গত এক সপ্তাহ ধরে ডিম ও কাঁচা মরিচ বিক্রি হয়ে আসছে চড়া দামে। নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যের দাম বাড়ার কারণে বিপাকে পড়েন মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষরা। এমতাবস্থায় ডিম ও কাঁচা মরিচসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে গতকাল অভিযানে নামে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দুটি টিম। এছাড়াও ভোক্তা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা প্রতিনিয়ত রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। ফলে গতকালের চেয়ে কেজিতে ১০০ টাকা কমেছে মরিচের দাম আর ডিমের দাম ১০ টাকা কমে ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকায়। তবে ডিম ও মরিচের দাম কমলেও বেড়েছে সব ধরনের সবজির দাম।
আজ সোমবার (৭ অক্টোবর) সরেজমিন রাজধানীর কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গতকাল পর্যন্ত ব্রয়লার মুরগির লাল ও ফার্মের সাদা ডিম ডজনে বিক্রি হয় ১৭০ টাকায়। একদিনের ব্যবধানে সেই ডিমের দাম কমেছে ১০ টাকা। এখন ডজনে সাদা ও লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা ডজনে। তবে পাড়া-মহল্লায় ১৬৫ টাকাতেও ডিম বিক্রি করতে দেখা গেছে। এদিকে টানা বৃষ্টির অযুহাতে গত কয়েকদিনে এক লাফে কাঁচা মরিচের দাম কেজিতে বাড়ে ১৫০ টাকা। গতকাল পর্যন্ত রাজধানীর কারওয়ান বাজারে কাঁচা মরিচ কেজিতে বিক্রি হয়েছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায়। কিন্তু আজ মরিচ ভেদে কেজিতে কাঁচা মরিচের দাম কমেছে ১০০ টাকা। লম্বা হাইব্রিট কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকা, আর দেশি মরিচ বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা কেজিতে। নিত্যপ্রয়োজনীয় এই দুই পণ্যের দাম কিছুটা কমায় স্বস্থির কথা জানিয়েছেন ক্রেতারা। তবে সব ধরনের সবজির দাম গতকালের থেকে কিছুটা বাড়ায় ক্ষোভ জানিয়েছেন অনেক ক্রেতা।
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বাজার করতে আসা মোছা. রানী খাতুনের কাছে সবজির দামের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আজ কাঁচা মরিচ ও ডিমের দাম কিছুটা কমেছে। তবে বেগুন, ঢেঁড়শ, করলাসহ অন্যান্য সব সবজির দাম কিছুটা বেড়েছে। ৮০ টাকার নিচে কোন সবজি পাওয়া যাচ্ছে না। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের বাজার নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর হওয়ার দাবি জানান তিনি। যেভাবে ডিমের দাম কমেছে সেভাবে এসব জিনিসের দামও কমা সম্ভব, যদি কঠোর হস্তে সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করা যায়।’
কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা গেছে, খুচরা বাজারে আজ মুলা বিক্রি হচ্ছে ৬০-৭০ টাকা কেজিতে, গোল সবুজ বেগুন ১২০, কালো গোল বেগুন ১১০, কালো লম্বা বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়। ঢেঁড়শ কেজিতে বিক্র্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়, গতকাল যা বিক্রি হয়েছে ৬০ টাকায়। একদিনের ব্যবধানে বেড়েছে ২০ টাকা। কচু বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা কেজিতে যা গতকাল বিক্রি হয়েছে ৬০ টাকায়। করলার গতকাল বিক্রি হয়েছে ৮০ টাকা কেজিতে, অথচ আজ তা বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা কেজি দরে। এছাড়াও পটল ৮০ টাকা কেজিতে, লাউ প্রতি পিস ৮০, সিম ২৪০ টাকা এবং পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা কেজিতে। প্রায় সব রকমের সবজি দাম গতকালের চেয়ে কেজিপ্রতি বেড়েছে ১০ টাকা।
এদিকে একদিনের ব্যবধানে ডিমের দাম কমার বিষয়ে জানতে চাইলে কারওয়ান বাজার ডিম বিক্রেতা মো. মজিবুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা প্রতিদিন তেজগাঁও থেকে পাইকারিতে ডিম কিনে থাকি। সেখানেই ২৪ ঘন্টার জন্য ডিমের মূল্য নির্ধারণ করে থাকেন আড়তদাররা। আজ ডজনে ডিম ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কারণ সেখানে আমরা গতকালের চেয়ে বান্ডিলে কমে ডিম কিনতে পেরেছি। তাই আমরা খুচরা পর্যায়ে কমে ডিম করতে পারছি।’
একদিনের ব্যবধানে প্রায় সব রকমের সবজির দাম বাড়ার বিষয়ে একাধিক বিক্রেতার সঙ্গে কথা হলে তারা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘টানা বৃষ্টির কারণে সব রকমের সবজির সরবরাহ কম। তাই সবজির দাম বেড়েছে। এতে আমাদের কিছুই করার থাকে না। আমরা পাইকারিতে যেভাবে কিনি, তার থেকে কিছুটা লাভ করে বিক্রি করি। পাইকারি পর্যায়ে দাম কমলে আমরাও কম দামে বিক্রি করতে পারি। গতকালের চেয়ে আজ কমবেশি সব সবজির দাম কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে। তবে কমেছে কাঁচা মরিচের দাম।’