আতঙ্কে দেশত্যাগ ইসরায়েলিদের, ৭ মাসে দেশ ছেড়েছে ৪০ হাজারের বেশি

গত বছরের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের সীমান্তবর্তী এলাকায় নজিরবিহীন হামলা চালায় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাস। এরপর থেকেই গাজায় যুদ্ধে জড়িয়ে পরে দুই ইসরায়েল এবং হামাস।

গাজায় ইসরায়েলি সরকারের গণহত্যা ও নির্বিচার হামলার প্রতিবাদে ইসরায়েলে ৮ অক্টোবর থেকে হামলা চালিয়ে আসছে লেবাননের সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহ। যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ইসরায়েলেও প্রতিনিয়ত হামলা চালাচ্ছে হামাস ও হিজবুল্লাহ।

ইসরায়েলে সম্প্রতি এসব সশস্ত্র সংগঠনের হামলা বেড়ে যাওয়ায় আতংকে পরে গেছেন দেশটির বাসিন্দারা। গত সাত মাসে ইসরায়েল ত্যাগ করেছেন ৪০ হাজার ৬০০ ইহুদি। মূলত দেশটির উত্তর ও দক্ষিণে দীর্ঘদিন ধরে চলা যুদ্ধের কারণে তারা দেশ ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন।

ইসরায়েলের সেন্ট্রাল ব্যুরো অব স্ট্যাটিসটিকস (সিবিএস) এই তথ্য জানিয়েছে। রোববার (১৩ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্ট এ তথ্য জানায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলের সেন্ট্রাল ব্যুরো অব স্ট্যাটিসটিকস (সিবিএস) এই তথ্য জানিয়েছে।

সিবিএস বলছে, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে ৪০ হাজারের বেশি ইসরায়েলি দেশ ছেড়েছেন। যা ২০২৩ সালে প্রতি মাসে দেশত্যাগী ইসরায়েলিদের গড় পরিমাণের তুলনায় ২২০০ জন বেশি। এছাড়া ‘দীর্ঘমেয়াদি অভিবাসীর’ সংখ্যা ২০২৩ সালের প্রথম সাত মাসে ৫৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থাৎ এসব ব্যক্তিরা আর নিজ দেশে ফিরতে চান না।  

সিবিএসের তথ্য বলছে, ইসরায়েল উল্লেখযোগ্য জনশক্তি হারাচ্ছে, যখন তাদের বেশির ভাগই কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করছে, পড়াশোনা করছে বা বিদেশে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছে। এসব বাসিন্দা দেশত্যাগের পাশাপাশি সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষা ও কর্মদক্ষতা। যা ইসরায়েলের জন্য দীর্ঘমেয়াদীর ক্ষতি বয়ে আনবে বলছেন বিশ্লেষকরা।

জেরুসালেম পোস্টের তথ্য বলছে, ২০২৩ সালে যত ইসরায়েলি দেশত্যাগ করেছেন তাদের মধ্যে ২৮ শতাংশ হাইফার, ১৫ শতাংশ দেশের দক্ষিণের বাসিন্দা এবং ৩৯ শতাংশ হলো তেল আবিবের বাসিন্দা।