প্রতিভা না থাকলে দরজা দেখিয়ে দেওয়া উচিত: মিঠুন চক্রবর্তী

বলিউডে প্রায়শই স্বজনপ্রীতির অভিযোগ পাওয়া যায়। অনেকে বলিউডকে ‘ফ্যামিলি ইন্ডাস্ট্রি’ বলে মনে করেন। যেখানে তারকাখ্যাতি পাওয়া মা-বাবাদের অনেকেই ইন্ডাস্ট্রিতে জায়গা করে নিতে সন্তানকে বাড়তি সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করে দেন। তবে এ বিষয়ে অনেকটাই বিপরীত বর্ষীয়ান ও দাদাসাহেব ফালকে পুরষ্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী। তিনি মনে করেন, স্বজনপ্রীতি নয় প্রতিভা দিয়ে ইন্ডাস্ট্রিতে জায়গা করে নেওয়া উচিত। আর প্রতিভা না থাকলে দরজা দেখিয়ে দেওয়া হবে।

এনডিটিভির সঙ্গে একান্ত সাক্ষাত্কারে তিনি চলমান স্বজনপ্রীতি বিতর্ক নিয়ে মুখ খুলেছেন। বলিউডকে ‘ফ্যামিলি ইন্ডাস্ট্রি’ কিনা জানতে চাইলে অভিনেতা বলেন, ‘আমি এমনটি মনে করি না। আমার চার সন্তান রয়েছে, তারা সকলে চলচ্চিত্রে কাজ করছে। আজ পর্যন্ত আমি কোনো প্রযোজক বা কাউকে আমার সন্তানদের কাজ দিতে বলিনি।’

সাক্ষাৎকারে মিঠুন চক্রবর্তী তার দুই ছেলে নমশি ও মিমোর ক্যারিয়ার নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি জানান, নমশি রাজকুমার সন্তোষী পরিচালিত ‘ব্যাড বয়’ ছবিতে একটি চরিত্রের জন্য অডিশন দিয়েছিলেন। অপরদিকে তার অন্য ছেলে মিমোহ পরিচালক বিক্রম ভাটের অধীনে ‘হন্টেড’ ছবিতে কাজ করেছিলেন।

‘সিনেমা চলুক বা না চলুক, সেটা আলাদা বিষয়। তবে আমি আমার সমস্ত আবেগ দিয়ে আপনাকে বলতে পারি— আমি কখনোই আমার সন্তানদের পদোন্নতি দিইনি। আমি তাদের বলেছি, তোমাদের নিজের লড়াই নিজেদেরই লড়তে হবে,’ বলেন তিনি।

বর্ষীয়ান এ অভিনেতা বলেন, ‘যদি কারও বাবা অভিনেতা হন এবং ছেলেও অভিনেতা হয়ে উঠেন, তবে এটি কেবল একজন ব্যক্তিকে অভিনেতা করে তোলে না। ছেলেরও প্রতিভা থাকতে হবে, প্রতিভা না থাকলে দরজা দেখিয়ে দেওয়া হবে। প্রতিভা শাসন করবে।’

১৯৭৬ সালে প্রখ্যাত নির্মাতা মৃণাল সেনের ‘মৃগয়া’ দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন মিঠুন চক্রবর্তী। এই চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছিলেন। তিনি তিনটি জাতীয় পুরস্কার, চারটি ফিল্মফেয়ার পুরস্কার এবং ভারত সরকারের তৃতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পদ্মভূষণ জিতেছেন।