গাজীপুরের শ্রীপুরে মৃত্যুর ১০ দিন পর হত্যা মামলার আসামি হয়েছেন এক ব্যক্তি। তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতেন। গত ২৫ সেপ্টেম্বর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান এবং গত শুক্রবার শ্রীপুর থানায় একটি হত্যা মামলা তাকে আসামি করা হয়।
মৃত ব্যক্তি মামলায় আসামি হওয়ার খবরে উপজেলা জুড়ে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের মাঝে হইচই পড়ে গেছে। এতে মৃত ব্যক্তির স্বজনরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি অন্তত ১০ দিন আগে তার মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর দশ দিন পর একটি হত্যা মামলার আসামি হলেন মৃত ব্যক্তি।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্রজনতার আন্দোলনে গুলিতে নিহত এক কলেজ ছাত্রের বাবা বাদী হয়ে দুই শতাধিক লোককে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। গত শুক্রবার (৪ অক্টোবর) শ্রীপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়েছে।
আসামি মৃত ব্যক্তির নাম আবুল কালাম আজাদ (৬০) । গত ১০ দিন আগে আচমকা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান। তার বাড়ি কাওরাইদ ইউনিয়নের ধামলই গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের মৃত শহর আলীর ছেলে ও কাওরাইদ ইউনিয়নের আ.লীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক ছিলেন।
এ দিকে গত ৫ আগস্ট ছাত্রজনতার আন্দোলন চলাকালে ছোঁড়া গুলিতে নিহত হন কলেজ ছাত্র আসীর ইনতিশারুল। এ ঘটনায় তার বাবা মামলা দায়ের করেন।
প্রায় দুই মাস পর নিহত কলেজ ছাত্রের বাবা এনামুল বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। এতে আড়াই শতাধিক আ.লীগ নেতা-কর্মীকে আসামি করা হয়েছে। ওই মামলায় ১৭০ নম্বর আসামি করা হয়েছে আবুল কালাম আজাদ ওরফে কালা মিয়াকে।
মৃত আবুল কালাম আজাদের ছেলে আলমগীর হোসেন বলেন, তার বাবা আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতেন । গত ২৫ সেপ্টেম্বর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা গেছেন। ক্ষোভ প্রকাশ করে ছেলে বলেন, ‘মারা যাওয়া একজন মানুষকেও মামলায় আসামি করতে হয় এটা আমরা বুঝতে পারলাম। এমন রাজনীতি আমরা করি এ দেশে। পুলিশও এমন একটি মামলা নিল।‘
স্থানীয় ইউপি সদস্য আলম খান বলেন গত ২৫ সেপ্টেম্বর আবুল কালাম আজাদ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং পরে সেখানে তার মৃত্যু হয়। ওইদিনই তার জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। ইউপি সদস্যের দাবি, ওই ব্যক্তির জানাজার নামাজে তিনিসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন। এমন কাণ্ড সবাইকে হতাশ ও বিস্মিত করেছে।
এদিকে পুলিশ বলছে মামলার বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) কালিয়াকৈর সার্কেল আজমীর হোসেন বলেন, ‘মামলার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।‘