বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ও অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অভিযোগে রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হয়েছেন নাফিস মো. আলম ওরফে ডন। তার দেওয়া তথ্যে মো. সুজন নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে দিয়াবাড়ি আর্মি ক্যাম্পের সেনা সদস্যরা। গত সোমবার মধ্যরাতে যৌথ বাহিনীর অভিযানে গ্রেপ্তার হন এই দুজন।
মঙ্গলবার (০৮ অক্টোবর) গ্রেপ্তারের বিষয়টি দেশ রুপান্তরকে নিশ্চিত করেছেন খিলক্ষেত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মো. আজহারুল ইসলাম। তিনি বলেন, নাফিসের সঙ্গে সুজন নামে আরোও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র আইনে দুটি মামলা হয়েছে খিলক্ষেত থানায়।
খিলক্ষেত থানা-পুলিশ বলছে, সোমবার মধ্যরাতে অভিযান পরিচালনার সময় বনানী ১১-এর সেলসিয়াস শিসা বারের সামনে থেকে অস্ত্রসহ আটক হন নাফিস মো. আলম ডন। পরবর্তীতে তার খিলক্ষেতের ফ্ল্যাট থেকে মো. সুজন নামে আরো একজন সহযোগীকে আটক করা হয়। এ সময় দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মদ, বিয়ার, শিসা সেবনের স্ট্যান্ড, ফয়েল পেপার, বিভিন্ন মদের ডিলারদের তথ্য সংবলিত ডায়েরি, ওয়াকটকি সেট, সিগন্যাল লাইট, সিসি ক্যামেরা, ল্যাপটপ, ইলেক্ট্রিক ডিভাইস, নগদ অর্থ ইত্যাদি জব্দ করে দিয়াবাড়ি সেনা ক্যাম্প ও খিলক্ষেত থানা পুলিশের যৌথবাহিনী।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নাফিস মো. আলমের বাংলাদেশ ও কানাডার দ্বৈত নাগরিকত্ব রয়েছে। কানাডার পাসপোর্ট দেখিয়ে তিনি দেশে ফরেনার হিসেবে ঘুরে বেড়ান। রাজধানীতে গড়ে তুলেছেন বিদেশি মদের বিশাল ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য। বনানী-১১ এর সেলসিয়াস শিসা বার, একই রোডের বনানী ফার্মাসিসহ তিনি বেশ কিছু নামিদামি বার ও ক্লাবে মদ সরবরাহ করতেন। ‘সিন্ডিকেট ইন্টারন্যাশনাল’ নামে তার নিজস্ব মদ সরবরাহের কোম্পানি আছে।
জানা যায়, বসুন্ধরা, বারিধারা, গুলশান বনানী, উত্তরা এলাকাসহ ঢাকার বেশ কিছু স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের মাঝেও তার এই কোম্পানির নামে মদ বিক্রি করা হয়। তিনি নিজেকে ডন বলে পরিচয় দিতে বেশি পছন্দ করেন। তার ফেসবুকের প্রোফাইলে দেখা যায়, জনসমক্ষে অস্ত্র, মদ, নারী ইত্যাদি নিয়ে উন্মাদনা করতে ৷
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর থানা থেকে লুট হওয়া পুলিশের পিস্তলগুলোর মধ্যে একটি নাফিসের কাছে থেকে উদ্ধার করা হয়। তবে কোন থানা থেকে এটি লুট করা হয়েছে সে বিষয়ে তদন্ত চলছে। নাফিসের এই সাম্রাজ্যে জড়িত রয়েছে তার স্ত্রীসহ আরো অনেকেই।
দিয়াবাড়ি সেনা ক্যাম্পের মেজর খন্দকার জাহিদুল হক বলেন, ‘নাফিসকে গ্রেপ্তার করার জন্য আমরা অনেকদিন ধরে চেষ্টা করছিলাম। তাকে গ্রেপ্তার করার মাধ্যমে মাদক চোরাকারবারিদের প্রতি আমরা একটি শক্ত বার্তা দিতে পেরেছি বলে আশাবাদী। আমাদের এই প্রচেষ্টা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।’ নাফিসের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হত্যা মামলাসহ আগের প্রায় ৭টি মামলা আছে।