কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কায় এক যুবক নিহত হয়েছে। রোববার (১৩ অক্টোবর) রাত ১২ টার দিকে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। এ ঘটনায় আহত হয়ে আশংকাজনক অবস্থায় একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও এক তরুণ।
এর আগে রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে লাহিনী-সান্দিয়ারা সড়কে কুমারখালীর চাপড়া ইউনিয়নের ভাঁড়রা গড়াই ইটভাটার সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তির নাম রানা খান (২০) । তিনি খোকসা উপজেলার গোপকগ্রাম ইউনিয়নের গোপকগ্রাম গ্রামের কৃষক হাফিজুর রহমানের ছেলে। আহত তরুণ হৃদয় হোসেন (১৮) একই এলাকার আব্দুল কাদের ছেলে। তিনি আমলাবাড়ি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র।
কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মু. আহসানুল মিজান রুমী দেশ রূপান্তরকে বলেন, রোববার রাত ৮টা ৫৫ মিনিটের দিকে স্থানীয়রা আহত অবস্থায় রানা ও হৃদয়কে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তাদের অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিক কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। তার ভাষ্য মতে, আহত ব্যক্তিরা মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন।
এ বিষয়ে সোমবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে মুঠোফোনে কথা হয় নিহত রানার দাদী রাশিদা খাতুনের সঙ্গে। তিনি মদ্যপানের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, রানা কোনোদিনও মদপান করেনি। এই তথ্য সঠিক নয়। সম্প্রতি পড়াশোনা বন্ধ করে বিদেশে যাওয়ার জন্য পাসপোর্ট করেছিল। কিন্তু তার আর যাওয়া হলো না। রানা মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মারা গেছে।
হৃদয়ের বড় ভাই রিপন হোসেনও মদ্যপানের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে এ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। তার ভাই এখনও আশংকাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তার ভাষ্য, ওরা কোনোদিনও মদপান করেনি।
২৫০ শয্যা বিশিষ্ট কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের ডিডি মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় রানা নামে একজন নিহত হয়েছেন। মরদেহটি মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়ে আরও একজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।