হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজা এবং সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে টানা চার দিনের ছুটিতে যাত্রীর ভিড় বেড়েছে। পূজার ছুটিতে অনেকেই বাড়িতে যাওয়ায় ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহার করায় বেড়েছে যানবাহনের চাপ।
দক্ষিণবঙ্গের প্রবেশমুখখ্যাত এই সড়কে আজ শুক্রবার (১১ অক্টোবর) সকাল থেকে বাড়ি ফিরতে ব্যাপক ভিড় করেছেন যাত্রীরা। তবে পর্যাপ্ত গাড়ি না পেয়ে তাদের অনেককেই দীর্ঘ সময় স্টেশনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। গরম ও বৃষ্টিতে নাকাল হচ্ছে নারী ও শিশু যাত্রীরা। তবে এসবের মধ্যেও সড়ক শৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের দেখা মেলেনি।
এদিকে শত শত যাত্রীর চাপে পরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এগুলো তদারকির জন্য মহাসড়কে পর্যাপ্ত পুলিশ নেই। যাত্রীদের অভিযোগ একটু সুযোগ পেলেই পরিবহন মালিক শ্রমিকরা ভাড়া বৃদ্ধি করে।
শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত শিবচরের কুতুবপুর, পাঁচ্চর, বন্দরখোলা, সূর্যনগর বাসস্ট্যান্ড ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকে যাত্রীদের ভিড় ছিল। দুপুরের পর থেকে যাত্রীর চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। ফলে বাসস্ট্যান্ড থেকে গাড়িতে সিট না পেয়ে শত শত যাত্রী মহাসড়কের পাশে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিল।
অন্যদিনের তুলনায় যানবাহনের জটলা বেশি থাকায় থেমে থেমে চলছে গাড়ি। হিন্দুধর্মের মানুষের সঙ্গে ছুটি পেয়ে অন্যান্য ধর্মের মানুষও গ্রামে ছুটছে। অতিরিক্ত মানুষের চাপে পরিবহনে অন্য দিনের তুলনায় অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছে। বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে গ্রামে ফিরছে। তবে মহাসড়কের কোথাও পুলিশ না থাকায় পরিবহন শ্রমিকরা ভাড়া বেশি নেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ঢাকার গুলিস্তান থেকে মাদারীপুরের শিবচরগামী আনন্দ পরিবহনের যাত্রী কাজী মুরাদ বলেন, আমরা আগে ২০০ টাকা দিয়ে শিবচর থেকে গুলিস্তান আসতাম। আজ শিবচরের ভাড়া ৩০০ টাকা নিয়েছে। প্রশাসনের উচিত এদের ধরে আইনের আওতায় আনা।
পাঁচ্চর বাসস্ট্যান্ডে কথা হয় ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’ পরিবহনের যাত্রী আকলিমার সঙ্গে। তিনি জানান, ছুটিতে গ্রামের বাড়ি মাদারীপুর যাওয়ার জন্য বের হয়েছি। অনেক মানুষের ভিড়। ২০০ টাকার ভাড়া ৩৫০ করে নিলো। সিট পাওয়া যাচ্ছে না। বাসে দাঁড়িয়ে লোক নিচ্ছে, তাও ভাড়া বেশি নেওয়া হচ্ছে। এটি দেখার মতো কেউ নেই। রাস্তায় পুলিশও নেই।’
ইলিয়াস মোল্লা নামে আরও এক যাত্রী বলেন, ‘দীর্ঘক্ষণ যাত্রাবাড়িতে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছি। ঈদের ছুটির মতো মানুষ বাড়ির দিকে ছুটছে। হাজার হাজার যাত্রী। ২০০ টাকার ভাড়া ৩৫০ করে নিচ্ছে, তাও সিট পাওয়া যাচ্ছে না।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আনন্দ পরিবহনের এক চালক বলেন, এখন যাত্রীর অনেক চাপ। তাই ভাড়া একটু বেশি নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া অন্য সময় যাত্রী গাড়িতে তেমন হয় না। তখন সেতুর টোলই দিতে পারি না।
শিবচর হাইওয়ে থানার ওসি শাকিল আহম্মেদ বলেন, গতকাল থেকে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ অনেক বেড়েছে। বেশ কিছু জায়গায় পুলিশ আছে। অতিরিক্ত ভাড়া যেন না নিতে পারে, সেজন্য ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।