চট্টগ্রামে র্যাবের হাতে আটক হওয়া যুবক বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে গত ১৮ জুলাই নগরের মুরাদপুর এলাকায় ছাত্র-জনতার ওপর গুলি বর্ষণকারী যুবলীগ কর্মী এইচ এম মিঠু নন। যাকে আটক করা হয়েছে, তার নাম কাজী জাহিদুল আলম মিঠু। পেশায় তিনি গাছ ব্যবসায়ী। তার নামে থানায় কোনো মামলাও নেই। গত রোববার রাতে নগরের চান্দগাঁও কাপ্তাই রাস্তার মাথা থেকে তাকে আটক করে র্যাব-৭।
গতকাল সোমবার র্যাবের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অস্ত্রধারী সেই যুবলীগ কর্মী এইচ এম মিঠুকে আটক করা হয়েছে। তবে তাকে থানায় সোপর্দ করা হলে যাচাই-বাছাই করে পুলিশ বলছে, র্যাবের হাতে আটক ব্যক্তি সেই যুবলীগ কর্মী এইচ এম মিঠু নন। অস্ত্রধারী মিঠুর চেহারার সঙ্গে র্যাবের হাতে আটক আসামির ছবির মিল নেই।
তবে আটক ওই ব্যবসায়ীকে গত মে মাসে চান্দগাঁও থানায় দায়ের হওয়া মারধরের অন্য একটি মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে আদালতে চালান দেয় পুলিশ। গতকাল সোমবার বিকেলে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আলমগীর হোসেনের আদালতে তাকে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে কাজী জাহিদুল আলমকে জামিন দেন আদালত।
এদিকে সোমবার বিকেলে জামিনে মুক্তির পর কাজী জাহিদুল আলম বলেন, ‘র্যাব আমাকে ধরে নিয়ে গেল। কিছুই বুঝতে পারিনি। বারবার বলার পরও তারা আমাকে অস্ত্রধারী বলে থানায় দিয়েছে। মিডিয়ায় আমার ছবিও দিয়েছে। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই।’
জানা গেছে, কাজী জাহিদুল আলমের বাড়ি নগরের পশ্চিম মোহরা এলাকায়। কাপ্তাই রাস্তার মাথা এলাকায় তার একটি গাছের দোকান আছে। র্যাব-৭ এর সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) কাজী শরীফ উল আলম বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তি স্বীকার করেছেন, তিনিই অস্ত্রধারী এইচ এম মিঠু।’
প্রসঙ্গত, গত ১৮ জুলাই নগরের মুরাদপুর এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচিতে গুলিতে আহত হয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হৃদয় চন্দ্র তরুয়া। গত ২৩ জুলাই ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। এই ঘটনায় গত ২০ সেপ্টেম্বর নিহত হৃদয় তরুয়ার বন্ধু আজিজুল হক বাদী হয়ে চান্দগাঁও থানায় মামলা করেন। এতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানা, আ. লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, অস্ত্রধারী যুবলীগ কর্মী এইচ এম মিঠুসহ ২০৬ জনকে আসামি করা হয়। সেদিনে হামলার সময় অস্ত্রসহ ঘটনাস্থলে যুবলীগ কর্মী মিঠুর অবস্থানের ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন গণমাধ্যমেও অস্ত্রসহ মিঠুর ছবি প্রকাশিত হয়।
পুলিশ জানায়, হৃদয় চন্দ্র তরুয়া হত্যা মামলার অন্যতম আসামি এইচ এম মিঠু নগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনির অন্যতম সহযোগী। তার বিরুদ্ধে অন্তত ১৪টি মামলা রয়েছে।
চান্দগাঁও থানার ওসি আফতাব উদ্দিন বলেন, ‘র্যাব আসামি হস্তান্তরের পর পুলিশ যাচাই-বাছাই করে দেখে নিশ্চিত হয়, তিনি প্রকৃত অস্ত্রধারী এইচ এম মিঠু নন। র্যাব যে আসামি ধরেছে, তার বিরুদ্ধে থানায় আগের কোনো মামলা নেই। তিনি কোনো রাজনীতির সঙ্গেও জড়িত নন। তাই তাকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গুলিতে নিহত হৃদয় চন্দ্র তরুয়া হত্যা মামলায় আদালতে পাঠানো হয়নি। তাকে অন্য একটি মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।’ প্রকৃত অস্ত্রধারী আসামি এইচ এম মিঠুকে গ্রেপ্তারের অভিযান চলছে বলেও জানান ওসি।