ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে পাঠদান, দুর্ঘটনার শঙ্কায় শিক্ষার্থীরা

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শিদলাই আশরাফ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই চলছে পাঠদান। বিদ্যালয়ের চারটি ভবনের মধ্যে একটি পরিত্যক্ত, দুটি জরাজীর্ণ। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোতে দেওয়া হচ্ছে পাঠ। এতে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার শিকার হতে পারে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় বিদ্যালয়টির ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আর বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় ঝুঁকি নিয়েই পাঠদান করাচ্ছেন শিক্ষকরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বিদ্যালয়টিতে চারটি ভবন রয়েছে। এরমধ্যে বিদ্যালয়ের পূর্ব পাশের একটি ভবন বেশ কিছুদিন আগে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। বাকি তিনটি ভবনে শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলছে। তবে এই তিনটি ভবনের মধ্যে সাম্প্রতিক বন্যায় দুটি ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে। দেয়াল, ছাদ, পিলার ও বিমে ফাটল ধরেছে। মেঝে কিছুটা দেবে গেছে, আবার কোথাও গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও পলেস্তারা খসে পড়ে বেরিয়ে এসেছে রড।  

বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, ভবনগুলোতে ফাটল ধরায় শ্রেণিকক্ষের মধ্যে তারা আতঙ্কের মধ্যে থাকে। পাঠ নেওয়া অবস্থায় কখনো কখনো ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে। যার ফলে তারা পড়াশোনায় মনোযোগী হতে পারছে না। 

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মমিনুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘১৯৯৭-৯৮ অর্থবছরে এই বিদ্যালয়ের ভবনগুলো নির্মাণ করা হয়। ভবনগুলো ইতিমধ্যেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ দুটি ভবনে শিক্ষার্থীদের ক্লাস করতে হচ্ছে। অনেক বছর ধরে আমরা বিদ্যালয়ে একটি নতুন একাডেমিক ভবনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছি। তবে এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর লিখিতভাবে আবেদন করা হয়েছে।’ 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘শিদলাই আশরাফ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভবনগুলো আমাদের নজরে এসেছে। ইতোমধ্যে জেলা শিক্ষা প্রকৌশলীকে বিষয়টি অবগত করা হয়েছে। পাশাপাশি ঝুঁকিহীন জায়গায় শিক্ষার্থীদের ক্লাস করাতে বলা হয়েছে। আশা করছি, শিগগিরিই সেখানে নতুন ভবন ও মেরামতের জন্য বরাদ্দ পাবো।’