেকে জাতীয় দলে খেলে আসছেন নিগার সুলতানা জ্যোতি। চারটি বিশ্বকাপ খেলা হলেও জয়ের মুখ দেখেননি বলে আফসোস করছিলেন বিশ্বকাপ খেলতে আমিরাতে যাওয়ার আগে সংবাদ সম্মেলনে। বলেছিলেন, সেই আক্ষেপটা ঘুচাতে চান তিনি।
আজ শারজায় নিজের ১০০তম ম্যাচে স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে সেই আক্ষেপ ঘুচিয়েছেন জ্যোতি। জয়ের পর তাই আবেগ ছুয়ে যাচ্ছিল তাকে। খুশির কান্না কাদছিলেন তিনি শারজা ক্রিকেট স্টেডিয়ামের ডাগআউটে বসে।
ম্যাচের পর জ্যোতি, 'আমরা অনেক দিন ধরে এই মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। আমাদের মনে ছিল, এটাই আমাদের সময়। এই জয় আমাদের জন্য অনেক অর্থবহ। এই ধরনের উইকেটে মানিয়ে নেওয়া জরুরি ছিল, এবং শুরুতে ব্যাট করা মোটেও সহজ ছিল না। তবে রানী ও মোস্তারির পার্টনারশিপ আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আমরা একটি ভালো স্কোর দাঁড় করিয়েছিলাম, এবং আমাদের নিজেদের উপর আত্মবিশ্বাস ছিল।'
বাংলাদেশের শক্তিশালী স্পিন আক্রমণের কথা তুলে ধরে নিগার আরও বলেন, 'আমাদের স্পিন আক্রমণ খুবই ভালো, এবং মারুফাও দুর্দান্ত পারফর্ম করেছে। তাই আমরা বিশ্বাস রেখেছিলাম যে আমরা আমাদের স্কোর ডিফেন্ড করতে পারব। আমরা কিছুটা আলাদা কৌশল নিয়ে কাজ করছি, যেমন আমি নিচে ব্যাট করছি। তাজ (নেহার) শেষ দুটি প্রস্তুতি ম্যাচে ভালো খেলেছিল, এবং পরিকল্পনা ছিল সে কিছু বাউন্ডারি মারবে। যদিও তা সম্ভব হয়নি, তবে আমরা যেভাবে গতি পেয়েছি, তাতে আমি খুশি। মেয়েদের হাসি আমার জন্য সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা।'
১১৯ রান ডিফেন্ড করতে গিয়ে সবাই ভালো বল করেছেন। তবে সবার চেয়ে ভালো করেছেন রিতু মণি। ৪ ওভারে ১৫ রানে দুই উইকেট নিয়ে হয়েছেন ম্যাচ সেরা। আমিরাতে ক্রিকেট অবকাঠামো দেখতে দেশটি সফরে যাওয়া ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের কাছ থেকে ম্যাচ সেরার পুরস্কার নেয়ার পর রিতু বলেছেন, 'উইকেট মোটামুটি ভালো ছিল, তাই আমি চেষ্টা করেছি সঠিক লাইনে বল করে আমার বৈচিত্র্য কাজে লাগাতে। আমরা গত বছর অনেক পরিশ্রম করেছি, এবং সেই পরিশ্রম আজ ফল এনে দিয়েছে। এটি আমার এবং দলের জন্য অত্যন্ত গর্বের মুহূর্ত। আমরা কন্ডিশন বুঝে আমাদের শক্তির উপর নির্ভর করে বল করার পরিকল্পনা করেছিলাম। কন্ডিশন অনুযায়ী বল করা এবং প্রতিপক্ষকে চাপে রাখা আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল।'