‘চাপে’ রুহুল আমিন অপেক্ষায় অনুসারীরা

১৫ সেপ্টেম্বর বেশ ঘটা করে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি পদে প্রার্থিতা ঘোষণা করেছিলেন তরফদার রুহুল আমিন। এই ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব ২০২০ সালেও চেয়েছিলেন সভাপতি পদে নির্বাচন করতে। প্রায় আড়াই বছর আগেই দিয়েছিলেন প্রার্থিতার ঘোষণা। তাতেই হয় সর্বনাশ। বাফুফের বর্তমান সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন এজেন্সি ও প্রভাবশালীর ক্ষমতা ব্যবহার করে নির্বাচনী মাঠ ছাড়তে তরফদারকে বাধ্য করেছিলেন। সেই দুঃখ থেকে ধীরে ধীরে নিজেকে ফুটবল থেকে গুটিয়ে নেন। তবে জুলাই অভ্যুত্থানের পর ফের ফুটবলের প্রতি ফেরে তার ভালোবাসা। কাজী সালাউদ্দিন নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার পরদিন ঘোষণা দেন সভাপতি পদে নির্বাচনের। তবে এই ঘোষণা ফের কাল হয়। শুরু হয় নানামুখী চাপ। তাই এবারও তার নির্বাচন ময়দানে থাকা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। দেশের বাইরে থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার দেশ রূপান্তরকে তরফদার জানিয়েছেন, নির্বাচন নিয়ে দোলাচলে থাকার কথা। পাশাপাশি এই ইচ্ছেপোষণে ফের নানাভাবে চাপে থাকার কথাও জানান। অথচ তাকে ঘিরে বাফুফে দখলের স্বপ্ন দেখা অনুসারীরা আছেন অপেক্ষায়।

বৃহস্পতিবার ছিল মনোনয়নপত্র বিতরণের দ্বিতীয় দিন। এই দুই দিনে ৩০টি মনোনয়নপত্র বিক্রি হয়েছে। তবে এ তালিকায় একজনও নেই তরফদারের অনুসারী। তরফদার জানালেন, তিনি এখন সিঙ্গাপুরে আছেন অসুস্থ স্ত্রীকে নিয়ে। জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে যাওয়া বলে সেখানে তার থাকতে হবে সপ্তাহ খানেক। মনোনয়নপত্র কেন নিচ্ছেন না, জানতে চাইলে তরফদার এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘কোন পদে নেব বলেন? সভাপতি, সিনিয়র সহসভাপতির পদ তো ইতিমধ্যে ফিলাপ হয়ে গেছে (হাসি)।’ সভাপতি পদে এর মধ্যেই মনোনয়নপত্র নিয়েছেন বাফুফের দুই মেয়াদের সাবেক সহসভাপতি, রাজনীতিক তাবিথ আউয়াল। যাকে এখন পর্যন্ত এই নির্বাচনে সবচেয়ে ফেভারিট প্রার্থী ধরা হচ্ছে রাজনৈতিক পালাবদলের কারণে। এ ছাড়া সিনিয়র সহসভাপতি পদের জন্য মনোনয়নপত্র নিয়েছেন বসুন্ধরা কিংসের সভাপতি ও বাফুফের সহসভাপতি ইমরুল হাসান। বাতাসে অনেক গুঞ্জনের মধ্যে নতুন করে যোগ হয়েছে তরফদার রুহুল আমিনকে দেখা যেতে পারে তাবিথের প্যানেলে সিনিয়র সহসভাপতি পদে। যদিও এর কোনো সত্যতা কোনো পর্যায় থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তরফদারও সরাসরি বলেননি নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার কথা, ‘এখনো তো দুদিন সময় হাতে আছে। এই দুদিনে একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলব। নির্বাচনে থাকছি না, সেটা এখনই বলা যাবে না। অনেকেই আমার দিকে তাকিয়ে আছে। নির্বাচন করলে কিন্তু জিতে যাব। তবে আমার ওপর অনেক চাপও আছে। আমাদের তো ভাই ব্যবসাপাতি করে বাঁচতে হবে। এখন সেখানেও যদি হাত পরে তাহলে এ দেশে কীভাবে টিকে থাকব। গত ১৫ বছরেও চাপে ছিলাম। এক নির্বাচন করতে গিয়ে তো পথে বসার জোগাড় হয়েছিল। এখন রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলালেও আমার ভাগ্য বদলায়নি। এখনো আমাকে অনেক চাপ সামলাতে হচ্ছে।’

এদিকে তরফদারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থেকে এখনো অনেকেই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেননি। জাতীয় দলের সাবেক তারকা রুম্মন বিন ওয়ালি সাব্বির এখনো আশায় আছেন তরফদারের নেতৃত্বে একটি প্যানেল নির্বাচনে অংশ নেবেন, ‘আমরা একটা প্যানেল গোছানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তবে কিছু কিছু জায়গায় সংশয় তৈরি হয়েছে। তরফদার সাহেবের একটা ব্যাপার আছে। আবার ২১ জন এক করাও একটা বিষয়। এখনো দুদিন আছে। আশা করছি আমরা একটা প্যানেল দাঁড় করাতে পারব।’ তবে এরপরই এই সাবেক তারকার কণ্ঠে ঝড়েছে নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে ক্ষোভ-হতাশা, ‘ফুটবলে খুব বাজে একটা সংস্কৃতি চালু হয়েছে। এখানে টাকা দিয়ে ভোট কিনতে হয়। আমার কথা হলো, ফুটবলে এমন কী আছে, যার জন্য ভোট-বাণিজ্য করতে হবে? দেশের প্রতিনিধিত্ব করার পরও যদি আমাদের ভোট কিনে বাফুফেতে যেতে হয়, সেটা ভীষণ অনাকাক্সিক্ষত। কাজী সালাউদ্দিন এ দেশের ফুটবলটাকে ধ্বংস করে দিয়েছেন। এখনো তিনি সক্রিয় অনুসারীদের ক্ষমতায় আনতে।’

চাপে থাকার কথা বলছেন, আবার অপেক্ষায়ও রাখছেন। নির্বাচন করলে জেতার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাস দেখাচ্ছেন। ২০২০-এর মতো এবারও প্রার্থিতা ঘোষণার ক্ষেত্রে অপরিপক্বতার পরিচয় দেওয়া তরফদার রুহুল আমিন আদৌ নির্বাচন করবেন কি না, তার কিছুটা পরিষ্কার হবে আগামী শনিবার।