টি-টোয়েন্টি থেকে অবসরের ঘোষণা মাহমুদউল্লাহর

টি-টোয়েন্টি থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। আজ দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনে মাহমুদউল্লাহ জানিয়েছেন ভারতের বিপক্ষে হায়দ্রাবাদে ১২ অক্টোবর সিরিজের শেষ ম্যাচটি হবে তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ টি-টোয়েন্টি।

নিজের অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে মাহমুদউল্লাহ বলেন, 'ভারত সিরিজের অনুশীলন শুরুর সময়ই এসব নিয়ে আলচনা করা শুরু করেছিলাম। পরিবার শুরুতে বোঝেনি, তারা ভেবেছিলো এটা সঠিক সময় নয়। আমি নানাভাবে পরিবারকে বুঝিয়েছি, এরপর তারা বুঝেছে। তারপর আমি বোর্ড সভাপতি এবং নির্বাচকদের সঙ্গে কথা বলেছি।'

২০০৭ সালের সেপ্টেম্বরে নাইরোবিতে কেনিয়ার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি অভিষেক হয় মাহমুদউল্লাহর। এই ফরম্যাটে বাংলাদেশকে বেশ কিছু সাফল্য এনে দিয়েছেন এই অলরাউন্ডার। ১৩৯ টি টোয়েন্টির ক্যারিয়ারে ১১৭.৭৪ স্ট্রাইক রেটে ২ হাজার ৩৯৫ রান করেছেন তিনি। ব্যাটিং গড় ২৩.৪৮।

টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে বাংলাদেশকে নেতৃত্বও দিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ। এই ফরম্যাটে বাংলাদেশকে সবচেয়ে বেশি ম্যাচে নেতৃত্ব দেওয়ার রেকর্ডও তার। ২০১৮ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ৪৩টি টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের হয়ে টস করতে নেমেছেন মাহমুদউল্লাহ।

দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনে মাহমুদউল্লাহ

অনেকদিন ধরেই ফর্ম-ফিটনেস নেই মাহমুদউল্লাহর। গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে ধীরগতির ব্যাটিং ক্রিকেটবিশ্বেই ব্যাপক সমালোচিত হয়েছে। সেই বাজে ফর্মের পরও তাকে ভারত সফরের দলে রাখা হয়। সেটা নিয়েও সমালোচনা হয়। অবশ্য এই সিরিজ শুরুর আগে মাহমুদউল্লাহর টি-টোয়েন্টি ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।

মাহমুদউল্লাহ টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় বলেছেন ২০২১ সালের জুলাইয়ে। সেই ম্যাচে সেঞ্চুরি করে নাটকীয়ভাবে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন। 

মাহমুদউল্লাহর আগে ভারতে সিরিজ চলাকালে সাকিব আল হাসান জানান, তিনি সাদা বলের সংক্ষিপ্ত এই ফরম্যাটে শেষ ম্যাচ খেলে ফেলেছেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। মুশফিকুর রহিম, তামিম ইকবাল ও মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা আগেই অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন টি-টোয়েন্টি থেকে। তাই এই ভারত সিরিজের পর বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি অধ্যায়ে পঞ্চপান্ডবের ইতি ঘটতে যাচ্ছে।