২০১২ ও ২০১৬ বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন নির্বাচনে স্বতন্ত্র হিসেবে অংশ নিয়ে সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন তাবিথ আউয়াল। ২০২০ নির্বাচনেও হেঁটেছিলেন একাই। তবে উপনির্বাচনে হেরে যান। দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তরুণ এই সংগঠক ঘোষণা দিয়েছেন আসছে ২৬ অক্টোবর বাফুফের নির্বাচনে সভাপতি পদে নির্বাচন করার। ঘোষণার দিন যোগ্যদের নিয়ে একটা প্যানেল করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথাও বলেছিলেন। তবে মঙ্গলবার একটি সংবাদ মাধ্যমে তাবিথ বলেছেন, এখন পর্যন্ত তিনি নির্বাচনে আছেন স্বতন্ত্রভাবেই। ইঙ্গিতও দিয়েছেন একাই এগিয়ে যাওয়ার। সেই সঙ্গে বলেছেন, সভাপতি হতে পারলে বাদবাকি নির্বাচিতদের নিয়ে একটা টিমওয়ার্কের মধ্য দিয়ে দেশের ফুটবলকে এগিয়ে নেবেন।
বুধবার থেকে শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের নির্বাচনকে সামনে রেখে মনোনয়নপত্র বিতরণ। ৯, ১০ ও ১২ অক্টোবর তিন দিন আগ্রহী প্রার্থীরা ২১ পদের বিপরীতে সংগ্রহ করতে পারবেন মনোনয়নপত্র। তবে এখন পর্যন্ত বাফুফে নির্বাচন ঢেকে আছে কুয়াশার চাদরে। প্রতিবার দেখা যায় নির্বাচন-কেন্দ্রিক দুটি পক্ষ কিংবা প্যানেল সক্রিয় হয়ে ওঠে। তবে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান হয়নি কোনো প্যানেল। তাবিথ ছাড়াও সভাপতি পদে নির্বাচন করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছিলেন আরেক ক্রীড়া সংগঠক তরফদার রুহুল আমিন। রাজনৈতিক পালাবদলে সক্রিয় হয়ে ওঠা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) বেশ কজন অতি উৎসাহী নেতাকর্মীর সমর্থন নিয়ে তাবিথের আগেই সভাপতি প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন চট্টগ্রাম আবাহনীর ফুটবল পরিচালক রুহুল আমিন। তবে তাবিথের ঘোষণার পর থেকেই মুখে তালা এই ব্যক্তির। গুঞ্জন আছে, প্রভাব খাটিয়ে ২০২০ সালের মতো এবারও তরফদার রুহুল আমিনকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে একটি পক্ষ থেকে। এও শোনা যাচ্ছে নিজে নির্বাচন থেকে সরে গিয়ে নিজের ছেলে তরফদার সাইফকে তাবিথের সঙ্গে সহ-সভাপতি পদে নির্বাচন করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রুহুল আমিন। যদিও এখন পর্যন্ত নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার কোনো ঘোষণা আসেনি রুহুল আমিনের পক্ষ থেকে। তাকে সভাপতি হিসেবে সমর্থন দেওয়াদের বিশ্বাস শেষ পর্যন্ত রুহুল আমিন সভাপতি পদে প্রার্থী হবেন এবং তার নেতৃত্ব গঠন হতে যাওয়া প্যানেল জয়লাভ করবে।
