এই দিনে

১৯৭৪ সালের ৪ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত চিন্তাবিদ ও রাজনীতিক আবুল হাশিম। তিনি পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার কাশিয়ারা গ্রামে ১৯০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা আবুল কাসেম (১৮৭২-১৯৩৬) ছিলেন বর্ধমানের কংগ্রেস নেতা। আবুল হাশিম বর্ধমান রাজ কলেজ থেকে স্নাতক ও কলকাতা বিশ^বিদ্যালয় থেকে বিএল ডিগ্রি নিয়ে বর্ধমান জেলা কোর্টে আইন ব্যবসা শুরু করেন। তিনি রাজনীতিতে যোগ দিয়ে বর্ধমান থেকে বঙ্গীয় আইন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। বর্ধমান মুসলিম লীগের সভাপতি হিসেবে তিনি এলাহাবাদে অনুষ্ঠিত সর্বভারতীয় মুসলিম লীগ সম্মেলন এবং ১৯৪০ সালে সর্বভারতীয় মুসলিম লীগের লাহোর সম্মেলনে যোগ দেন। ১৯৪৩ সালে তিনি বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। বাংলায় মুসলিম লীগকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি ছিলেন ১৯৪৭ সালের ‘অবিভক্ত স্বাধীন বাংলা’ পরিকল্পনার অন্যতম রূপকার। ভারত বিভাগের পর তিনি পশ্চিমবঙ্গ প্রাদেশিক আইনসভায় বিরোধী দলের সংসদীয় নেতা নির্বাচিত হন। ১৯৫০ সালে তিনি ঢাকায় স্থায়ী হন। ভাষা আন্দোলনেও সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল তার। সমসাময়িক রাজনৈতিক দলগুলোর মতাদর্শের সঙ্গে নিজেকে খাপ খাওয়াতে না পেরে হাশিম ‘খিলাফত-ই-রব্বানী পার্টি’ নামে একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেন। ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত তিনি এ দলের সভাপতি ছিলেন। বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় তিনি বেশ কয়েকটি বই লিখেছেন। তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হচ্ছে ঞযব ঈৎববফ ড়ভ ওংষধস, ওহ জবঃৎড়ংঢ়বপঃরড়হ, অং ও ংবব রঃ, অৎধনরপ গধফব ঊংংধু ইত্যাদি।