দাবা থেকে নোবেল জয়- হ্যাসাবিসের বিস্ময়কর যাত্রা

ডেমিস হাসাবিস, একজন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) গবেষক, স্নায়ুবিজ্ঞানী, এবং কম্পিউটার গেম ডিজাইনার হিসেবে পরিচিত হলেও, তার আরেকটি পরিচয় হলো দাবা মাস্টার। দাবার চালেও তিনি সিদ্ধহস্ত। ১৩ বছর বয়সেই ২৩০০ ইলো রেটিং নিয়ে ফিদে মাস্টার খেতাব অর্জন করেছিলেন তিনি, যা সেই সময়ের জন্য অসাধারণ এক সাফল্য ছিল। অনূর্ধ্ব-১৪ দাবাড়ুদের মধ্যে বিশ্বের দ্বিতীয় সেরা ছিলেন তিনি, তার সামনে ছিলেন কেবল কিংবদন্তি দাবাড়ু জুডিথ পোলগার, যিনি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ নারী দাবাড়ু হিসেবে বিবেচিত।

ডেমিসের দাবার প্রতি ভালোবাসা তাকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জগতে টেনে নিয়ে যায়। ছোটবেলা থেকেই দাবার মাধ্যমে নিজস্ব চিন্তাধারা এবং সমস্যার সমাধানের ক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করতে করতে তিনি এআই-তে গবেষণা শুরু করেন। তার এই পথচলা শেষ পর্যন্ত তাকে বিশ্বব্যাপী খ্যাতির দিকে নিয়ে যায়, বিশেষ করে যখন গুগলের ডিপমাইন্ড প্রজেক্টের মাধ্যমে তিনি প্রোটিনের কাঠামো ভবিষ্যদ্বাণী করার মডেল তৈরি করেন। এই মডেলের জন্য তিনি এবছর যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন। তার সঙ্গী হিসেবে এই পুরস্কারটি জিতেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ডেভিড বেকার এবং তার স্বদেশি জন জাম্পার।

সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ভ্লাদিমির ক্রামনিকের সঙ্গে মস্তিস্কের লড়াইয়ে ডেমিস হ্যাসাবিস

ডেমিস হ্যাসাবিসের এই নোবেল পুরস্কার অর্জন বিশ্ব বিজ্ঞান অঙ্গনে যেমন আলোড়ন তুলেছে, তেমনি দাবা অঙ্গনেও তা প্রচুর আগ্রহের জন্ম দিয়েছে। কারণ প্রথমবারের মতো কোনো দাবাড়ু প্রেস্টিজিয়াস নোবেল পুরস্কার গ্রহণ করতে যাচ্ছেন। দাবা বোর্ড থেকে বিজ্ঞান গবেষণার জগতে তার এই সাফল্য অনেকের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হতে পারে।

হ্যাসাবিস শুধুমাত্র দাবা বা এআই নিয়েই সীমাবদ্ধ থাকেননি, তিনি কম্পিউটার গেম ডিজাইনার হিসেবেও সফল হয়েছেন। ১৯৯৪ সালে জনপ্রিয় গেম 'থিম পার্ক'-এর সহ-নির্মাতা ছিলেন তিনি। এছাড়া তিনি ২০১০ সালে ডিপমাইন্ড প্রতিষ্ঠা করেন, যা গুগল ২০১৪ সালে কিনে নেয়। ডিপমাইন্ডের আলফাজিরো প্রোগ্রামটি ২০১৬ সালে চীনা বোর্ড গেম গো-তে শীর্ষ খেলোয়াড়কে পরাজিত করে বিশ্বে পরিচিতি লাভ করে। এরপরে ২০১৭ সালে এটি দাবার শীর্ষ প্রোগ্রাম স্টকফিশকে পরাজিত করে।

ডেমিস হ্যাসাবিসের এই সাফল্য এআই-এর ভবিষ্যৎ নিয়ে আমাদের সামনে অনেক বড় সম্ভাবনা নিয়ে এসেছে।