এদিকে তাবিথ বুধবার মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করবেন জানিয়ে একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলকে বলেন, ‘আগামীকাল (আজ) যে কোনো সময় আমি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে নেব। এখন পর্যন্ত এটা নিশ্চিত যে, আমি একাই কোনো প্যানেল ছাড়াই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে যাচ্ছি।’ এরপর যোগ করেন, ‘প্যানেলের ব্যাপারে আসলে অনেক গুঞ্জনই থাকে। আমি এ ব্যাপারে কোনো বক্তব্য দিতে চাচ্ছি না। তবে এই মুহূর্তে প্যানেল নিয়ে কোনো পরিকল্পনা নেই। আমি অপেক্ষা করছি কারা কারা আগ্রহী নির্বাচন করার জন্য কোন কোন পদে। এরপর দেখব কারা কোন পদে আসতে চান বিবেচনা করব। তখন এটা প্যানেলের বিষয় আসতেও পারে আবার কোনো প্যানেল নাও হতে পারে।
প্যানেল না করার পেছনে যুক্তি দিতে অতীতকে টেনে এনেছেন তাবিথ, ‘এ রকম সিদ্ধান্ত নেওয়ার সেভাবে গুরুত্বপূর্ণ কোনো কারণ নেই। একটা চিন্তা হচ্ছে বিগত দুটি নির্বাচনে কিন্তু আমি এককভাবে অংশ নিয়ে নির্বাচিত হয়েছিলাম সহ-সভাপতি পদে। আমি কোনো প্যানেলে ছিলাম না। হয়তো অনেকে মনে করতে পারেন একটা টিম হয়ে কাজ করেছি। আসলে নির্বাচন করেছিলাম কোনো প্যানেলের বাইরে থেকে। এখন পর্যন্ত এবারও সেই ধারাটা রয়েছে। আমি অপেক্ষায় আছি কারা কোন পদে নির্বাচন করবেন এবং এগিয়ে আসবেন। তাদের নিয়েই একটা নির্বাহী কমিটি গঠিত হবে।’
তাবিথ এখনো ধোঁয়াশা রেখে দিলেন। তবে ১২ অক্টোবরের মধ্যেই অনেক কিছু পরিষ্কার হবে। এদিকে তরফদারকে সভাপতি প্রার্থী হিসেবে প্রস্তাব দেওয়া টাঙ্গাইল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের কাউন্সিলর ও ক্রীড়া সংগঠক আলী ইমাম তপন দাবি করেছেন তারা ভালোভাবেই আছেন নির্বাচনের মাঠে। বিভাগ, জেলা ও ক্লাবগুলো একাট্টা হয়ে একটা প্যানেল ঠিকই নির্বাচনে অংশ নেবে এবং সেই প্যানেলের নেতৃত্বে এখন পর্যন্ত আছেন তরফদার রুহুল আমিন, ‘কোনো রকম ভয়ভীতি আমাদের থামাতে পারবে না। বিগত ১৬ বছরে ফুটবল ধ্বংসের খলনায়ক কাজী সালাউদ্দিনের দোসররা আবারও চাচ্ছে ক্ষমতা আঁকড়ে ধরতে। আমরা তাই ঘোষণা দিয়েছি ঘরে বাইরে লড়াই চালিয়ে যাব। ঘরের লড়াই হলো নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ফুটবলের দায়িত্ব নেওয়া। আর বাইরের লড়াই হলো কুচক্রী, ফুটবল ধ্বংসকারী এবং আওয়ামী দালাল, হত্যাকারী হয়েও কাউন্সিলর হওয়ারা যাতে ভোট দিতে না আসতে পারে সেটা নিশ্চিত করা। আমরা তাদের পথরুদ্ধ করার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দিতে চাই। আমরা আশা করব জুলাই আন্দোলন যারা করেছেন, সেই ছাত্র-জনতা এই চিহ্নিত অপরাধীদের আবারও ফুটবলের স্বৈরাচারদের ভোট দিতে রুখে দাঁড়াবে। আমরা এখনো বিশ্বাস করি একটা প্যানেল হয়েই আমরা নির্বাচন করব। এখন পর্যন্ত তরফদার রুহুল আমিনকে সামনে রেখেই আমরা কাজ করছি। ১২ অক্টোবর দৃশ্যমান হবে আমাদের অবস্থান।’
তাবিথের একলা চলো নীতি, তরফদারের থাকা না থাকা নিয়ে ধোঁয়াশার মধ্য দিয়েই ২৬ অক্টোবর নির্বাচনের কিক-অফ হচ্ছে বুধবার।